ছুরি-চাপাতি শানাতে ঘুমহীন কামারশালা

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৭

ছুরি-চাপাতি শানাতে ঘুমহীন কামারশালা

কোরবানির ঈদ বলে কথা, পশুহাটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারশালায়। দিনে ও রাতে সমানতালে চলছে দা, বটি, ছুরি ও চাপাতিসহ বিভিন্ন অস্ত্রে শান দেয়ার কাজ। ঈদে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামাররা।

সরেজমিনে সোমবার রাজধানীর কারওয়ান, পুরান ঢাকার শাখারি বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কামারশালা থেকে ভেসে আসছে শো শো আওয়াজ।

কারওয়ান বাজারের প্রায় ৩০টির মতো কামারশালা রয়েছে। দা, বাটি, ছুরি, কাঁচি, চাপাতি থেকে শুরু করে সব মিলবে এখানে। প্রতিটি অস্ত্র কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাপাতি পাওয়া যাবে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায়। ছুরি ৫০ থেকে ১০০ টাকা, দা ২০০ থেকে ৫০০ ও জবাই ছুরি ২৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কামারশালায় অতি যত্ন সহকারে কাজ করছেন শ্রমিকরা। কোথাও যেন একটু হেরফের হাওয়ার সুয়োগ নেই। কারণ সামান্য হেরফের হলেই ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। শান পাথরের সঙ্গে দা’য়ের ঘর্ষণে জ্বলে উঠছে আলোর ঝলকানি।

তাপ লাগছে চোখে মুখে। তারপরও যেন একটু তর হওয়ার সময় নেই। কারণ ঘনিয়ে আসছে ঈদ।

এ কয়দিনের মধ্যেই শেষ করতে হবে হাতের কাজ। ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে বায়না দেওয়া ছুরি থেকে শুরু করে সব ধরনের অস্ত্র। এক যুগে বেশি সময় ধরে কারওয়ান বাজারে কামারশালায় কাজ করেন বজলু। বটিতে শান দিচ্ছিলেন তিনি।

বজলু যুগান্তরকে জানান, সারা বছরই কম বেশি ব্যস্ততা থাকে। তবে কোরবানির ঈদ আসলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কারণ এই ঈদে দা, বটি, ছুরির ব্যবহার বেশি।

কামারের কাজে ঝুঁকি বেশি, এ কাজ করেন কেন জানতে চাইলে বজলু বলেন, ‘ভালবেসে করি। ছোট বেলায় থেকেই এই কাজ শিখছি। বাপ-দাদারাও এই কাজ করতেন। অন্য কাজ জানিও না, তাই করি না।’

ব্যবসায়ী নজরুল জানান, এখন তাদের ব্যস্ততা বেশি। দিনরাত সব সময় কাজ চলছে। এখন শ্রমিকদের শিফটিং করে কাজ করাচ্ছেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ হওয়ায় বেচাবিক্রি বেড়েছে। এছাড়া ঈদের তিন দিন আগে থেকে উপচে পড়া ভিড় শুরু হবে। নিঃশ্বাস ফেলার সময় থাকবে না।’
বাজারে ছুরি কিনতে এসছেন এক ক্রেতা।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, গরু কেনা হয়েছে। কোরবানির প্রস্তুতির জন্য এখন ছুরি, চাপাতি কিনতে এসেছি।’

দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দাম খুব একটা বেশি মনে হচ্ছে না। সহনশীন পর্যায়ে রয়েছে।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ছাড়াও পুরান ঢাকার শাখারি বাজার, মালিবাগ রেলগেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। কামারশালায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামার শ্রমিকরা।

মালিবাগ রেলগেট কামারশালায় কাজ করেন জব্বার। তিনি যুগান্তরকে জানান, কোরবানির ঈদে দা, বটির চাহিদা বেশি। এখন বায়না নেয়া বন্ধ। শুধু যেগুলো ডেলিবারি দেয়া হবে তার কাজ চলছে। চাঁদ রাত পর্যন্ত ডেলিবারি দেয়া হয় বলেও জানান তিনি। বেলিরোড থেকে ছুরি কিনতে রেলগেট এসেছেন জোসনা।

তিনি জানান, কোরবানির ঈদে কামারদের বিকল্প নেই। নতুন ছুরি কিনবেন আর পুরাতন ছুরিতে শান দেবেন, তাই কামারদের কাছে আসতেই হবে।

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com