প্রচ্ছদ

মমতার পিছু ছাড়ছে না ‘তিস্তা বিতর্ক’

প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৩৬:৫২,অপরাহ্ন ২৪ এপ্রিল ২০১৭ | সংবাদটি ৬৮ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের পরেও পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ‘তিস্তা বিতর্কের’ জের সামলাতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফ কথা, তিস্তা নদীর পানিই বাংলাদেশকে দিতে হবে, অন্য নদীর কথা এখানে উঠতে পারে না। এই বক্তব্য তিনি মমতার পানি সরবরাহের বিষয়ে একটি নতুন প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সেদেশের ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও এখন বলছেন, তোর্সা নয়, তিস্তার পানিই চাই। এ ব্যাপারে যেহেতু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তার বিশ্বাস বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাবেই। তোর্সার পানি বাংলাদেশে আসে না, তাই ওই নদী থেকে সরবরাহের কথাও ওঠে না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বর্তমানে কয়েকদিনের জন্য উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলায় সফর করেছেন। প্রসঙ্গত, এরশাদের জন্ম ১৯৩০ সালে এই জেলাতেই!

মমতার প্রস্তাব ছিল, বাংলাদেশের পানি পাওয়া নিয়ে কথা। যেহেতু তিস্তা নদীতে গ্রীষ্মকালে পানির সঙ্কট, তাই ওই অঞ্চলের তোর্সা ও অন্য নদী থেকে বাংলাদেশে পানি সরবরাহ করা যেতে পারে। এই প্রস্তাব তিনি ঢাকা ও দিল্লিকে বর্তমান সমস্যা সমাধানের জন্য একটি সূত্র হিসেবে রাখেন।

এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মমতাকে প্রস্তাবটি লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠাতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল উত্তরবঙ্গে অনুসন্ধানের জন্য পাঠান। এই দলের সদস্যরা তিস্তা নদীর পানি ও গ্রীষ্মকালে নদীটির কী অবস্থা থাকে তা বিশেষভাবে পরীক্ষা করবে।

পরে এই দলের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিম বাংলা, কেন্দ্র এবং অন্য সরকারি আমলারা বৈঠকে বসবার কথা। তারপরেও তিস্তার পানি বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর তাই, বর্তমানে ভারতে এ ব্যাপারে সরকারি প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে বলা যেতে পারে।

মমতার দাবি, সিকিমে তিস্তা নদীতে বেশ কয়েকটি হাইড্রোইলেকট্রিক (পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন) প্রকল্প চালু করার পরেই পানির এই অভাব উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে দেখা যাচ্ছে। আগের সরবরাহের তুলনায় মাত্র ৪০ শতাংশ পানি পাওয়া যাচ্ছে, যা গ্রীষ্মকালে আরও কমে যায়। এ ছাড়াও পশ্চিম বাংলার গজলডোবায় এবং সিকিমে অন্তত একটি করে নতুন জলাধার তৈরি করা হয়েছে। এগুলি থেকে উত্তরবঙ্গে সেচের মাধ্যমে চাষিরা পানি পেয়ে থাকেন এবং বৃষ্টির সময় এগুলোর পানি ছেড়ে দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। তবে এর ফলে জেলাগুলিতে এবং বাংলাদশেও কিন্তু বন্যা হয়। মমতা বলেন, তিনি এই বিষয়ে বহুবার দিল্লির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশকে বুঝতে হবে, বিষয়টি মোটেই দুই বাংলার মধ্যে রেষারেষির কোনও ব্যাপার নয়।

হাসিনার উত্তর, প্রয়োজনে তোর্সা ও অন্য নদী থেকে পানি নিয়ে তিস্তায় ফেলা যেতে পারে, যাতে পানির সরবরাহ বাড়ে। তবে তিস্তা থেকেই পানি আসা চাই। এর একটা কারণ, তিস্তা নদীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভাটির দেশ হিসেবে পানির একটা অংশ আইনত পেতেই পারে, সেই দাবি ভারত তথা পশ্চিম বাংলাকে মানতেই হবে।

এখন এরশাদের এই সময় একই কথা বলার অর্থ, বাংলাদেশের যে দলমত নির্বিশেষে সবাই তিস্তার পানি পাওয়া ব্যাপারে একাত্মতা প্রকাশ করেছে, সেটা ভারত ও পশ্চিম বাংলাকে বোঝানো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতোই এরশাদও কিন্তু মমতার চেয়ে মোদির ওপরেই পানি সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে বেশি ভরসা করছেন। মোদিকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘তিনি (মোদি) বাংলাদেশ সফরের সময় বলেছিলেন, পানি, বায়ু ও পাখিদের জন্য কোনও দেশের সীমান্ত বলে কিছু হয় না। এরশাদের সরস টিপ্পনি, ‘কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, পানির জন্য সীমান্ত থাকতে পারে!’

এ পর্যন্ত মমতার নিজস্ব কোনও বক্তব্য বা ভারত সরকারের কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সন্দেহ নেই, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সেখানকার সাধারণ মানুষ যাদের মধ্যে কিছু লোক কলকাতায়ও আছেন, সবাই তিস্তার পানি পাওয়ার ব্যাপারে প্রবলভাবে আগ্রহী। রাজনৈতিক তরফে এ বিষয়ে মমতার চেয়েও প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে বক্তব্য সরাসরিভাবে রাখা হচ্ছে। উদ্দেশ্য, যাতে মমতার ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ে।

কলকাতার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মোদিকে হয়তো উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জন্য কোনও বিশেষ আর্থিক প্যাকেজে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। পশ্চিম বাংলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা না করে মোদির পক্ষে বাংলাদেশে তিস্তার পানি পাঠানোর প্রস্তাবে সম্মত হওয়া কঠিন হবে। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষিতে: ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের বেশি দেরি নেই এবং পশ্চিম বাংলায় মোদির দল বিজেপির শক্তি যখন দ্রুত বাড়ছে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com