প্রচ্ছদ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদে মুখোমুখি হচ্ছেন ম্যাক্রন ও লে পেন

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:২৫:৫২,অপরাহ্ন ২৪ এপ্রিল ২০১৭ | সংবাদটি ৫৮ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আগামী ৭ মে মুখোমুখি হবেন নির্দলীয় মধ্যপন্থী ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং উগ্র-ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টির মেরিন লে পেন। তবে প্রথম ধাপে বেশি ভোট পাওয়ায় ফেভারিট ভাবা হচ্ছে ম্যাক্রনকেই। ৭ মে’র দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে জয় পেলে তিনিই হবেন ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্ট।

রবিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচনের প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয়ী হন ইমানুয়েল ম্যাক্রন  ও মেরিন লে পেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে প্রথম দফার চূড়ান্ত ফলাফল জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ম্যাক্রন পেয়েছেন ২৩.৭৫ শতাংশ ভোট। লা পেইন পেয়েছেন ২১.৫৩ শতাংশ। পরাজিত প্রার্থী  ডানপন্থী রিপাবলিকান পার্টির নেতা ফ্রাঁসোয়া ফিলন পেয়েছেন ১৯.৯১ শতাংশ ভোট। অপর পরাজিত প্রার্থী কট্টর বামপন্থী জ্যঁ-লুক মেলেঁকন-এর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১৯.৬৪ শতাংশ।

ফ্রান্সের নির্বাচনি ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে যদি কোনও প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডের নির্বাচনে অংশ নেবেন শীর্ষ দুই প্রার্থী। এই নিয়মেই দ্বিতীয় ধাপে উত্তীর্ণ হয়েছেন ইমানুয়েল ম্যাক্রন ও মেরিন লে পেন।

প্রথম ধাপের নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় অভিনন্দন জানাতে ম্যাক্রনকে ডেকেছেন ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল শুভকামনা জানিয়েছেন তার প্রতি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও এসেছে প্রশংসা। ডানপন্থী রিপাবলিকান পার্টির নেতা ফ্রাঁসোয়া ফিলন নির্বাচনে আগেভাগে পরাজয় স্বীকার করে ম্যাক্রনকে ভোট দিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সাবেক ব্যাংকার ইমানুয়েল ম্যাক্রন গত বছর আগস্টে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজেই পৃথকভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে ৩৯ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ বলেন, ‘আপনারাই নতুনত্বের মুখ, ফরাসি আশার নতুন মুখ। ফ্রান্সের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় চালুর চ্যালেঞ্জ এসেছে। গত এক বছরে ফরাসি রাজনীতির অবয়ব বদলে ফেলেছি আমরা। এবারের ভোটে ফরাসিরা পরিবর্তনের ইচ্ছাই প্রকাশ করেছে। পরিবর্তন, সুরক্ষা ও মানুষকে সহযোগিতা করতে আমি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হবো।’

ইমানুয়েল ম্যাক্রন ব্যক্তিগতভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষাবলম্বী। তিনি নিজেকে ‘ডান’ বা ‘বাম’ বলতে অস্বীকার করেছেন।

দ্বিতীয় ধাপে উত্তীর্ণ মেরিন লে পেন ৬৯ লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টির গড়েছেন জন্য নতুন রেকর্ড। তাই আগেভাগেই ম্যাক্রনকে প্রেসিডেন্ট ধরে নেওয়াটা হবে বোকামি। নিজেকে জনগণের প্রার্থী উল্লেখ করে ৪৮ বছর বয়সী লে পেন বলেছেন, ‘এই ফলাফল ঐতিহাসিক। ফ্রান্সকে মুক্ত করার পথে প্রথম ধাপ উতরে গিয়েছি আমরা।’

তবে লে পেনকে হারাতে ঐতিহ্যবাহী বড় রাজনৈতিক দল সমাজতন্ত্রী, রক্ষণশীল ও রিপাবলিকান ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তারা নিজেদের সমর্থকদের প্রতি ইমানুয়েল ম্যাক্রনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ডানপন্থী রিপাবলিকান পার্টির নেতা ফ্রাঁসোয়া ফিলন ২০ শতাংশ এবং ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত কট্টর বামপন্থী জ্যঁ-লুক মেলেঁকন পেয়েছেন ১৯.৫০ শতাংশ ভোট। অন্য সাত প্রার্থীর মধ্যে ছিলেন সোশ্যালিস্ট পার্টির বেনয় হ্যামন, দুই ট্রটস্কিবাদী, তিন উগ্র-জাতীয়তাবাদী এবং এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে ভোটের ফল দেখে উগ্র-বামপন্থী বিক্ষোভকারীরা গাড়ি পুড়িয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তাদের অনেকে লাল পতাকা নিয়ে স্লোগান দেয়— ‘নো মেরিন এবং নো ম্যাক্রন’। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। খবর এপি’র। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ফ্রান্সজুড়ে ৬০ হাজার পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com