আরডিসি নাজিম উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশিত: ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২০

আরডিসি নাজিম উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে সাংবাদিক আটকের ঘটনায় আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার দুদিন পর তাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হলেও প্রায় পাঁচ মাস পর সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই ঘটনায় ডিসি সুলতানা পারভীন গতকাল রবিবার ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। পাঁচ মাস পর সাময়িক বরখাস্ত করার কারণ জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গতকাল বলেন, ‘তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে সে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেত না। তখন বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ত। আর এ সময়ের মধ্যেই আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান। তাকে কোথাও পদায়ন করা হলে তিনি আরও অনেক ঘটনা ঘটাতে পারেন। প্রশাসন তার কাজে আরও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে।

গত ১৩ মার্চ মধ্যরাতে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তাকে ধরে নিয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদণ্ড দেয়। তার বাড়িতে আধা বোতল মদ এবং গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এভাবে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে একজন সাংবাদিককে ধরে এনে সাজা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যমে এ ঘটনা ফলাও করে প্রচার হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় পরদিন ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। তার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।

ইতিমধ্যে তারা চারজনই কারণ দর্শানো নোটিসের জবাব দিয়েছেন। চলমান বিভাগীয় মামলায় গতকাল জনপ্রশাসন সচিবের দপ্তরে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিয়েছেন সুলতানা পারভীন। সেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি কারণ দর্শানো নোটিসের জবাবেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।

গত ২৫ জুন অভিযোগের জবাব দিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, মধ্যরাতে সাংবাদিক আটক ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। মোবাইল ফোনে আসা ‘মিসড’ কল নম্বরে পরের দিন সকালে ফোন ব্যাক করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিবের কাছ থেকে প্রথম ঘটনা শুনেছেন। সাজা দেওয়ার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্টের অভিযানকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তিনি কোনো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেননি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য তিনি কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা দেননি। এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। জেলা প্রশাসক নিজে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন না। প্রতি মাসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা থাকায় মাসের শুরুতে ডিসি অফিসে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কোর্ট পরিচালনার শিডিউল প্রস্তুত করে তাতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

ওই শিডিউলের বাইরে অন্য কোনো তারিখে কোর্ট পরিচালনা করতে হলে তা অবশ্যই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করতে হয়। ওইদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। অন্যদিকে নাজিম উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মধ্যরাতে সাংবাদিক আটকের সময় সেখানে উপস্থিত না থাকার দাবি করেছেন। যদিও তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার কারণ দর্শানো নোটিসের জবাবে। ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশ হয়েছে।

নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেননি। মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে ধরে নিয়ে যাননি বা তার সঙ্গে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত’ আচরণ করেননি। বৈরিতা না থাকায় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের কোনো কারণ ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর আগের তারিখ ব্যবহার করে প্রসিকিউশন পক্ষের স্বাক্ষর গ্রহণ করার অথবা ওই অভিযান পরিচালনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো দায়-দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করার আইনগত বা বিধিগত কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।

কক্সবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক নফু মাঝিকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনাটিকেও কারণ দর্শানো নোটিসে সংযুক্ত করা হয়। এ অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। এর আগে সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামও কারণ দর্শানো নোটিসের জবাব দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিয়েছেন।

আর্কাইভ

September 2020
S M T W T F S
« Aug    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com