মৌলভীবাজারে ঈদের পর শবজি’র চড়া দাম: ক্রেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০

মৌলভীবাজারে ঈদের পর শবজি’র চড়া দাম: ক্রেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈদুল আজহার আগে সবজির বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হলেও ঈদের পর পরই হঠাৎ চড়া হয় সব সবজির দাম। তবে করোনা মহামারির ঈদের পর সেই চিত্র এবার নেই। স্বাভাবিক সময়ের মতো বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা সবজি ক্রয়-বিক্রয় করছেন। অবশ্য চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবধরনের সবজি।

ক্রেতাদের অভিযোগ ব্যবসায়ীরা চলমান বন্যা ও করোনার অজুহাতে সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

সপ্তাহের ব্যবধানে এখনও চড়াই রয়েছে সবজির বাজার। সবজি ভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০টাকা বেড়েছে দাম।অধিকাংশ সবজির বাজার চড়া হলেও নিম্নমুখী শাকের দাম।

অন্যদিকে সবজির বাড়তি দাম নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় পাইকারী বাজারে মালের সংকট রয়েছে, এবং ঢাকা থেকে আসা সবজির ট্রাকে ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণে দাম বাড়তি। আর ক্রেতারা বলছেন, বন্যা কোনো ইস্যু না, প্রতি ঈদের পরেই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন।

রবিবার (০৯ই আগস্ট) মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিম বাজার, চৌমুহনা টিসি মার্কেট ও কোর্ট বাজার ঘুরে এ চিত্রই দেখা গেছে।

এসব বাজারে প্রতি কেজি ঝিঙা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, কাকরোল আকার ভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়, বরবটি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, দেশি শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, হাইব্রিড শসা ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়,কাঁচা মরিচ কেজি ২০০ থেকে ২৫০টাকায়,আলু ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিহালি লেবু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেড়ে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, ৪০থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে জালি কুমড়া,ধনিয়া পাতা ২৫০থেকে ৩০০টাকা কেজিতে।

তবে দাম কমেছে শাকের। দাম কমে এসব বাজারে প্রতি আঁটি লাল শাকের দাম চাওয়া হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা,কলমি শাক ১০ থেকে ১২ টাকা, লাউ ও কুমড়া শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁই শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

পশ্চিম বাজারের ব্যবসায়ী তজমুল হোসেন বলেন, ঈদের পর এবার বাজারের চিত্র অন্যবারের মতো না। এবার ঈদ করতে মৌলভীবাজার ছেড়ে অধিকাংশ চাকুরীজিবী,ব্যবসায়ীরা গ্রামের বাড়িতে তুলনামূলক মানুষ কম গেছে। তবে বন্যার কারণে ঢাকার আশপাশের জেলা ও উত্তরাঞ্চলের অনেক জায়গায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েগেছে। যে কারণে দাম একটু বেড়েছে।

জানতে চাইলে সবজি কিনতে আসা আকমল আলী বলেন,ভাতিজা কিতা কইতাম রে বাবা করুনা করুনা কইয়া বাজাররে মাথার উপরে তুলি দিছইন দোকানদার হকলতে, দিন দিন যেলাকান জিনিসর দাম বাড়ের আল্লায় যে কোনদিন করুনারে দুনিয়াত তাকি নিবা (ভাতিজা কি আর বলবো করোনা করোনা বলে ব্যবসায়ীরা সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন জানিনা কখন যে এ থেকে আল্লাহ রেহাই দিবেন)।

পশ্চিম বাজারের সবজির আড়ৎদার সেলিম উল্ল্যা বলেন, প্রতিদিন আমার দুই ট্রাক সবজি দরকার। কিন্তু এক ট্রাকও ঠিকমতো পাচ্ছি না। বন্যায় বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে হিরন মিয়া নামে টিসি মার্কেট বাজারের এক বিক্রেতা জানান, এখন সবজির সিজন না হওয়ায় সব কিছুর দাম বাড়তি। পাইকারি বাজারে বাড়তি দাম হলে আমাদের এখানে দাম বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি হলে দাম কমে আসবে বলে জানান তিনি।

আর্কাইভ

September 2020
S M T W T F S
« Aug    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com