সিলেটে নকল কে আসল বলে বিক্রি হচ্ছে করোনার হ্যান্ড স্যানিটাইজার

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

সিলেটে নকল কে আসল বলে বিক্রি হচ্ছে করোনার হ্যান্ড স্যানিটাইজার

★পেশা বদলে  সবাই এখন স্যানিটাইজার বিক্রেতা

মবরুর আহমদ সাজু,স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট :

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে চাহিদা বেড়েছে জীবাণুনাশক পণ্যের। আর এ চাহিদাকে পুঁজি করেই সিলেট নগরীতে বিক্রি হচ্ছে নকলহ্যান্ড স্যানিটাইজার ।

বিশেষ করে সিলেট মহানগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর নাকের ডগায়!
প্রসাধনী কিংবা সুগন্ধির দোকান থেকে শুরু করে ফার্মেসির দোকানে পাওয়া যাচ্ছে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এতে প্রতারিত হচ্ছেন নগরবাসী।

করোনা বাণিজ্যে শুধু সাধারণ নাগরিকই প্রতারনা বাভোক্তভোগী নয়।

এসব ভুক্তভোগী খোদ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলাম নিজে। তিনি এ প্রতিবেদক কে জানান, কয়েকদিন আগে তার বাসায় এসব নকল স্যানিটাইজার বিক্রি করতে গিয়েছিল ফলে এসব ব্যবসায়ীরা তার পরিচয় জেনে বিক্রি না করে চলে আসে!

তবে ডা.জাহিদ মনে করছেন নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরিতে কোন ধরনের নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে না। ফলে করোনায় আরো বেগবান হচ্ছে স্বাস্থ্যখাত।

শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, প্রতিটি মোড়ে মোড়েই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, ফেসশিল্ডসহ নানা ধরণের সুরক্ষা সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। তবে কেউ আসল হলেও অনেকে পেশা বদলে  সবাই এখন স্যানিটাইজার বিক্রেতা!

আবার এসব তাৎক্ষণিকভাবে আসল ও নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পার্থক্য বোঝার কোনও উপায় নেই। প্রতিষ্ঠানের নাম, ব্যবহৃত উপাদান সবই উল্লেখ রয়েছে এসব স্যানিটাইজারের মোড়কে। এছাড়া বোতল ও তরলের রঙ দেখেও এগুলোকে চট করে নকল বলে শনাক্ত করা যায় না।

অপরদিকে, প্রসাধনী কিংবা সুগন্ধির দোকান থেকে শুরু করে ফার্মেসির দোকানের মালিকরাই বাজার থেকে কেমিক্যাল কিনে এসব নকল হ্যান্ড সেনিটাইজার তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন নগরবাসী।

তবে কোথায় এসব কেমিক্যাল পাওয়া যায় জানতে চাইলে বিক্রেতারা সঠিক কোনো জায়গার নাম বলেনন না? তা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন?

সরেজমিন ঘুরে আরো দেখা যায়, সিলেট নগরীতে করোনাকালে পেশা বদলে টিকে থাকার লড়াইয়ে স্যানিটাইজার বিক্রেতার খাতায় নাম লিখেয়েছেন এসব ব্যবসায়ীরা। তবে কম দামে কেনা জিনিস বেশি দামে বিক্রি করতে অনেকে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।

সিসিক ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত কয়েকদিন আগে অভিযান পরিচালনা করলেও এখন নীরব থাকায় আবারো ফিরছে এসব ব্যবসায়ীরা।

এবিষয়ে সিসিকের প্রধান সাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেরাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্ততকারক বনে গেছেন।

এসব স্যানিটাইজার ল্যাবে পরীক্ষা করা না থাকার কারনে  শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। তিনি জানান শ্রীগ্রই এ ব্যাপারে মাইকিং করা হবে।  ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নকল স্যানিটাইজার বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে জালালাবাদ হোমিও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক ডা, নাজমুৃল হক জানিয়েছেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরীর পূর্বে ঔষধ প্রশাসন অধিপ্তর থেকে অনুমোদন নেয়া প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজর তৈরির জন্য একজন দক্ষ কেমিস্ট প্রয়োজন। যে কেউ যদি তা তৈরি করেন এবং তাতে যদি সঠিক মাত্রায় উপাদান না থাকে তাহলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই নগররীর বিভিন্ন স্থানেই এসব নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি বন্ধ করার আহবান জানান এ চিকিৎসক।

এ ব্যাপারে, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিসের জ্যোতির্ময় সরকার পিপিএম বলেন, এসব বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তথ্যপেলে আমরা কাজ করব।
নগরে আমাদের একটি ক্রাইমটি টিম এসব বিষয়ে কাজ করছে। সংকটকালিন মুহুর্তে যারা অসাধু ব্যবসায়ীরা জনগণের সাথে প্রতারনা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর্কাইভ

August 2020
S M T W T F S
« Jul    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com