লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা: খোঁজ নেই ভৈরবের ২ যুবকের

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা: খোঁজ নেই ভৈরবের ২ যুবকের

লিবিয়ায় অপহরণকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সরকারি তালিকায় ভৈরবের নিখোঁজ দুই যুবকের নাম নেই।

পরিবারের সদস্যরা এ দুজনের সন্ধান চান। গত দেড় মাস ধরে দুই যুবকের সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। তাদের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছেন স্বজনরা।

এ দুজন লিবিয়ায় বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন; তা বলতে পারছেন না তারা। নিখোঁজ দুজন হলেন- ভৈরব শহরের জগনাথপুর এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে বিজয় (২২) ও একই এলাকার আলী আকবরের ছেলে ইসার উদ্দিন (২৮)।

নিখোঁজ বিজয়ের বাবা আসাদ মিয়া বলেন, এলাকার দালাল জাফরকে চার লাখ টাকা দিয়ে ছয় মাস আগে আমার ছেলেকে লিবিয়া পাঠাই।

কথা ছিল লিবিয়া পৌঁছানোর পর দুই মাসের মধ্য ছেলেকে ইতালি পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু আমার ছেলে গত ১৫ মে লিবিয়া থেকে ফোন করে জানাল সেখানে মানবপাচারকারীরা একটি গুদামে আটক করে মুক্তিপণ বাবত ১০ লাখ ডলার দাবি করছে।

টাকার জন্য তারা তাকে অমানসিকভাবে নির্যাতন করছে। এতটাকা আমি দিতে পারব না জানালে ছেলে বলেছিল– তা হলে আমাকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

তার পর খবর পেলাম গত ২৬ মে বাংলাদেশের ২৬ জনকে মানবপাচারকারীরা গুলি করে হত্যা করেছে।

সরকারি তালিকায় ভৈরবের ৬ জন নিহত ও ৩ জন আহতের নাম থাকলেও আমার ছেলের নাম নেই। তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন- ছেলে কোথায় আছে? গত দেড় মাস ধরে আমি বিজয়ের কোনো খবর পাচ্ছি না।

ইসার উদ্দিনের স্ত্রী সুমাইয়া বেগম বুকে স্বামীর ছবি নিয়ে শুধু কাঁদছেন। সুমাইয়া বলেন, সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিয়ে স্বামীকে লিবিয়া পাঠালাম। সংসারের সুখ আনতে স্বপ্নের দেশ ইতালি যাবে বলে লিবিয়ায় যান তিনি।

গত ২৫ মে তার স্বামী শেষবারের মতো ফোন করে বলেছিল, মানবপাচারকারীরা তার কাছে ১২ হাজার ডলার দাবি করছে।

এত টাকা কোথা থেকে দেব? এ কথা জানালে ইসার উদ্দিন বলেছিল– তা হলে আমার জীবনের আশা তুমি ছেড়ে দাও। এ কথা বলে ফোন কেটে দেয়। তার পর থেকে স্বামীর আর কোনো খোঁজ নেই বলে সুমাইয়া জানান।

তিনি আরও বলেন, স্বামীর খোঁজ জানতে ভৈরবের ইউএনও এবং থানার ওসির কাছে যোগাযোগ করেছি। তারা তাদের খোঁজ এখন দিতে পারেননি। আমার স্বামী কোথায় আছে জানতে চাই।

ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ইউরোপের দেশ ইতালিতে যেতে তারা দুজন সাড়ে ৮ লাখ টাকা ভৈরবের দালাল জাফরকে দিয়েছিল। ঘটনার পর থেকে জাফরের মোবাইল বন্ধ পাচ্ছেন তারা।

ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন জানান, নিখোঁজ দুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি আমাকে অবগত করেছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানা জানান, সরকারিভাবে নিহত ও আহতদের তালিকায় দুজনের নাম নেই। দুজনের অভিভাবক আমাকে ঘটনা অবগত করেছেন।

তিনি বলেন, এমন হতে পারে দুজন এখন লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি। আবার সেখানে জেলেও বন্দি থাকতে পারেন।

তাই হয়তো তারা তাদের খোঁজ পাচ্ছেন না। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবগত করেছি।

দেখা যাক কী হয়। ইতালি যাওয়ার কথা বলে দালালরা তাদের কোথায় নিয়ে রেখেছে তা এখনও জানা যায়নি। সরকারিভাবে দুজনের কোনো সন্ধান পেলে তাদের জানানো হবে বলে তিনি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুলাই ২০২০
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুন    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com