করোনার উৎপত্তি নিয়ে বিতর্কের চেয়ে একে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরী: ডব্লিউএইচও

প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২০

করোনার উৎপত্তি নিয়ে বিতর্কের চেয়ে একে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরী: ডব্লিউএইচও

চীনের উহান প্রদেশের সি ফুড মার্কেট থেকে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে এমন অভিযোগ শুরু থেকেই উঠেছিল বিস্তর। এতদিন পর্যন্ত এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। কিন্তু শুক্রবার এই প্রথম ডব্লিউএইচও জানিয়ে দিল, করোনা সংক্রমণের নেপথ্যে উহানের ওই বাজারের বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসতে আরো তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

গতবছর নভেম্বরে চীনের উহান থেকে শুরু হয়েছিল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। জানুয়ারি মাসে উহানের বন্যপ্রাণীর মাংসের জন্য খ্যাত ওই বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় বেইজিং।

শুক্রবার ডব্লিউএইচও’র খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পিটার বেন এমবারেক বলেন, ‘সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে উহানের বাজারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কী হয়েছিল তা এখনো আমরা পরিষ্কার করে জানি না। হতে পারে সংক্রমণ কয়েকগুণ ছড়ানোর উপকরণ ওই বাজারে মজুত ছিল আবার এও হতে পারে এটা শুধুই কাকতালীয়।’

তাঁর কথায়, এটা এখনও স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না জীবজন্তুদের থেকেই ওই বাজারের দোকানদারদের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। উদাহরণ দিতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই কর্তা বলেন, ‘২০১২ সালে সৌদি আরবে মার্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। গবেষকদের প্রায় এক বছর সময় লেগেছিল উৎস খুঁজে পেতে। ঊটের শরীরই যে ভাইরাসের আধার তা বুঝতে সময় লেগেছিল ১৪ মাস।’

তিনি বলেন, আমাদের কাছে ভাইরাসটির যে সংস্করণ রয়েছে সেটা মানুষের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার আগে কোথায় ছিল সেটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ভাইরাসটির উৎস জানতে এটা সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে। কারণ তখন আমরা আরো ভালভাবে বুঝতে পারবো যে এটি কিভাবে মানুষের সাথে খাপ খায় এবং কিভাবে বিকশিত হয়েছিল।’

অনেকের বক্তব্য, বাদুড় বা ওই জাতীয় প্রাণীর শরীর থেকেই কভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এর বাইরে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ল্যাবরেটরিতে তৈরি করে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, উহানের ভাইরোলজি ল্যাবেই এই ভাইরাস তৈরি করা হয়েছে। দু’দিন আগে এবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও একই অভিযোগ করেন বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে।

যদিও এ ব্যাপারে এদিনও ডব্লিউএইচও’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ল্যাবেই যে ভাইরাস তৈরি হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

শুক্রবারই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, করোনার উৎস সন্ধানে ফের একটি টিম তারা চীনের উহান প্রদেশে পাঠাতে চায়। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ডব্লিউএইচও টিমকে সমস্ত সাহায্য করবে। তারাও চায় এই বিতর্কের একটা উপসংহার টানা হোক। এদিন ডব্লিউএইচও’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন দুটি জিনিস খুঁজে বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক, কোনও প্রাণীর শরীর থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে কিনা এবং দুই, ছড়ালে কিভাবে তা মানব শরীরে প্রবেশ করল।

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণে চীনের এই বাজারের যে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে তা পুরো দুনিয়ার লোক বললেও ডব্লিউএইচও এতদিন স্পষ্ট করে কিছুই বলেনি। পৃথিবীর একাধিক রাষ্ট্র ডব্লিউএইচও’র চীনের সুরে কথা বলাকে ভাল ভাবে নেয়নি। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটাকে কিছুতেই মেনে নেয়নি। এমনকি ডব্লিউএইচও’র অনুদানও বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আর্কাইভ

মে ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com