বড়লেখায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২০

বড়লেখায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিজ মিঞার বিরুদ্ধে বয়োজ্যেষ্ঠ এক প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার তারাদরম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে। লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জাফরি (৫৮)। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া ওই শিক্ষক বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তারাদরম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জাফরি বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের গভীর নলকূপ ও ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কাজ তদারকি করছিলেন। বেলা এগারোটা ৫৫ মিনিটের সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিজ মিঞা ওই স্কুল যান। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জাফরিকে চেয়ারে বসা দেখেই অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে বলেন। এসময় ওই শিক্ষক তাঁর ক্লাস নেই ও অসুস্থতার কথা জানান। অসুস্থতার বিষয়টি জানানোর পরও শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষকের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ওই প্রধান শিক্ষককে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন। লাঞ্ছিত হওয়া এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। এসময় ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক তাঁকে নিবৃত্ত করেন। এই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জাফরি। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ‘আতাউর রহমান জাফরি স্যার বয়স্ক মানুষ। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। বুধবার বিদ্যালয়ের ডিপটিউবওয়েল নির্মাণ কাজ তিনি তদারকি করছিলেন। এসময় টিও স্যার (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিজ মিঞা) বিদ্যালয়ে আসেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি হ্যাড টিচার জাফরি স্যারকে বাজে ভাষায় কিছু কথা বলেন। এসময় তাকে মারার জন্য তিনি উদ্যত হন। পরে আমরা টিও স্যারকে নিবৃত্ত করি।’

লাঞ্ছিত হওয়া প্রধান শিক্ষক ‘আতাউর রহমান জাফরি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। এ অবস্থায় স্কুলে যাই। ১১টা ৫৫ মিনিটে আমার ক্লাস ছিল না। স্কুলে নলকূপ ও ওয়াশ ব্লকের কাজ চলছিল। এগুলো দেখছিলাম। হঠাৎ স্যার এসে উত্তেজিত হয়ে কথা বলা শুরু করেন। আমার ক্লাস নেই ও অসুস্থতার কথা জানাই। তারপরও স্যার আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আমি অসুস্থ মানুষ। এই ঘটনায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সহকর্মীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।’

এই ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিজ মিঞা মুঠোফোনে বলেন, ‘ক্লাসের সময় তিনি ক্লাস না করিয়ে বাইরে ছিলেন। বাচ্চারা ক্যাম্পাসে খেলাধুলা করছিল। এনিয়ে কথা বলেছি। এটা আমার দায়িত্ব। কোনো লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেনি। এটা সাজানো হয়েছে।’

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মার্চ    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com