বিনা ফিতে নিবন্ধনে আগ্রহ নেই নগরবাসীর!

প্রকাশিত: ৩:০৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২০

বিনা ফিতে নিবন্ধনে আগ্রহ নেই নগরবাসীর!

অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট সিটি করপোরেশনে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার সুযোগ হয়নি এখনো। ফলে অনলাইনে আবেদন সংগ্রহ করে হাতে হাতে জমা দিতে হয়। এতে অনেকেই ঝামেলায় পড়েন। ঝামেলা এড়াতে কেউ কেউ সন্তানের জš§ নিবন্ধন করানো থেকে বিরত রয়েছেন। ফলে সিলেট সিটি করপোরেশনের অনেক শিশুই সরকারি হিসেবে অদৃশ্য রয়েছে।
২০১১ সাল থেকে সিলেট নগরীর ২৭ওয়ার্ডে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের টেন্ডার পাশ হওয়াতে আগে হাতে লিখা ৩ লক্ষ জন্মনিবন্ধনকারীকে অনলাইনে নিয়ে আসা হয়। নিয়ম অনুযায়ী শিশুর জন্মের ৪৫দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এতে কোনো ফি দিতে হয় না। জন্মের ৪৫ দিন পর থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে নিবন্ধন করতে ২৫ টাকা লাগে। এছাড়া পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলে নিবন্ধন করতে ফি দিতে হবে ৫০ টাকা। সেই সঙ্গে নিবন্ধনে জন্ম তারিখ সংশোধন করতে চাইলে আবেদন ফি ১০০ টাকা লাগে। তবে জন্মতারিখ ছাড়া নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা সংশোধন করতে ফি ৫০ টাকা।
এত সহজ সুযোগ হাতের মুঠোয় পেয়েও বিনা ফিতে নিবন্ধনে আগ্রহ নেই নগরবাসীর। অভিভাবকদের অবহেলার কারণে জন্ম নিবন্ধন করা হচ্ছে না। পাশাপাশি জন্ম নিবন্ধনে উৎসাহী করার জন্য পর্যাপ্ত প্রচারণা ও সচেতনতার অভাবও রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ২৭টি ওয়ার্ডে এ পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭৬৪ জন। বাইরের জেলা থেকে আসা মানুষ জন্মনিবন্ধন করেছেন বেশি।
আন্তর্জাতিক মানবধিকার সংস্থা আইন ও সহায়তা কেন্দ্র আসকের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক রাকিব আল মাহমুদ বলেন, ডিজিটাল নগরীতে সিসিকের অনলাইন জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম বেশ জরুরী। কারণ জন্ম নিবন্ধন শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে পারে। জন্ম নথির বদৌলতে বাল্য বিয়ে, পাচার ও শিশু শ্রম থেকে বাচ্চাদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। ইউনিসেফ শিশু অধিকার রক্ষায় এ সনদের ব্যবহার বাড়াতে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়কেও সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, জন্ম সনদের পরিধি ও ব্যবহার আরও বাড়ালে অভিবাসনের সময় শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।
২০১১ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এ বিষয়ে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। এ কার্যক্রম শুরুর ফলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম সহজতর হয়েছে।’
তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবজাতক শিশুদের পিতা-মাতারাই সব থেকে বেশি অনাগ্রহ দেখাচ্ছে জন্ম নিবন্ধনে। কারণ শিশুর ভর্তির স্কুলের সময় বয়সের সাথে সামঞ্জস্যের একটি বিষয় রয়েছে। যার ফলে তারা বিলম্বে শিশুর জন্ম নিবন্ধন করছেন। এবিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফাইজা রাফা বলেন, ‘একজন ব্যক্তির পরিচয় জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে ফুটে উঠে। তাই যে কোনো ব্যক্তির জীবনে জন্ম নিবন্ধন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতিসংঘ শিশু সনদ অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর জন্মের পর পরই তার জন্ম নিবন্ধন একটি মৌলিক বিষয়। তিনি জানান ডিজিটাল নগরীতে সিসিকের অনলাইন জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম না হওয়াতে তিনি হতাশ।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেমনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, কিন্তু এখনও অনেক শিশু ফাঁক-ফোকর দিয়ে বাদ পড়ে যাচ্ছে। যারা গণনার বাইরে এবং অনিবন্ধিত থেকে যাচ্ছে। জন্মের সময় একটি শিশুকে নিবন্ধনভুক্ত করা না হলে সে সরকার বা আইনের দৃষ্টিতে অদৃশ্য বা অস্বিত্বহীন থেকে যায়। পরিচয়ের প্রমাণ না থাকা শিশুরা অনেক ক্ষেত্রেই পড়াশোনা, স্বাস্থ্য সেবা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা থেকে বাদ পড়ে এবং শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অধিক ঝুঁকিতে থাকে।’

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মার্চ    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com