ফাগুন ভালোবাসায় মানুষের ঢল সিলেট বইমেলায়

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

ফাগুন ভালোবাসায় মানুষের ঢল সিলেট বইমেলায়

স্টাফ রিপোর্ট:
ফুল ফুটছে খোঁপায় খোঁপায়। রঙ ছড়াচ্ছে শাড়ির আঁচল আর পাঞ্জাবিতে। সেই রঙে রঙিন ছিল সিলেট বইমেলা। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে লাল পোশাকের আধিক্য যেখানে। সেখানে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে পুরো বইমেলার জুড়েই এমন চিত্র ছিল বেশ লক্ষণীয়। প্রতিদিন মেলা ৩ টার পর থেকে প্রধান গেইট খোলে দেওয়া হলেও। গতকাল সিলেটের তরুণ তরুণীরা সময় হবার আগেই হাজির হয়েছিলেন সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
কারো হাতে লাল গোলাপ, গায়ে লাল শাড়ি বা লাল জামা। তরুণরা পড়েছেন লাল পাঞ্জাবি বা ফতুয়া। লাল শাড়ি বা জামার সঙ্গে তরুণীদের কপালে লাল টিপ। শুধু তরুণ-তরুণীরা নন, আজ লাল পোশাকে মেলায় আসতে ভুল করেননি বৃদ্ধা-শিশুরাও। আবার কারো কারো পোশাকে ছিল হলুদের ছোঁয়াও। ফাগুনের আগুন এখনও জিইয়ে রেখেছেন তারা। এক কথায় প্রথম আলো বইমেলার ১৪তম দিনে মেলার সর্বত্রই রঙের ছড়াছড়ি। ভালোবাসার রঙে রঙিন হয়েছে বইমেলা। গতকাল বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি। দল বেঁধে, জুটিবদ্ধ হয়ে বইমেলায় প্রবেশ করছেন তরুণ-তরুণী থেকে শিশু ও বয়ষ্করা। টার্গেট করে ঘুরছেন বইয়ের স্টলে স্টলে। পছন্দের বই কিনছেন, কিনে দিচ্ছেন। ভালোবাসা দিবস বলে অন্য দিনের চেয়ে একে অন্যকে বই কিনে দেয়ার হার আজ একটু বেশিই। ফলে বেচাবিক্রিও হচ্ছে ভালো। স্টলের বিক্রয়কর্মীরাও জানান, মেলায় আজকে বই বিক্রিতে তারা সন্তুষ্ট। আশা করছেন, এ ধারা কাল অর্থ্যাৎ বজায় থাকবে। বই বিক্রির পরিমাণও বাড়বে। কথ প্রকাশনীর সামনে কথা হয় মইনুল-দীপীতা নামের এক কাপলের সঙ্গে। জানান, তারা এমসি কলেজের শিক্ষার্থী। ভালোবাসা দিবসে বইমেলা থেকে মইনুলকে একটি বই কিনে দিয়েছেন দীপীতা। মইনুলও দীপীতার জন্য পছন্দের বই খুঁজছেন। মইনুল বলেন, আজকের দিনটি তো আমাদের জন্য স্পেশাল। রিলেশনশীপের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভালোবাসা দিবস উদযাপন করছি। ভালো লাগছে। বইমেলায় আসছি, একে অন্যকে বই উপহার দেব। মেলায় এসেছেন ১০নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুদ রানা। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, মেলায় এসে ভালো লাগছে। ঘুরেছি আর দেখছি। কেউ তার ভাই, বাবা মায়ের সাথে সন্তান আর বন্ধুর সাথে বন্ধু এসেছে মেলায়। সব মিলিয়ে মেলায় ভালোবাসা দিবসের আবহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের বইমেলায় প্রথম এসেছিলেন মাকসুদা আক্তার। তিনি বলেন, মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এখানে সুন্দর পরিবেশে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পছন্দের বই কিনতে স্টলে স্টলে ঘুরছি। প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য বই কিনবেন তিনি।
মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে সুমন ইসলাম তার বন্ধুদের নিয়ে এসছেন সুমন ও তার বন্ধুরা বলেন, বলেন, বসন্ত বরণ উপলক্ষে মেলায় এসেছি। এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে। জসিম বুক হাউসের জসিম উদ্দিন বলেন, আজ বইপ্রেমীদের সমাগম অনেক বেশী। মেলা জমজমাট রয়েছে। দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। বই বিক্রি হচ্ছে ভালোই। তবে আজ শেষের দিকে আরো ভালো বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
বইমেলায় এসেছেন সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমাতুজ জোহুরা জেবিন রুবা বলেন,প্রথম আলোকে ধন্যবাদ কারন এ বছর তারা জাতির জনককে ডিটেকেট করছে বইমেলা। আমি বইমেলায় এসে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই কিনেছি। আমি বঙ্গবন্ধুর বই কিনে বিভিন œশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরন করি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কে জানতে হলে তাঁর বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগাওে রোজনামচা বইয়ে বিকল্প নেই।
তিনি বলেন,বঙ্গবন্ধুর জীবন ইতিহাস পর্যালোচনা করতে হলে তাঁর জেল জীবনের প্রেক্ষাপট ও অভিজ্ঞতাও আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে। বারবার কারাবরণ ও আপোসহীন সংগ্রামের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের উত্তরণ ঘটে এবং তিনি গণমানুষের আশা-ভরসার প্রতীকে পরিণত হন। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের পটভূমিতে রচিত দিব্যদ্যুতি সরকার-এর বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন গ্রন্থটিতে জাতির পিতার জীবন ও ভাবনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চৌহাট্টাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মেলা চলবে। এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত। বইমেলায় এবারও সিলটিভি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে নতুন বইয়ের খবর নিয়ে লাইভ দিবে। এছাড়াও প্রতিদিন মেলায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্য আড্ডা, আলোচনা সভা, শিশুদের আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, ফটোগ্রাফি ও সেল্ফি প্রতিযোগিতা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।মেলায় ঢাকা ও সিলেটের ২৪টি প্রকাশনা ও বই বিপনন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থা এবং বইয়ের বিপণনপ্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- প্রথমা, কথা প্রকাশ, উৎস প্রকাশন, অন্বেষা প্রকাশন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন,আদর্শ, বাবুই, চৈতন্য, নাগরী, বাসিয়া প্রকাশনী, শ্রীহট্ট প্রকাশ, ঘাস প্রকাশন, পা-লিপি প্রকাশন, পাপড়ি, এক রঙা এক ঘুড়ি, স্বরে ‘অ’, আহরার পাবলিশার্স, জসিম বুক হাউস, সাহিত্য রস প্রকাশনা, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স, শাকিল বুক সেন্টার, সিলেট বুক সেন্টার, মারুফ লাইব্রেরি ও নাজমা বুক ডিপো। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবছর সিলেট বইমেলা উৎসর্গ করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
প্রসঙ্গত সবমিলিয়ে ফাগুনের ভালোবাসার পরশ লেগেছিল সিলেট বইমেলায়। মাতৃভাষার ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার টানে একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণে ছুটে এসেছিলেন দর্শনার্থী ও বইপ্রেমিরা। গতকাল ভালোবাসা দিবসের আবহ লক্ষ্য করা যায় প্রাণের মেলায়। এদিন দুপুরের পর থেকে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের নগরীর সিলেট কেন্দ্রিয় প্রাঙ্গণে পক্ষকালব্যাপী বইমেলায় আসতে শুরু করে। বিকেল গড়াতে ভীড় বেড়ে যায়। ছোট থেকে বড় সব বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয় বইমেলা প্রাঙ্গণ। আর সন্ধ্যায় তা জনস্রোতে পরিণত হয়। প্রিয় মানুষদের সেরা বইটি উপহার দিতে বইপ্রেমীদের ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো। ফাগুনের শুরুতে আর ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনের হৃদয়ে প্রেমের ঢেউ তুলতে মেলায় ভীড় জমান তরুণ-তরুণীরা। কিনেন হুমায়ূন আহমেদ, আনিসুল হক, মুহাম্মদ জাফর ইকবালসহ আরও অনেকের বই। মেলায় বিক্রি বেড়েছে প্রেমের কবিতা ও উপন্যাসের। বই কিনতে তরুণ-তরুণীদের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com