থাইল্যান্ডে ফেসবুক লাইভে সেনাকর্মকর্তার এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১২

প্রকাশিত: ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০

থাইল্যান্ডে ফেসবুক লাইভে সেনাকর্মকর্তার এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ১২

থাইল্যান্ডের কোরাট শহরে এক সেনাকর্মকর্তার এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে ওই ঘাতক সেনা ক্যাম্পে তার কমান্ডারের দিকে গুলি করেন। পরে আরও দুই সহকর্মীর ওপর গুলি চালান তিনি। পরে তিনি মুনাং জেলার একটি শপিং মলে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালান।

সেনাবাহিনীর সেকেন্ড কমান্ডার লে. জেনারেল থানাইয়া ক্রিয়াটিসার্নের বরাত দিয়ে ব্যাংকক পোস্ট এ তথ্য জানায়। খবরে বলা হয়, নিহত কমান্ডারের পরিচয় কর্নেল আনান্থারট ক্র্যাসায়।

এসময় তিনি নিজের মোবাইলে সেলফি মুডে ফেসবুক লাইভ দিচ্ছিলেন। তবে এ লাইভের কিছুক্ষণ পরই তার মোবাইলে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত কতজন আহত হয়েছেন তার হিসেব পাওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডের পুলিশের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ওই বন্দুকধারী একটি মেশিনগান ব্যবহার করে নির্দোষ ব্যক্তিদের হতাহত করেন। ওই এলাকাটি এখন পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, অভিযুক্ত ঘাতককে খুঁজে বের করতে পুরো শপিং সেন্টারটি চারিদিক থেকে কর্তৃপক্ষ ঘেরাও করে রেখেছে। ওই এলাকার আশেপাশের মানুষকে পুলিশ সতর্ক করে বলেছে যেন তারা ঘরের ভেতরে থাকে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসি থাইকে জানিয়েছেন, জাকরাফান্থ থোম্মা নামে সামরিক বাহিনীর ওই জুনিয়র অফিসার প্রথমে তার কমান্ডিং অফিসারের ওপর হামলা চালিয়ে সামরিক ক্যাম্প থেকে বন্দুক ও বিস্ফোরক চুরি করে। এরপর ওই ব্যক্তি কোরাট শহরের একটি বৌদ্ধ মন্দির এবং একটি শপিং সেন্টারে এলোপাথাড়ি গুলি চালান।

স্থানীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি জিপের মতো একটি গাড়ি থেকে মুয়াং জেলার টার্মিনাল ২১ শপিং সেন্টারের সামনে নামছেন এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালাচ্ছেন। এ সময় আশেপাশের লোকজন প্রাণ বাঁচাতে পালাতে থাকে।

অন্য আরেকটি ফুটেজে দেখা গেছে ভবনের বাইরে আগুন জ্বলছে। গোলাগুলির কারণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এই আগুন ধরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্ট জানিয়েছে যে, ৩২ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজন ভবনের ভিতরে জিম্মি হয়ে আছেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভবনের ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

হামলার সময় সন্দেহভাজন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলিতে পোস্ট দিতে থাকেন। এরমধ্যে ফেসবুকের একটি পোস্টে তিনি জানতে চান যে তার আত্মসমর্পণ করা উচিত হবে কিনা।

তিনি এর আগে তিনটি বুলেটসহ একটি পিস্তলের ছবি পোস্ট করেন, এবং ওই ছবির ওপরে লেখেন: ‘এটি উত্তেজিত হওয়ার সময়।’ এবং ‘কেউ মৃত্যুকে এড়াতে পারবে না।’

বর্তমানের তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি বন্ধ রয়েছে।

ওই সন্দেহভাজনের হামলা চালানোর উদ্দেশ্য এখনও পরিস্কার নয়।

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com