সুনামগঞ্জ শহরে অবাধে ট্রাক চলাচল, ছিঁড়ছে বৈদ্যুতিক তার

প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

সুনামগঞ্জ শহরে অবাধে ট্রাক চলাচল, ছিঁড়ছে বৈদ্যুতিক তার

সুনামগঞ্জ পৌর শহরে রাতে ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তার পাশের বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাচ্ছে। গেল কয়েকদিন ধরে রাত ৮ টার পর থেকে বড় বড় ট্রাক বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পৌর শহরের এলাকাগুলোতে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক তার গুলো ছিঁড়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কার্যকারী উদ্যোগ না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। এটি একার পৌরসভার কাজ না বলে জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। রাতে ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন পৌর মেয়র।

জানা যায়, গেল কয়েকদিন ধরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ঘোলঘর, ধোপাখালি, নবীনগর, আলীপাড়া, কাজির পয়েন্ট, মোহাম্মদপুর এলাকায় রাতে বড় বড় ট্রাক প্রবেশ করে সড়কের পাশাপাশি ক্ষতি করছে বৈদ্যুতিক তারের। রাতে ট্রাকে করে বিভিন্ন স-মিলের বড় গাছ বা আসবাবপত্র নিয়ে চলাচলের সময় ছিঁড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক তার। তাছাড়া বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানির বড় বড় ট্রাক নবীনগর এলাকা হয়ে হালুয়ার ঘাট এলাকায় গিয়ে মালামাল নামায়। ট্রাকের উচ্চতা বেশি থাকার কারণে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক তারের সাথে লেগে যায়। এতে তারগুলো ছিঁড়ে রাস্তার পাশে ঝুলে থাক।

সরজমিনে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, তার ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে আছে। যার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা বা প্রানহানীর ঘটার শঙ্কায় আছেন এলাকাবাসী।

পৌর শহরের বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা হলে জানা যায়, সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত সাবেক মেয়র আয়ূব বখত জগলুল থাকাকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় ট্রাক বা ভারি যানবাহন প্রবেশে না করতে পারে সেজন্য কয়েকটি গেট করে দিয়েছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ট্রাকের চালক ও কর্মচারীরা তা ভেঙে দিয়ে প্রতিনিয়ত ট্রাক প্রবেশ শুরু করে। পরবর্তীতে প্রয়াত মেয়র আয়ূব বখত জগলুলের ছোট ভাই নাদের বখত মেয়র হলেও এ ব্যাপারে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পৌরশহরের আলীপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাহিন হক বলেন, রাতের আধারে আমাদের এলাকায় ট্রাক প্রবেশ করে কারেন্টের সব তার ছিঁড়ে দিচ্ছে। ট্রাকগুলো বড় গাছ নিয়ে বিভিন্ন মিলে যাওয়ার সময় আমাদের এলাকা প্রবেশ করে। পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত নাগরিকের সমস্যাগুলো দেখার।

ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান তারেক বলেন, প্রয়াত মেয়র আয়ূব বখত জগলুল বড় ট্রাকগুলো যেনো শহরে প্রবেশ না করতে পারে সেজন্য কয়েকটি লোহার গেট দিয়েছিলেন যা বর্তমানে আর নেই। এগুলো না থাকায় রাতে বড় ভারি ট্রাকগুলো পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডুকে বৈদ্যুতিক তার গুলো ছিঁড়ে যাচ্ছে। তাই রাস্তায় তারগুলো ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে যার কারণে বড় ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদকর্মী দিলাল আহমদ বলেন, প্রয়াত মেয়র আয়ূব বখত জগলুল বড় বড় ট্রাকগুলো মালামাল নামনো স্থান ওয়েজখালী করেন এবং পরবর্তীতে ছোট ট্রাকের মাধ্যমে সেগুলো শহরের প্রবেশ করানো হতো। কিন্তু বর্তমানে এসব কোন নিয়মই কেউ মানছেন না। যার কারণে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ট্রাক প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে ফেলে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে একটু নজর দিতে হবে। না হয় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, বড় ভাই প্রয়াত মেয়র আয়ূব বখত জগলুল ট্রাকগুলো শহরে প্রবেশ না করার জন্য যে গেটগুলো দিয়েছেন এইগুলো সাধারণ মানুষই খুলে দিয়েছে। কারণ এইগুলো মানুষের উপর পরে যায়। তাছাড়া দিনের বেলা ওয়েজখালী এলাকায় বড় ট্রাকগুলোকে শহরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলেও রাতে বেলা দেওয়া হচ্ছে না। কিন্ত রাতে ট্রাকগুলো প্রবেশে বাধা দেওয়ার কথা ট্রাফিক পুলিশের। পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন যদি আমাকে সহায়তা না করেন তাহলে আমি সকল পৌরবাসীকে নিয়ে আন্দোলন করব।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা পৌরসভাকে শতভাগ সহায়তা করবো। ট্রাকগুলো প্রবেশের সময় রাত ১২ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত একটি সময় বেধে দেওয়া হয়েছিলো। তবুও আমাদের পুলিশের টহল সারারাত অব্যাহত থাকে। আমরা নাগরিক সেবায় যেকোনো সেবা দিতে প্রস্তুত।

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মার্চ    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com