থানা হাজতে আসামির মৃত্যু নিয়ে যা বললেন ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

থানা হাজতে আসামির মৃত্যু নিয়ে যা বললেন ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, গ্রেফতার আসামি থানা হেফাজতে আত্মহত্যা করলে পুলিশ কখনই এর দায় এড়াতে পারে না।

রোববার কারা হেফাজতে বিএফডিসি কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুর মৃত্যুর প্রসঙ্গে এ কথা বলেন ডিএমপি) কমিশনার।

তিনি বলেন, এফডিসির ওই কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি আমি। ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজ সোমবার ধানমণ্ডিতে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

এ সময় থানা হাজতে এফডিসি কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ষণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেফতার হন বিএফডিসির ফ্লোর ইনচার্জ বাবু।

রোববার ভোর ৪টার দিকে থানা হেফাজত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গলায় চাদর পেঁচিয়ে বাবু আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আলী হোসেন খান বলেছেন, বাবু যে আত্মহত্যা করেছেন তা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে তা ঠিক নয়।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, নিহতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে হাজতখানায় রাখা হলে তিনি হাজতের গ্রিলের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুতে পুলিশ দায়ী অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে এফডিসি।

সোমবার এ নিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এফডিসি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া বলেন, আমরা আমাদের সহকর্মীর রহস্যময় মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। সেই দাবিতেই আমরা সবাই এক হয়েছি।

এফডিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার জানা মতে বাবু ভালো মানুষ ছিল। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনটি আমরা খতিয়ে দেখছি। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাবুর সহকর্মী ক্যামেরাম্যান জিএম সাঈদ বলেন, শনিবার বিকালে আমরা একসঙ্গে চা খেয়েছি। পরে শুনেছি তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। থানায় সে কীভাবে আত্মহত্যা করে? এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মৃত্যুর জন্য পুলিশই দায়ী। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে এখনই উত্তেজিত না হয়ে মৃত বাবুর ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে সহকর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছেন এফডিসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুর মৃত্যুর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে এলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব আমরা। এর আগে এ নিয়ে হট্টগোল করলে কোনো সমাধান আসবে না। আপাতত সবাইকে মৃতের পরিবারকে এই শোক কাটিয়ে উঠতে তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানাই।

প্রসঙ্গত কারওয়ানবাজারের এক মাছ ও আড়তদারের স্ত্রীর সঙ্গে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাবুর পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি ওই নারী এ সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু বাবু তাকে ছাড়তে চাইছিলেন না।

এ জন্য ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করেন তিনি। পরে ওই নারী এ নিয়ে মামলা করেন, স্বামীর সহায়তায় বাবুকে পুলিশে ধরিয়ে দেন।

বাবু এফডিসির ফ্লোর অ্যান্ড সেট ইনচার্জ ছিলেন। বাবার নাম নুরুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে।

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com