থানা হাজতে আসামির মৃত্যু, এফডিসিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

থানা হাজতে আসামির মৃত্যু, এফডিসিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার হাজতখানায় এক এফডিসি কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুতে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে।

তার মৃত্যুতে পুলিশ দায়ী দাবি করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদসভা করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

এমন পরিস্থিতিতে এফডিসিতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশি পাহারা বাড়ানো হয়েছে।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় এফডিসির মূল ফটকের সামনে এই প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়।

রহস্যজনক মৃত্যু হওয়া ওই আসামির নাম আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু (৪৫)।

তিনি বিএফডিসির ফ্লোর ইনচার্জ ছিলেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ষণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেফতার হন বাবু।

রোববার ভোর ৪টার দিকে থানা হেফাজত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

গলায় চাদর পেঁচিয়ে বাবু আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানালেও নিহতের স্বজনদের দাবি, তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।

সেই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এফডিসির কর্মকর্তারা বাবুর মৃত্যুর সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

সোমবার ওই প্রতিবাদ সমাবেশে এফডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া বলেন, আমরা আমাদের সহকর্মীর রহস্যময় মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। সেই দাবিতেই আমরা সবাই এক হয়েছি।

প্রতিবাদসভা শেষে এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবের প্রজেকশন হলে আরও একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বাবুর মৃত্যু নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন এফডিসির কর্মকর্তারা।

পুলিশি হেফাজতে একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে মৃত্যু হয় সে প্রশ্ন তুলে বিচার চাওয়া হয়।

এফডিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার জানা মতে বাবু ভালো মানুষ ছিল। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনটি আমরা খতিয়ে দেখছি। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাবুর সহকর্মী ক্যামেরাম্যান জিএম সাঈদ বলেন, শনিবার বিকালে আমরা একসঙ্গে চা খেয়েছি। পরে শুনেছি তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। থানায় সে কীভাবে আত্মহত্যা করে? এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মৃত্যুর জন্য পুলিশই দায়ী। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ সময় সেখানে উপস্থিত এফডিসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন সবাইকে শান্ত হতে অনুরোধ করে বলেন, খুব সেনসিটিভ ইস্যু এটি। আমাদের উত্তেজিত হলে চলবে না। সরকারের কাছে আমরা আমাদের দাবি জোরালোভাবেই তুলব।

তিনি বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুর মৃত্যুর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে এলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব আমরা। এর আগে এ নিয়ে হট্টগোল করলে কোনো সমাধান আসবে না। আপাতত সবাইকে মৃতের পরিবারকে এই শোক কাটিয়ে উঠতে তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানাই।

জানা গেছে, থানা হেফাজতে মৃত্যু আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আলী হোসেন খান বলেছেন, বাবু যে আত্মহত্যা করেছেন তা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে তা ঠিক নয়।

প্রসঙ্গত কারওয়ানবাজারের এক মাছ ও আড়তদারের স্ত্রীর সঙ্গে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাবুর পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি ওই নারী এ সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু বাবু তাকে ছাড়তে চাইছিলেন না। এ জন্য ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করেন তিনি। পরে ওই নারী এ নিয়ে মামলা করেন, স্বামীর সহায়তায় বাবুকে পুলিশে ধরিয়ে দেন।

বাবু এফডিসির ফ্লোর অ্যান্ড সেট ইনচার্জ ছিলেন। বাবার নাম নুরুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে।

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com