একজন আরিফুল হক চৌধুরী ও সিলেটের উন্নয়ন:

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২০

একজন আরিফুল হক চৌধুরী ও সিলেটের উন্নয়ন:

শাহাব উদ্দিন শিহাব:

একটি দেশ ও একটি অঞ্চলের উন্নয়নে জনগণের অবদান যতটা থাকে, তার চাইতে দ্বিগুণ অবদান থাকে দেশ বা ঐ এলাকার জনপ্রতিনিধির। শুধু একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধিই পারেন একটি জাতির ইতিহাস সম্পূর্ণরুপে বদলে দিতে। এমনই একজন সুযোগ্য, দূরদর্শী ও সাহসী জনপ্রতিনিধি হলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তার দূরদর্শী, সাহসিকতার সর্বশেষ ফসল আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন চালু করা।

মরহুম এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে উঠে আসা আধুনিক সিলেট গড়ার স্থপতি ও রুপকার আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় বারেরর মতো নির্বাচিত একজন মেয়র। নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হওয়া ভাগ্যবান আরিফুল হক চৌধুরী দায়িত্ব নেয়ার পরই এক সময়ের অবহেলিত সিলেট নগরকে দেশের অন্যতম নগর হিসেবে গড়তে কাজ শুরু করেন। এক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন তিনি। তিনি সিলেটের মানুষকে আশার আলো দেখিয়ে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। একজন স্বপ্নবাজ ও কাজ পাগল মানুষ হিসেবে তিনি সর্বত্র সমাদৃত ।

কাজ পাগল এই মানুষটির পেছনের কিছু গল্প লিখার চেষ্টা করছি মাত্র। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরিফুল হক চৌধুরীকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। এই সময়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাত, শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ছুটেছেন নিজের লক্ষ্য পূরণে। নিজের ভেতরের স্বপ্নটাকে আঁকড়ে ধরেছেন শক্তভাবে। হৃদয়ে লালন করতেন স্বপ্নকে। বিশ্বাস প্রবল ছিল বলেই স্বপ্নই তাকে সাফল্যের পথে নিয়ে যায়। আঁকড়ে ধরা স্বপ্নটাই হয়তো একদিন তাকে পৃথিবীতে স্মরণীয় করে রাখবে। আরিফুল হক চৌধুরী ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে তিনি মানুষের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে, সাধারন ও খেটে-খাওয়া পরিশ্রমী মানুষের জন্য কাজ করবেন। তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন ও দু:খ, কষ্টগুলো ভাগাভাগি করে নিবেন। স্বপ্ন দেখতেন একজন সৎ ও স্বচ্ছ জনপ্রতিনিধি হওয়ার। তাই তো তিনি প্রবাস জীবনের ইতি টেনে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি অন্তরে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্নটাকে লালন করছেন বলেই প্রথমবারের মতো ২০০৩ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই সময় শুধু তিনি মানুষের সাথে আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে তোলাই তার নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা বিজ্ঞজনদের কাছ থেকে শুনেছি।

১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় জন্ম নেয়া আরিফুল হক চৌধুরীর বাবা মরহুম শফিকুল হক চৌধুরী ও মা আমিনা খাতুন। বাবা সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও ছিলেন শিক্ষক। স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরী। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সাথে রাজনীতি ও উন্নয়ন মূলক কাজে যোগ দেন। ২ মেয়ে ও এক পুত্র সন্তানের জনক আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৩ সালের ১৫ জুন প্রথমবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ সালে আবারো মেয়র নির্বাচিত হন। প্রথম দফায় মেয়র নির্বাচনের শেষ দিকে আমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করি। সেই সময় থেকেই মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে কাছে থেকে কাজ করার সুযোগ হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়া থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত নানা স্বড়যন্ত্র, ঘটনা-রটনা স্বচক্ষে দেখেছি। নানা জনের নানা কথা, পরামর্শ, ভয়-ভিতি, হুমকী-দামকী ছিল প্রতিদিনকার রুটিন কাজ। সবই শুনতেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিজেই নিতেন। এখনো তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেন। কান কথা একেবারেই পছন্দ করেন না তিনি। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়েছেন বলেই এখনো টিকে আছেন বীরদর্পে।
আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর উন্নয়নে ভবিষ্যত পরিকল্পনা গ্রহন করে কাজ শুরু করেছেন। বিশ্বের অন্য যে কোন সিটির মতো একটি স্মার্ট সিটি, ক্লিন সিটি এবং পর্যটন সিটি হসেবে গড়ে তুলতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ লক্ষে তিনি প্রথমে রাস্তা-ঘাট প্রশস্তকরণ, মেরামত, লিংক রোড স্থাপন কাজ শুরু করেন। রাস্থাপ্রশস্তকরণ কাজে নগরবাসীর শতস্ফুর্ত সমর্থনও পেয়েছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, তার ছোট ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এর বাড়ির দেয়াল, মরহুম স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী পৈত্রিক বাড়ি সহ নগরীর সরকারী বেসরকারী ্অসখ্য প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বাসা-বাড়ি, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান জমি ছেড়ে দিয়ে নগরবাসী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উন্নয়নে সহযাত্রী হয়েছেন। আগামী জুনের মধ্যে চলমান রাস্তা-ঘাট প্রশস্তকরণ কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন রাস্তা-ঘাটে আর তেমন একটা যানজট থাকবেনা। এছাড়া জলবদ্ধতার হাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে ছড়া খনন, দখলদার মুক্ত ও ছড়ার গতি আগের স্থানে ফিরিয়ে আনার কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরীতে আর তেমন কোন জলাবদ্ধতা সৃস্টি হবে না।
নগরবাসীকে স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে উন্মোক্ত করা হয়েছে ফুটপাত। তারপরও একটি দুষ্টু চক্র প্রতিদিন ফুটপাতে ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করছে। প্রতিদিন এদের বিরুদ্ধে অভিযান করে যাচ্ছেন মেয়র। রিতিমত হকারদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছেন আরিফুল হক চৌধুরী।

যানজট নিরসনে ইতিমধ্যে একটি আধুনিক ট্রাক টার্মিনাল নির্মিত হয়েছে। অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করতে পরিকল্পিত গাড়ী স্ট্যান্ড স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া চাউলের আড়ত, পেঁয়াজের আড়ত, ফল মার্কেট, কাঁচাবাজার সবগুলো আড়তদারি মার্কেট নগরের বাইরে ট্রাক টার্মিনালের পাশে নিয়ে যাওয়ারও কাজ করছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগর হবে যানজট মুক্ত। নগরবাসীর উন্নত যাতায়াতের জন্য ইতিমধ্যে ‘নগর এক্সপ্রেস’ চালু হয়েছে।

পানিয় জলের অভাব পূরণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে ব্যপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য সেবায় স্কুলের শিশুদের জন্য হেলথ কার্ড চালু একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নগরীর চারাদিঘীর পাড় এলাকায় প্রতিষ্টা করা হয়েছে উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত আরো ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নৈশ বিদ্যালয় শিক্ষা ক্ষেত্রে এ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ।

অবদান রাখছে। এছাড়া ডিজিটাল নগরী গড়তে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ওয়াইফাই চালু হয়েছে। সিসি ক্যামেরার আওতায় এসেছে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ড। পর্যটকদের জন্য নগরীর কদমতলী মুক্তিযোদ্ধা চত্তর, ধোপাদিঘীর পাড় ও হযরত শাহজালাল মাজার সংলগ্ন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মুখ সড়কের পাশে নির্মিত হয়েছে আধুনিক গন শৌচাগার। এছাড়া নগরীর মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জা সহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন সহ নির্মাণ কাজে তার সহযোগিতা অনিশিকার্য। নগরীর বস্তিবাসীদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন তিনি। শুধু ভাড়া নয়, আধুনিক থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বস্তি মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষে সিসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। নগরীর ডোবা, পুকুর উদ্ধার করে খননের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নগরীর ঐতিহ্যবাহী সকল দিঘী খনন করে তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ নগরবাসীকে তারের জঞ্জাল থেকে মুক্তি দিতে ভূগর্ভস্থ আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন চালু শুরু করেছেন। সিলেট নগরীকে স্মার্ট সিটিতে পরিণত করতে প্রাথমিকভাবে হযরত শাহজালাল (রা.) মাজার দরগাহ গেইট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যা পর্যাক্রমে নগরীর অন্যান্য এলাকায়ও শুরু হবে। এজন্য নগরবাসীর সর্বাত্বক সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন। একজন আরিফুল হক চৌধুরী বেঁচে থাকলে সিলেট হবে উন্নত আধুনিক নগরী।

সবশেষে বলতে চাই বদলে দেয়া মালয়েশিয়ার একজন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বিশ্বের সকল অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্যে অনুপ্রেরণা হলেও আমাদের অনুপ্রেরণা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেটের প্রয়োজনে দীর্ঘ কাল বেঁচে থাকুন এই কামনা সিলেট বাসীর।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুলাই ২০২০
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুন    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com