ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারে জরুরি বৈঠক

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২০

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারে জরুরি বৈঠক

বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আল-কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি মিলিশিয়া বাহিনী হাশদ আস সাবির কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিস হত্যাকাণ্ডকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছে ইরাক।

এর প্রতিক্রিয়ায় দেশ থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের চিন্ত-ভাবনা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রোববার পার্লামেন্টে জরুরি বৈঠকে বসেছেন আইনপ্রণেতারা। খবর আল আরাবিয়ার।

খবরে বলা হয়, জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে সিরিয়া থেকে বহনকারী বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও আটক করা হয়েছে।

ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, শীর্ষ দুই কমান্ডারের হত্যার পর ইরাক সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে দেশটির সাধারণ মানুষ। ইরাকে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে বলেও জানা গেছে।

ইরাকের বিরোধী শিয়া রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশ থেকে মার্কিন সেনাদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে।

দেশটির বদর অর্গানাইজেশনের নেতা হামিদ আল-আমিরি বলেন, আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর সব সদস্যকে ইরাক থেকে বিদেশি সেনাদের বহিষ্কারের জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডেকেছে ইরাক সরকার।

রোববারের এ বিশেষ অধিবেশনে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। ইরাকের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ঠেকাতে ইরাকের সেনাদের সহযোগিতায় পাঁচ হাজার ২০০ মার্কিন সৈন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে আল-কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে হত্যা করা হয়েছে।

মার্কিন হামলায় নিহতদের মধ্যে সোলাইমানিসহ পাঁচজন ইরানি ও মুহান্দিসসহ পাঁচজন ইরাকি রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে।

জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার বাগদাদজুড়ে শোকমিছিল হয়েছে। এসময় ক্ষুব্ধ লোকজনকে ‘আমেরিকা সবচেয়ে বড় শয়তান’ বলে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

শোকার্তদের অনেকের চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। তারা ‘নো, নো, আমেরিকা’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক, ইসরাইল নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

শোকমিছিলে যোগ দেয়া লোকজনের মধ্যে পিএমএফের উর্দি পরা অনেক সদস্যও হাজির ছিলেন। তাদের অনেকে ইরাকের ও তাদের বাহিনীর পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন।

শোকমিছিলে যোগ দেয়া অনেকের হাতে সোলাইমানি ও মুহান্দিসের ছবি ছিল। মিছিলে থাকা সাঁজোয়া যানগুলোতেও তাদের ছবি শোভা পাচ্ছিল।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল-মাহদি শোক মিছিলে যোগ দিলে উপরে দুটি হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। এতে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া নেতারাও অংশ নিয়েছিলেন। পরে শোকমিছিল মধ্য ইরাকের পবিত্র শহর কারবালায় যায়।

আর্কাইভ

মে ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com