পরিবর্তন না পরিবর্ধন? ‘কে হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি’

প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৯

পরিবর্তন না পরিবর্ধন? ‘কে হচ্ছেন  জেলা আওয়ামী লীগের  সভাপতি’

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৫ ডিসেম্বর

বদরুল ইসলাম শাকির:
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আর মাত্র ৪দিন বাকি। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আগামী ৫ ডিসেম্বর সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। এদিকে সম্মেলনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে সিলেটে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। দলের শীর্ষ পদে আসতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ১৪জন পদপ্রত্যাশী নেতা। সভাপতি পদে ৯ জন ও সম্পাদক পদে ৫জন। তবে শীর্ষ পদে আসতে নবীনদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দলটির প্রবীণ নেতারাই। তৃণমূল নেতারা পরিবর্তন চাইলেও অবশেষে কতটুকু পরিবর্তন আসছে কমিটিতে এমন অপেক্ষায় তৃণমূলের নেতাকর্মিরা। সম্মেলনে কাউন্সিল না সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি হবে, বিষয়টি এখনও খোলাসা হয়নি। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি হওয়ার পাল্লাই ভারী বলে জানা গেছে। সম্মেলনের পর ঢাকা থেকেই নাম ঘোষণা করা হতে পারে, এমন আভাসও দিয়েছেন পদপ্রত্যাশীদের অনেকে। এতে করে এবারের কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে কিনা এমন সন্দিহান রয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মিরা।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের অংশ হিসাবে তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলার পাশাপাশি সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটির সম্মেলন চায় দলটি। মূলত অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মধ্যদিয়ে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, বিতর্কিত ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা আদায়ের জন্য বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারী নেতাদের ছেঁটে ফেলবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। নেত্রীর এমন নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও সম্মেলনকে সফল করতে কাজ শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন দলটির সিলেট জেলার দায়িত্বশীল নেতারা। সম্মেলনকে সামনে রেখে দলটির শীর্ষ পদে আসতে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দলটির ত্যাগী, পরিশ্রমী ও ক্লিন ইমেজের নেতারা। সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকতে দলটির হাইকমান্ডের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকেই।
দলীয় নেতাকর্মীসহ অনেকেই ধারণা করছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের হাল ধরে আছেন, ঘুরেফিরে তারাই কমিটিতে থাকছেন। এ ক্ষেত্রে পদ-পদবির কিছুটা রদবদল হতে পারে। আগামী ৫ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া যে পদ্ধতিতেই হোক, নতুন নেতৃত্ব আরও গতিশীল করার প্রত্যয় রেখে আলোচনায় আছেন ১৪ নেতা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এসব নেতার অনেকেই বিভিন্নভাবে প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সহানুভূতি পেতে তৎপর রয়েছেন। রাখছেন তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কও।
একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৪ আসনের এমপি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের উঠে এসেছে। কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী। রয়েছেন কমিটির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি, সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সহসভাপতি ও সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জেলা বারের সাবেক সভাপতি রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু, ৮০’র দশকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এবং বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান। এছাড়া যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পূবালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবিরের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে আহমদ আল কবির জানিয়েছেন, দল যদি মনে করে তাকে সভাপতি করবে, আপত্তি থাকবে না তাতে। পদের জন্য তিনি প্রত্যাশী নন বলে জানান। এ ছাড়া বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান পদে প্রত্যাশী হলেও বয়সের কারণে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়াতে পারেন এমনটাই জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। কাউন্সিল হলে তিনি প্রার্থী নন জানিয়ে শুভ প্রতিদিনকে বলেন দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা যদি দায়িত্ব দেন তাহলে আমি দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছি।
এদিকে, মন্ত্রী ইমরান আহমদ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় পাল্টে গেছে পুরো হিসেব-নিকেশ। গ্রুপিং রাজনীতির উর্ধ্বে একজন ক্লিন ইমেজধারী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি যদি সভাপতি প্রার্থী হন তবে পাল্টে যাবে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমীকরণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এ পর্যন্ত সভাপতি পদে যারা প্রার্থী হওয়ার মতপ্রকাশ করেছেন তাদের মধ্যে ইমরান আহমদ অনেকটা এগিয়ে। একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে তৃনমূলে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও প্রিয় একজন কর্মী হলেন ইমরান আহমদ।
এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে মন্ত্রী বলেন, দল এবং দেলের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যদি সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করেন তবে তিনি মাথা পেতে এ দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। নেত্রীর সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। মন্ত্রী বলেন, আমাকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলে কোন গ্রুপিং থাকবেনা। গ্রুপ থাকবে একটাই, সেটা হলো শেখ হাসিনা গ্রুপ। সবকিছুর উর্ধ্বে থেকে জেলা আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিতে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করে যাবো।
অপরদিকে, সভাপতি প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী স্বাধীনতা-উত্তর ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। ৭৫-পরবর্তী সময়ে সিলেটে যে ক’জন নেতা রাজপথে ছিলেন এর মধ্যে তিনি অন্যতম। একসময় শফিক চৌধুরী যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও সেখানে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ করেন। ২৪ ঘন্টার রাজনীতিবীদ উপাধীতে খ্যাত এ নেতা দলীয় নেত্রীর কথায় দু’দুইবার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। অনেকেই মনে করেন তাঁর এ ছাড়ের কারণে দলীয় নেত্রী পুরুষ্কার হিসেবে হয়তো তাকে সভাপতির দায়িত্ব দেবেন। শফিক চৌধুরী শুভ প্রতিদিনকে বলেন, পদের জন্য আমি দৌড়ঝাঁপ করা পছন্দ করি না। অতীত কর্মকান্ডই আমাকে মূল্যায়ন করবে।
জেলার সহসভাপতি ও সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ছাত্রলীগ ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে, সম্মেলনকে ঘিরে তিনি বেশ সক্রিয়। কেন্দ্রিয় নেতাদের পছন্দের তালিকায়ও রয়েছেন এ নেতা। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাধেই উঠতে পারে জেলা আওয়ামী লীগ। তিনি মনে করেন, জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বিভিন্ন উপজেলা কমিটি নিয়ে বির্তকে রয়েছে। তাই কমিটি পরিবর্তন হবে। আর এই পরিবর্তনে দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা তাকে মূল্যায়ন করবেন।
সভাপতি প্রার্থীর তালিকায় বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ ও মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিত্ব করেন। মাসুক উদ্দিন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ক্লিন ইমেজ হিসেবে তার সুনামও রয়েছে। তবে তাঁর ভাই মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শক্তিশালী প্রার্থী আসাদ উদ্দিন হওয়ায় হয়তো যেকোন একজন শীর্ষ পদের দায়িত্ব পাবেন। এবার মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আসাদ উদ্দিন আসীন থাকলেও ভাগ্য সহায় নাও হতে পারে মাসুকের। পূর্বের পদেই তিনি আসীন থাকতে পারেন। মহানগরে আসাদের ক্ষমতা খর্ব হলে মাসুক উদ্দিন আহমদের প্রতি সহানুভূতি থাকতে পারে কেন্দ্রের। এপ্রসঙ্গে মাসুক উদ্দিন বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে দলের জন্য কাজ করে আসছি। আমি বিশ্বাস করি দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা আমার কাজের মূল্যায়ন করবেন।
অপর সহসভাপতি আশফাক একাধিকবার সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনিও দলের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ। আরেক প্রার্থী রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু জেলা বারের একাধিকবারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নতুন মূখ হিসেবে সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন ৮০’র দশকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এবং বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ লড়তে কাউন্সিলরদের কাছে চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, এবারের সম্মেলন অন্যরকম সম্মেলন। এ সম্মেলনে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, বিতর্কিত ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা আদায়কারী নেতাদের ছেঁটে ফেলবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি দেবেন দলীয় নেত্রী। আর তৃণমূলের কাউন্সিলরের অনুরোধেই আমি সভাপতি প্রার্থী হয়েছি।
অন্যদিকে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান সভাপতি না হলে সাধারণ সম্পাদক পদেই বহাল থাকবেন এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর শফিক চৌধুরী যদি সভাপতি হন তাহলে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা জাগবে। সাধারণ সম্পাদক পদে শক্তিশালী প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন- বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু জাহিদ ও বর্তমান কমিটির উপ দপ্তর সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জগলু চৌধুরী। এদের অনেকেই ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে এ পর্যায়ে এসেছেন।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ। এ পদে প্রার্থী হওয়ায় তাকে ঘিরে উৎফুল্ল দলের নেতাকর্মীর। অনেকেই তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমগুলোতে দাবি তুলছেন। এছাড়া বর্তমান কমিটির সহ সভাপতির পদে থেকেও আসন্ন সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ায় শাহ ফরিদকে নিয়ে আলোচনা আরো জোড় পেয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন পজেটিভ কোন ইঙ্গিত পেয়েই তিনি এ পদে প্রার্থী হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ বলেন, প্রায় ৪ দশক ধরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে আসছি। বিগত দিনে দলের দু:সময়ে বিভিন্ন পদে থেকে মাঠে কাজ করেছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমার উপর আস্থা রেখে সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন তবে আমি যথার্থভাবে এই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।
আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের দু’বারের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আবু জাহিদ। এরআগে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। সিলেটের জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবু জাহিদের প্রার্থিতা নিয়ে এরই মধ্যে জেলার রাজনীতিতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ায় পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রার্থিতার দৌড়ে অন্য সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন মো. আবু জাহিদ। এছাড়া আগামীর নেতৃত্বে আসার প্রবল সম্ভাবনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দলের জন্য কাজ করতে চাই। দলীয় নেত্রী দায়িত্ব দিলে দলকে সু-সংগঠিত করতে নিজেকে উৎসর্গ করবো।
সাধারণ সম্পাদক পদে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান। শফিক চৌধুরী পরেই দলের কর্মকান্ডে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি। নাসির উদ্দিন খান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে এবং প্রত্যেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক গতি বাড়াতে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করেছি, তৃণমূলের গতিশীল রাজনীতি আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। দলকে গতিশীল করতে নেত্রী আগামীতে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটি পালন করতে উম্মুখ রয়েছি।
অপর প্রার্থী জগলু চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন জানিয়েছে। আশা করি সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরাই এবার নেতৃত্বে আসবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও ২০১১ সালে সম্মেলন ছাড়াই আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সভাপতি ও শফিকুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালে সুফিয়ান মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। সূত্রমতে, ৫ ডিসেম্বরের সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সিলেটের দায়িত্বপাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আসছেন।

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com