বিশ্বনাথ টু রশিদপুর সাড়ে ৩কিলোমিটার সড়কে ১২টি স্পীড ব্রেকার, দুর্ভোগ!

প্রকাশিত: ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

বিশ্বনাথ টু রশিদপুর সাড়ে ৩কিলোমিটার সড়কে ১২টি স্পীড ব্রেকার, দুর্ভোগ!

বদরুল ইসলাম মহসিন. বিশ্বনাথ:

মানুষ সচেতন হলে সড়ক দূর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। সড়ক দূর্ঘটনার জন্য স্পিড ব্রেকার অনেকাংশে দায়ী। হঠাৎ স্পিড ব্রেকার দেখে কষলেন ব্রেক, অনেক সময় পিছনে থাকা অন্য গাড়ি দিলো ধাক্কা, হয়ে গেল বড় দূর্ঘটনা। বাংলার উন্নয়নের পথে পথে স্পিড ব্রেকার হয়ে উঠেছে একটা মরনফাদ। সাধারণত সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক, মহাসড়কে স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়। কিন্তু কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিশ্বনাথ-রশিদপুর সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কে অপরিকল্পিতভাবে ১২টি স্পিড ব্রেকার তৈরি করা হয়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যার কারণে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে। মাত্র সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কে ১২টি স্প্রীড ব্রেকার নির্মাণ করায় বিশ্বনাথ উপজেলার সচেতন নাগরিক ও জনসাধাররা বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। এ নিয়ে জনসাধারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জানা গেছে, ২০১৮ সালের আগস্টে বিশ্বনাথ-রশীদপুর ৩.৭০০ কিলোমিটার সড়ক প্রসস্থ ও আধুনিকায়ন এবং সড়কের দু’পাশে ফুটপাত ও বিশ্বনাথ বাজার এলাকায় ড্রেন নির্মাণে ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সড়কের দু’পাশে গাছের সারি ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করে এবং ফুটপাতের জায়গা না রেখেই ডিসেম্বরে শুরু হয় এর কাজ। এই সড়কের প্রস্থ ছিলো ১৮ফুট। দু’পাশে প্রস্থকরণ করে সড়কের প্রস্থ ২৪ ফুটে উন্নীত করা এবং পথচারীদের জন্য সড়কের দু’পাশে ফুটপাত ও বিশ্বনাথ বাজার এলাকায় ড্রেইন (সড়কের পার্শ্বে) নির্মাণ কথা থাকলে শুরু থেকে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সড়কের সম্প্রসারণের কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে গত ২৫ জানুয়ারী ও ২৯ জানুয়ারি এক প্রতিবাদ সভা করে স্থানীয় এলাকাবাসী। তবুও নিজেদের খেয়াল খুশিমতো দায়সারা চালিয়ে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। একবছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজের পরিপূর্নতা পায় নি। তার উপর মাত্র সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কে স্থাপন করা হয়েছে ১২ স্পীড ব্রেকার। সরেজমিনে দেখা গেছে, রশিদপুর থেকে বিশ্বনাথ বাসিয়া ব্রিজের সম্মূখ পর্যন্ত ৩.৭০০ কিলোমিটার এই সড়কে আগে মাত্র ৪টি স্পীড ব্রেকার ছিল। এখন আধুনিকায়নের বদৌলতে স্পীড ব্রেকারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক ডজন। এই সড়কে পাশে যতটি মসজিদ আছে সবগুলো মসজিদের সামনে স্থাপন করা হয়েছে স্পীড ব্রেকার। কয়েকটি মসজিদ সড়কে থেকে দূরে থাকার পরও স্পীড ব্রেকার দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বাড়ির নিজস্ব সংযোগ সড়কে স্থাপন করা হয়েছে যত্রতত্র স্পীড ব্রেকার। স্পিড ব্রেকারগুলোর আগে পরে নেই কোন প্রতিকী চিহ্ন, লেখা নেই কোন সতর্কবানী। এমনকি রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়নি ওই স্পিড ব্রেকারগুলো। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণের সময় ওই এলাকার প্রভাবশালীরা কাজের শ্রমিকদের ১-২ হাজার টাকা দিয়ে এসব স্পীড ব্রেকার নির্মাণ করান। অপরিকল্পিতভাবে উঁচু করে নির্মিত এই স্পিড ব্রেকারগুলোর কারণে বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকদের পাশাপাশী যাত্রীদেরও চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এগুলোর উপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় বেশ জোরে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রায়ই ড্রাইভারদের সাথে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি ও বাক-বন্ডিতার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব রাস্তায় যাতায়াতকারী রোগী ও শিশুরা ঝাঁকুনিতে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেল চালকরাও সমস্যায় পড়েছেন। অপরিকল্পিতভাবে উঁচু করে নির্মিত এই স্পিড ব্রেকারগুলোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা।
মটরসাইকেল চালক, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রোহেল উদ্দিন বলেন, নিয়মের অতিরিক্ষ স্পিড ব্রেকার থাকার কারণে, হঠাৎ উঁচু স্পিড ব্রেকারগুলোতে গাড়ির গতি কমিয়ে উঠার চেষ্টা করলে, গাড়িটি কন্টাল রাখা যায় না। অনেক সময় পিছনে থাকা গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে দূর্ঘটনা প্রতিমান হয়।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ, জগন্নাথপুর, সিলেট রোডের বাস শ্রমীক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজর আলী বলেন, এসকল স্পিড ব্রেকার অবৈধ। অনেক সময় এ সকল উচুউচু ব্রেকারের সাথে বাসের চাকার মধ্যে সজুড়ে ধাক্কা লাগে, এবং বাসে থাকা যাত্রীদের সাথে ড্রাইভারে কথাকাটাকাটিও হয়ে থাকে, অনেক সময় পিছনে থাকা অন্য গাড়ীর সাথেও ধাক্কা লাগে। উচুউচু অবৈধ স্পিড ব্রেকার উঠানোর জন্য কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে নিরাপদ সড়ক চাই, আন্দোলন (নিসচা’র) সিলেটের সভাপতি বাবর লস্কর বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। তার মতে, এটা কোন কঠিন রোগ নয়, সারানো যাবে না। এটা মানুষের ভুলে হয়। স্পিড ব্রেকারের প্রতি আমরা সবসময় প্রতিবাদী, স্থানীয়ভাবে অনেত প্রভাবশালীরা অনেক সময় এ ধরনের স্পিড ব্রেকার কন্টাকদারের মাধ্যমে তৈরী করে থাকেন। সড়ক বিভাগে এ ধরনের স্পিড ব্রেকার অবৈধ, স্পিড ব্রেকারে কারণে সড়ক দূর্ঘটনা কমাতে পারে না বরং দূর্ঘটনা আরো বারে। রাস্তার মধ্যে এ ধরনের স্পিড ব্রেকারের কারণেও প্রতিনিহত ছোট বড় অনেক সড়ক দূর্ঘটনা হচ্ছে।
এ ব্যপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান, জামিল ইকবাল এন্টার প্রাইজের এমডি, আব্দুস সামাদের আওতাদিন ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, এ সকল স্পিড ব্রেকার বিভিন্ন জনের অনুরোধে দেওয়া হয়েছে। এটা সড়ক ও জনপদের অনুমোদন নেই। গত ১১ নভেম্বর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সিলেট রোডস্থ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে, একটা সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন জরুরী কয়েকটা স্পিড ব্রেকার রেখে শ্রীঘ্রই বাকিগুলো তুলে নেওয়া নির্দেশ মিলবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com