সিলেট মহানগর আ.লীগে সভাপতির দৌড়ে ৪ নেতা

প্রকাশিত: ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৯

সিলেট মহানগর আ.লীগে সভাপতির দৌড়ে ৪ নেতা

রফিকুল ইসলাম কামাল :: পরিবর্তন? নাকি পুরনো বৃত্তেই আবর্তন? সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদ নিয়ে এই আলোচনা এখন সর্বত্র। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ এই শাখার সভাপতি পদে অন্তত চার নেতার নাম ঘুরপাক খাচ্ছে নেতাকর্মীদের আলোচনায়।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয় ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর। এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৫ সালে। কিন্তু পরবর্তীতে আর নতুন করে সম্মেলন বা কমিটি গঠন হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই এখন অবধি দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রের কঠোর হুঁশিয়ারি পেয়ে সম্মেলনের তোড়জোড় শুরু করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এজন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয় ৩০ নভেম্বর। তবে গত বুধবার কেন্দ্রের নির্দেশনায় সম্মেলনের জন্য নতুন করে ৪ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এবার সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসতে আগ্রহী আছেন অন্তত চার নেতা। তাঁরা হলেন- বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আসাদ উদ্দিন আহমদ, এডভোকেট রাজ উদ্দিন ও ফয়জুল আনোয়ার আলাওর। অবশ্য এসব নেতাদের কেউই সরাসরি সভাপদি পদে আসার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি। তিনি আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পদ পান। কামরান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম দুই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মেয়র পদে ছিলেন।

এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে ফের সভাপতি পদে আসতে আগ্রহী কামরান। অবশ্য, তাকে আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনের পর কেন্দ্রের কোনো পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি সিলেটভিউকে বলেন, ‘নেত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন, আমি সে দায়িত্বই পালন করবো। তবে কেন্দ্রে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি এখনো পর্যন্ত ভিত্তিহীন।’

পুনরায় সভাপতি পদে আসা বিষয়ক এক প্রশ্নে কামরান বলেন, ‘দলের নেত্রী যদি চান, সিলেট নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি চায়, বিষয়টি তার ওপর নির্ভর করবে।’

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে ওঠে আসেন তিনি। আসাদ উদ্দিন ১৯৭৮ সালে মদন মোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, পরের বছর ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে তিনি ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং ১৯৮২ সালে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি ছাত্রলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

আসাদ উদ্দিন আহমদ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য মনোনীত হন ১৯৮৬ সালে। নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়ান তিনি। ১৯৯১ সালে হন জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। ২০০৩ সালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে এখন অবধি মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন আসাদ।

মহানগর আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনে সভাপতি পদে পরিবর্তন এলে আসাদ উদ্দিন আহমদই সে পদে আসতে পারেন, এমন জোর গুঞ্জন রয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।

এ বিষয়ে কথা বলতে আসাদ উদ্দিন আহমদকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এডভোকেট রাজ উদ্দিন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এ শাখায় সহসভাপতি পদে থাকা নেতাদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। ২০০৪ সালে নগরীর তালতলাস্থ গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন রাজ উদ্দিন। এখনও তার শরীরে বেশ কিছু স্পিøন্টার রয়ে গেছে। প্রায় ১০ বছর তিনি জেলা জজ কোর্টের ভিপিজিপি ছিলেন।

সভাপতি পদ প্রসঙ্গ রাজ উদ্দিন সিলেটভিউকে বলেন, ‘নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেন, দল যে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি সে অনুযায়ীই কাজ করবো। নেত্রী যে দায়িত্বই দেন, আমি পালন করবো।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়জুল আনোয়ার আলাওর বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আসাদ উদ্দিন আহমদ জেলা ছাত্রলীগের যে কমিটির সভাপতি ছিলেন, সে কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আলাওর। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। এবার আরো বড় পদের দিকেই চোখ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে ফয়জুল আনোয়ার আলাওর সিলেটভিউকে বলেন, ‘সম্মেলনে প্রার্থী হচ্ছি, এটা নিশ্চিত। তবে সাধারণ সম্পাদক নাকি সভাপতি পদে হবো, তা এখনও ঠিক করিনি।’

সূত্র সিলেটভিউ

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com