দমিয়ে রাখতে চাওয়ায় মাওলানা নিজের সক্ষমতা দেখালেন

প্রকাশিত: ২:২৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

দমিয়ে রাখতে চাওয়ায় মাওলানা নিজের সক্ষমতা দেখালেন

পাকিস্তানের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি থেকে জমিয়তে উলামা-ই-ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানই কেবল আগেভাগে বেড়িয়ে আসতে চাচ্ছেন না।

বিরোধী দলগুলো, সরকার ও প্রকৃতপক্ষে পুরো দেশই এই অনিশ্চয়তার মেঘ সরে যাওয়া দেখতে চান। কারণ এতে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কার্যক্রম থেমে আছে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সবাই অংশীদার। কাজেই মাওলানা ও তার দল যাতে সম্মানজনকভাবে ঘরে ফিরতে পারেন, তাতে সবাই সহায়তা করবেন।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগ চাচ্ছেন তিনি। এটা খুবই অবাস্তবিক এবং সত্যিকার অর্থে তা মারাত্মকভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।

এই স্পর্শকাতর সময়ে যেসব বিরোধী দল মাওলানার পাশে রয়েছেন, তারাও বুঝতে পারবেন যে তার দাবি কতটা অসম্ভব।

জালিয়াতি করে ক্ষমতায় আসার দায়ে ইমরান খানকে উৎখাতে মাওলানা ফজলুর রহমানের আজাদি পদযাত্রায় সমর্থন দিয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি।

পার্লামেন্টে এই দল দুটির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

কাজেই বর্তমান পার্লামেন্টকে সক্রিয় ও কার্যকর রাখতে তাদেরও যথেষ্ট স্বার্থ রয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে জমিয়ত প্রধানের আসনটি ধরে রাখতে সহায়তা করলে তাতে সবার জন্যই সুবিধা হতো।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে তার ডেরা ইসমাইল খান আসনে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। যা পরিস্থিতিকে অবশ্যই জটিল করে তুলেছে। এ রকম একটি ঘটনা নিয়ে পার্লামেন্টে কঠোরভাবে আলোচনা হতে পারতো। গণতন্ত্রের শুভাকাঙ্ক্ষীরা এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারতেন।

বিশেষ করে পাকিস্তানে এখন এমন একটা সময় চলছে, যখন পিটিআই সরকার নেহাত তার দ্বিতীয় বছরে পা দিয়েছে।

কিন্তু এ রকম কিছু ঘটবে না, কারণ, মাওলানা ফজলুর রহমানের তথ্যানুসারে, সেখানে সেইসব শক্তি রয়েছে, যারা গত বছরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুটি আসনে তাকে হারাতে ভূমিকা রেখেছে।

শেষ পর্যন্ত তাকে হারিয়ে দেয়ার ওই ঘটনাই এই বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে সামনে চলে এসেছে।

ইসলামাবাদে ক্ষমতার মূলকেন্দ্রকে অচল করে দিতে যখন জমিয়তের মার্চ অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে, মঞ্চের ক্ষুব্ধ বক্তারা তখন সম্ভবত এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

আজাদি মার্চ নিয়ে এমন কিছুই নেই, যা বিক্ষোভকারীদের বড় ধরনের দুঃখবোধের কারণ হতে পারে। তার চেয়ে বরং তাদের নেতাদের পার্লামেন্টের বাইরে রেখে যে অবমাননা করা হয়েছে, তাতেই তারা বেশি ক্ষুব্ধ।

সেক্ষেত্রে মাওলানার ওপর প্রভাব বিস্তারের বড় দায়িত্ব রয়েছে পার্লামেন্টে তার মিত্রদের। বিশেষ করে যখন তিনি সরকারকে নিশানা করে কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের বৈঠকে আলোচনা করেন।

সরকারের সঙ্গে মিলে দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান প্রভাবশালী ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের অবশ্যই মাওলানা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে চলমান ব্যবস্থার সঙ্গে তার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অল্প করেও হলেও সেই চেষ্টা করেছেন। মাওলানার তারিফ করে তিনি বলেছেন, লাখ লাখ লোককে রাজধানীতে জমায়েত করার সক্ষমতা তার রয়েছে।

চৌধুরী সুজাত হোসেন ও চৌধুরী পারভেজ এলাহির মতো দুই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ আজাদি মার্চের নেতার সঙ্গে একটি আন্তরিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা চালিয়েছেন। এছাড়া কিছুটা অযৌক্তিক কোলাহল তৈরির চেষ্টা করেছিল ক্ষমতাসীন পিটিআই।

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com