ধানমণ্ডিতে জোড়া খুনের আসামি সুরভীসহ ৫ জন রিমান্ডে

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯

ধানমণ্ডিতে জোড়া খুনের আসামি সুরভীসহ ৫ জন রিমান্ডে

ধানমণ্ডিতে দুই নারীকে হত্যা মামলায় বাসায় নতুন কাজের মেয়ে সুরভী আক্তার নাহিদাসহ (২২) পাঁচ আসামির প্রত্যেকের পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া আসামিদের রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- বাসার ম্যানেজার মো. গাউসুল আযম প্রিন্স (৪২), সিকিউরিটি গার্ড মো. নুরুজ্জামান (৪২), রুবার স্বামীর বডিগার্ড বাচ্চু (৩৪) ও ইলেক্ট্রিশিয়ান মো. বেলায়েত হোসেন (৩২)।

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম এ আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি সুরভী আক্তার নাহিদা অপর আসামিদের যোগসাজশে জোড়া খুন ও লুণ্ঠনের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। এটি একটি চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর মামলা। এ খুনের সঙ্গে আসামিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এই জোড়া খুন ও লুণ্ঠন কার নির্দেশে হয়েছে? প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তারীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করাসহ মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত জরুরি।

রাষ্ট্রপক্ষে থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আশরাফ ও আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ আসামিদের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, একা কাজের মেয়ের পক্ষে জোড়া খুন করা সম্ভব নয়। এ খুনের নেপথ্যে আরও অনেকেই জড়িত আছেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

অপরদিকে আসামি প্রিন্স ও নুরুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী রিয়াজ মাহমুদ ও মো. রেজাউল করিম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করেন।

শুনানিতে তারা আসামিদের নির্দোষ দাবি করেন এবং শত্রুতাবশত তাদের আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এরপর আদালত আসামিদের কাছে তাদের নাম ও কী করেন- তা জানতে চান। সব আসামিরা- তারা কী কাজ করেন তা আদালতকে জানান। এ সময় সুরভী শুধু নামই বলেন। আদালতে কিছু বলার আছে কিনা- তা জানতে চাইলেও তিনি (সুরভী) জবাব দেননি।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর নিহত আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা (৪২) বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ধানমণ্ডি-২৮ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাসার ই-৫ নম্বর ফ্ল্যাটে স্বামী-সন্তানসহ রুবা বাস করেন। রুবার বৃদ্ধ মা আফরোজা বেগম (৬০) তার কাজের মেয়ে দিতিকে (১৮) নিয়ে একই বাসার ফ্ল্যাট নম্বর ডি-৪ এ স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।

গত ১ নভেম্বর বাসার পুরনো কাজের লোক মো. আতিকুল হক বাচ্চু একজন নতুন কাজের মেয়েকে (সুরভী আক্তার নাহিদা) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রুবার বাসায় নিয়ে আসে। নতুন কাজের মেয়েটিকে বাচ্চুর সঙ্গে রুবা তার মায়ের ফ্ল্যাটে পাঠিয়ে দেন।

এরপর বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে রুবার মা আফরোজা বেগম পুরনো কাজের মেয়ে দিতিকে নিয়ে রুবার পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে চতুর্থ তলায় তার ফ্ল্যাটে চলে যান।

ওই দিনই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রুবা তার মাকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এজন্য রুবার বাসার কাজের ছেলে মো. রিয়াজকে তার মায়ের ফ্ল্যাটে পাঠান। রিয়াজ রুবার মায়ের ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিং বেল ও ডাকাডাকি করলে কেউ জবাব দেননি। রিয়াজ দরজায় ধাক্কা দিয়ে দেখে দরজা খোলা এবং রুবার মা আফরোজা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। রিয়াজ তাৎক্ষণিক এ ঘটনা রুবাকে জানান। রুবা তার মায়ের ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখতে পান ডাইনিং রুমে তার মায়ের (আফরোজা বেগম) ও গেস্ট রুমে কাজের মেয়ে দিতির রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। তখন ওই বাসায় বাচ্চু ও নতুন কাজের মেয়েকে পাওয়া যায়নি। রুবার মায়ের রুমে রক্ষিত আলমারির তালা খোলা ও মালামাল ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় মেঝেতে পড়েছিল।

বাসার সিকিউরিটি গার্ড নুরুজ্জামান জানান, নতুন কাজের মেয়েটি সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে গেট দিয়ে বাইরে চলে গেছে। রুবার ধারণা, বাচ্চু ও নতুন কাজের মেয়ে অজ্ঞাত সহযোগীদের সহায়তায় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তার মা ও কাজের মেয়ে দিতিকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে এবং গলা কেটে হত্যা করে। পরবর্তীতে তারা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ পালিয়ে যায়। বাচ্চু, নতুন কাজের মেয়ে, কেয়ারটেকার বেলাল প্রিন্সসহ বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা এতে জড়িত থাকতে পারে বলে রুবা এজাহারে উল্লেখ করেন।

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com