বিশ্বনাথে খাদিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৯

বিশ্বনাথে খাদিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:

বাউল সম্রাট মরহুম শাহ আব্দুল করিমের পীর বাবা নামের পীর ওলি শাহ ইব্রাহীম মস্তান আউলিয়া’র বাড়ী হিসাবে পরিচিত শ্রীপুর মাজার। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এ মাজারের অবস্থান। প্রায় ৫০ বছর ধরে এখানে ওরুছ চলে আসছে। যা একসময় ওরুছের দ্বায়ীত্বে ছিলেন পীর ইব্রাহীম শাহ। ২০০৩ সালে পীর ইব্রাহিম শাহ মারা যাওয়ার পর, ২০০৪ সালের প্রথম দিকে মাজারটি পূর্ণ রুপ নেয়। যা শ্রীপুর মাজার হিসাবে ব্যাপক প্রচার হয়। তখন থেকে মাজারের খাদিম হিসাবে দ্বায়ীত্ববার¡ গ্রহণ করেন পীরের উত্তরসূরি হিসাবে জিতু মিয়া ও দুদু মিয়া। স্থানীয় এলাকাবাসী দাবি করেন পীর ইব্রাহিম শাহ বেচেঁ থাকা কালিন যে তারিখে এখানে ওরুছ হতো, তিনি মারা যাওয়ার পরও প্রতিবছরে একই তারিখে দুইবার ওরুছ করা হয়। বাংলা বছরের ভাদ্র মাসের ৭/৮/৯ ও ১০ তারিখ পর্যন্ত বিশাল ওরুছ হয়। চৈত্র মাসের ৭/৮/৯ তারিখে সমান ওরুছ করা হয়। এবং অগ্রায়ণ মাসের ১১ তারিখে পীর ইব্রাহিম শাহ এর মৃত্যু বার্ষিকী পালন উপলক্ষে ১দিনে ওরুছ করা হয়। পীর ইব্রাহিম শাহ উত্তরসূরী হিসাবে আলমাছ আলী, ইসমাইল আলী, সাবাল আলী। পীরের উত্তরসূরী হিসাবে আলমাছ আলীর ও ইসমাইল আলী মারা যাওয়ার পর পীর ইব্রাহিম শাহর ২য় উত্তরসূরী হিসাবে মাজারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মরহুম আলমাছ আলীর বড় ছেলে প্রবাসী জিতু মিয়া ও দুদু মিয়া।
উল্লেখ্য গত ৭ অক্টোবর মো. মোহন মিয়া নামের একজন সিলেট পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগের বৃত্তিতে সরেজমিনে স্থানীয় সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, সৎ ভাই মোহনের অভিযোগের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তারা দাবি করে বলেন, অভিযোগের তথ্যগুলোর কোনটার সাথে কোন মিল নেই। পারিবারিক সমস্যার নিয়ে অভিযোগ থাকতেই পারে। ওরুছের সময় যেখানে পুলিশ মোতায়েন তাকে, সেখানে মদ ও গাঁজা সেবনের প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল মিয়া মাজারের খাদিম হিসাবে জিতু মিয়াকেই জানেন মাজার নিয়ে কোন দন্ধ নাই। তবে তাদের ভাইয়ে ভাইয়ে পারিবারিক কিছু সমস্যা আছে। এ ব্যাপারে মনুহরপুর গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি ও সাবেক ইউপি সদস্য জমজান আলীর কাছে মাজার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাজারের খাদিম হিসাবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে জিতু মিয়া ও দুদু মিয়াকেই জেনে আসছি। মাজারের প্রতি এলাকাবাসীর কোন অভিযোগ আমাদের জানা নেই। ২০০৩ সাল থেকে ইউপি সদস্য আছি মাজারে কোন সমস্যা দেখেননি। উপজেলার মধ্যে একমাত্র শ্রীপুর মাজারই শান্তি শৃংখলাভাবে ওরুছ করে যাচ্ছে। দরখাস্থকারী মো. মোহন মিয়া তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, নালিশী ভূমির উপর সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থিতাবস্থার আদেশ থাকা অবস্থায় আমাদের সৎ ভাই জিতু মিয়া ও দুদু মিয়া কর্তৃক দেয়াল নির্মাণ করে আদালতের আদেশ অবমাননার শামিল। রায়কৃত বসত বাড়ীর ভূমিতে দেয়াল নির্মাণ করে এবং বেশ পুরোনো বয়সী চাউলের গাছ কর্তন করে দেয়াল নির্মাণ করে, আমার পরিবারের সবাইকে টয়লেটে যাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে পিছনে থাকা টয়লেটের রাস্তা একেবরে বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে এ অভিযোগটি সম্পন্ন মিথ্যা দাবি করেন মাজারের খাদিম জিতু মিয়া। তিনি বলেন, নিজস্ব আয় থেকে এবং ভক্তগনদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ মাজারের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে। মাজারের যে উন্নয়ন হয়েছে তা চোখে দেখার মত। একটি মহল মাজারের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে তার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। জিতু মিয়া দাবি করেন, তাদের সৎ ভাই মোহন মিয়া ও সেপুল মিয়া তাদের পৈতিক পাওয়া জায়গার পরও অসৎ উদ্যশ্যে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করে যাচ্ছে এবং ওরুছের সময় মাজারে মদ, জুয়া ও গাজা সেবনসহ মাজারের ঘর দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে ওপর ভাই মাজারের খাদিম দুদু মিয়া তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করেন। স্থানীয় এলাকার বেশ কয়েকজন জানান, পীর ইব্রাহিম শাহ মাজারে জিতু মিয়া ও দুদু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের সৎ ভাইদের মধ্যে দ্বন্ধের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, তাদের সৎ দুই ভাই পুরো মাজারকে অসৎভাবে পরিচালনা করাসহ মাজারের নিয়ন্ত্রণ করতেই শ্রীপুর মাজারের বিরুদ্ধে নানান মিথ্যা অভিযোগ করে আসছে, তা আজও সত্য নয়। স্থানীয়ভাবে মাজারটি ইব্রাহীম শাহ দরবার শরীফ নামে পরিচিতি লাভ করে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com