ঢাবিতে ছাত্রলীগের নির্দেশে ‌টর্চার সেল ‌‘না থাকার’ নোটিশ

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

ঢাবিতে ছাত্রলীগের নির্দেশে ‌টর্চার সেল ‌‘না থাকার’ নোটিশ

আবাসিক হলে ‘টর্চার সেল’ নেই এমন বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি হল সংসদ। এসব হলের ছাত্র প্রতিনিধিদের সবাই ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন অথবা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির উপস্থিতিতে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। চারটি হল সংসদের পাঁচজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি এবং ৩ জন ছাত্রলীগ নেতা যুগান্তরকে এমন নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হল সংসদ ও ছাত্রলীগের নেতারা জানান, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘টর্চার সেল’র বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

সোমবার দৈনিক যুগান্তরে ‘অর্ধশত টর্চার সেল ঢাবির ১৩ হলে’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয়। যেখানে হলের বিভিন্ন কক্ষ ও স্থান কীভাবে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হয় তা উল্লেখ করা হয়। যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এদিন দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে বসেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ও ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। এসময় শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে হল সংসদের ভিপি-জিএসদের ‘টর্চার সেল’ না থাকার বিষয়ে বিবৃতি দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে ছাত্রলীগের নির্দেশনার পর বিভিন্ন হল এ সংক্রান্ত বিবৃতি দিতে শুরু করে। এসব বিবৃতিতে ‘টর্চার সেল’ নেই উল্লেখ করা হলেও সুকৌশলে ‘গেস্টরুম’ -এ শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। তবে গত সাত বছরে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের যে হিসেব দেয়া হয়েছে তা অস্বীকার করেনি বিবৃতিদাতারা।

পাশাপাশি কেউ কোনো নির্যাতনের শিকার হলে হল প্রশাসন ও হল সংসদ অবহিত করার আহ্বানও ছিল সেসব বিবৃতিতে। এসব বিবৃতিতে যাদের স্বাক্ষর রয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থী নির্যাতন এবং ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকা এবং হলের ক্যান্টিনে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাঁচটি হল সংসদের বিবৃতি যুগান্তরের হাতে এসেছে। যার প্রত্যেকটিতেই ১৩জনের মধ্যে বিজয় একাত্তর হল সংসদের বিবৃতিতে ‘টর্চার সেল’ নেই এমন কথা বলা হয়নি।

তবে তারা বলছে, তাদের হলে নিপীড়নস্থল নেই। এই হল সংসদের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্যান্টিনে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের বিবৃতিতে ‘টর্চার সেল’ নেই বলে উল্লেখ করা হয়।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল (এসএম) হল সংসদের বিবৃতিতে যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে হলে ‘টর্চার সেল’ নেই উল্লেখ করা হলেও হলটিতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের কথা অস্বীকার করা হয়নি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বলছে, এই হলটিতে গত সাত বছরে অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। কবি জসীম উদ্দীন হল সংসদের বিবৃতিতে ‘টর্চার সেল’ নেই দাবি করে দু’টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়। ‘টর্চার সেল’ নেই দাবি করা হয় সূর্যসেন হল সংসদের বিবৃতিতেও।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কোনো নির্দেশনা দেইনি। হল সংসদগুলো তাদের মতো করেই বিবৃতি দিয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতিকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও পাওয়া যায়নি।

যুগান্তর

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com