পূজো হবে না শুনেই উদ্যোগী হলেন নারীরা

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০১৯

পূজো হবে না শুনেই উদ্যোগী হলেন নারীরা

সুনামগঞ্জ জেলায় এবার মোট ৪১০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রমী কেবল সুনামগঞ্জ শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি নাট মন্দিরের পূজা। কারণ শুধুমাত্র নারীদের ব্যবস্থাপনায় জেলার প্রথম পূজা হচ্ছে এখানে।

দুর্গা পূজার আয়োজক সংগঠনের নাম ‘শ্রী শ্রী সার্বজনীন ভ্রাতৃ সংঘ পূজা কমিটি’ হলেও পরিচালনা করছেন নারীরাই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কালীবাড়ি নাট মন্দিরের পূজাই নারীদের ব্যবস্থাপনায় জেলার প্রথম পূজা।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিমান কান্তি রায় বলেন, ‘আমার জানা মতে নারীদের আয়োজনে সুনামগঞ্জে এটাই প্রথম দুর্গাপূজা। আমরা তাদেরকে সব সময় উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছেন ও সহযোগিতা করছেন।’

পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, উৎসবমুখর পরিবেশেই তারা দুর্গাপূজা করছেন। নারীরা পূজার সকল আয়োজন করলেও পাড়ার পুরুষরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। আর্থিকসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটের স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুসনা হুদা ও পৌর মেয়র নাদের বখতের স্ত্রী ফেরদৌস আরা বখত ঝরনাসহ আরও অনেকে নারী। সহযোগিতা করেছেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপলও।

পূজার আয়োজকরা জানান, কালীবাড়ি নাট মন্দিরে প্রতি বছর পাড়ার পুরুষরাই দুর্গাপূজা করে আসছেন। তবে পাড়ার কিশোর-যুবকরা লেখাপড়াসহ নানা কাজে বাহিরে থাকায় এবার পূজা হবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কা ছিল। ‘পূজা হবে না’ বিষয়টি শুনে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকালে কালীবাড়ি নাট মন্দিরে বসেন মন্দিরের আশপাশের নারী। ওই দিনের সভায় ৪১জন নারী উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত নারীরা সিদ্ধান্ত নেন সার্বজনীন ভ্রাতৃ সংঘ পূজা কমিটির নামেই দুর্গাপূজা করবেন তারা। সভায় পৌর মেয়র নাদের বখতের স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। এরপর নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ ও চাঁদা তোলে পূজার কাজ শুরু করেন। তবে অন্যান্য মন্দিরের কিছু পরে কাজ শুরু করায় তারা সিলেট থেকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে মাটির তৈরি প্রতিমা সংগ্রহ করেন ও পূজার পুরোহিত সিলেট থেকে এনেছেন।

শুক্রবার দুপুরে কালীবাড়ি নাট মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান- যেহেতু এটা তাদের প্রথম পূজা তাই প্রাথমিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ করেছিলেন আড়াই লাখ টাকা। তবে ব্যয় হবে তিন লাখ টাকার উপরে। কিন্তু শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তাদের অর্থ সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৭০ হাজার টাকা। অর্থ সংগ্রহ না হলেও পূজার সকল দ্রব্য ক্রয় করতে পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের পকেট থেকে খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন।

পূজা কমিটির সভাপতি চঞ্চলা দে ও সাধারণ সম্পাদক শিউলী রানী পাল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কালীবাড়িতে দুর্গাপূজা হচ্ছে। পাড়ার সবাই মিলেমিশে এই পূজাটি করেন। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা শুনি অধিকাংশ ছেলেরা শহরের বাইরে থাকায় পূজা নাকি হবে না। তাই আমরা পাড়ার নারীরা একদিন মন্দিরে বসি। উপস্থিত সবাই পূজা করার জন্য একমত পোষণ করেন ও উৎসাহ দেন। এর পরপরই আমরা আগের পূজা কমিটির নামেই পূজার আয়োজন শুরু করি। আগের পূজা কমিটিসহ পাড়ার সবাই আমাদেরকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।’

সার্বজনীন ভ্রাতৃ সংঘ পূজা কমিটির গেল বারের সাধারণ সম্পাদক আশিষ কান্তি দাস বলেন, ‘এবার পাড়ার নারীরা দুর্গাপূজা করতে আগ্রহী হয়েছেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকে সবধরনের সহযোগিতা করছি।’

সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর কলি তালুকদার আরতী বলেন,‘ আমাদের জানা মতে কালীবাড়ি নাট মন্দিরে নারীদের আয়োজনে দুর্গাপূজাটি সুনামগঞ্জ জেলায় প্রথম পূজা। তারা বিশেষ ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার। মূর্তি ও মণ্ডপ তারা বেশ সুন্দর করে তৈরি করেছেন। তাদেরকে সকলের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তাহলে আগামীতে কালীবাড়ির ন্যায় আরও অনেকেই পূজা করতে এগিয়ে আসবেন।’

সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সহিদুর রহমান বলেন, ‘অন্যান্য পূজা মণ্ডপের ন্যায় কালীবাড়ি নাট মন্দিরের দুর্গা পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পূজার আয়োজকদের ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে। পূজার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় থানায় তারা এসেছিলেন। যেহেতু এখানে মহিলাদের ব্যবস্থাপনায় পূজা হচ্ছে তাই তারা যদি চান এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হবে।’

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com