প্রচ্ছদ

সাইবার ট্রাইব্যুনালে রাফির ভাই: নেকাব খুলে আপত্তিকর প্রশ্ন করেন ওসি মোয়াজ্জেম

প্রকাশিত হয়েছে : ১:৫৬:২২,অপরাহ্ন ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ১৭ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে নুসরাত জাহান রাফির মা ও ভাই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বুধবার সাইবার ট্রাইব্যুনালের (বাংলাদেশ) বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন।

রাফির ছোট ভাই বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম তার রুমে আপুকে (রাফিকে) ডেকে নিয়ে তার মুখের পর্দা (নেকাব) খুলে আপত্তিকর প্রশ্ন করেছেন। এ মামলায় মা ও ভাইসহ পাঁচজনের সাক্ষ্য নেয়া হল। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

ট্রাইব্যুনালে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ২৭ মার্চ রাফিকে নিয়ে আমরা থানায় যাই। এরপর ওসি মোয়াজ্জেম রুমে তাকে (রাফি) ডেকে নেয়। সেখানে অন্যদের যেতে দেয়া হয়নি। কিছু সময় পর ওসির রুম থেকে বেরিয়ে রাফি জানায়, তার কথোপকথন কেউ ভিডিও করেছে। এর ৩০ মিনিট পর ওসি মোয়াজ্জেম সেই ভিডিও মিডিয়াতে ছেড়ে দেন।

আদালতে রাফির ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান বলেন, সোনাগাজী থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মোয়াজ্জেম তার রুমে আপুকে (রাফিকে) ডেকে নেন। এরপর ওসির রুম থেকে বেরিয়ে এসে আপু কান্না করতে থাকে। আপু বলে, ওসি মোয়াজ্জেম তার মুখের পর্দা খুলে আপত্তিকর প্রশ্ন করেছেন।

মামলা করার পর আমরা চলে আসি। ১২ এপ্রিল ফেসবুকে দেখতে পাই, আপুকে ওসি মোয়াজ্জেম আপত্তিকর প্রশ্ন করছেন। ওদিন ওসি মোয়াজ্জেম আইনি সহায়তা দিলে আপুকে আজ পরপারে (মৃত্যুবরণ) যেতে হতো না। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ সাক্ষীদের জেরা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মোয়াজ্জেমকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ফেনীতে রাফি হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু : ফেনী প্রতিনিধি জানান, সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়। এতে পিপি হাফেজ আহম্মদ ও বাদীর আইনজীবী শাহজাহান সাজু অংশ নেন।

এ মাসের শেষের দিকে মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ, একেএসএম ফরিদ আহাম্মদ হাজারী ও বাদীপক্ষের আইজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, শুরু থেকে মামলার বিচার বিলম্বিত করার সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আসামিপক্ষ। তবে মাত্র ৪০ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। রোববার সব আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং বুধবার থেকে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ নান্নু ও কামরুল হাসান এবং আহসান কবীর বেঙ্গল বলেন, পিপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা বলেন, রাফি হত্যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাজির করতে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই ব্যর্থ হয়েছে। এত অল্প সময়ে ৮৭ জনের সাক্ষ্য নেয়াও নজিরবিহীন।

গিয়াস উদ্দিন নান্নু বলেন, মৃত্যুর আগে রাফি তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে কয়জনের কথা বলেছে পিবিআই আদালতে তাদের সম্পর্কে পরিষ্কার করতে পারেনি। মনে করি এ মামলার কোনো আসামির সাজা হওয়ার মতো সাক্ষ্য-প্রমাণ মিলেনি। তিনি বলেন, এ মামলার ১২ জন আসামি পিবিআইয়ের নির্যাতনের মুখে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়েছে। এ জবানবন্দিতে কাউকে সাজা দিতে পারেন না আদালত।

বাদীর আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, ১৬ আসামির প্রত্যেকে যে রাফি হত্যায় জড়িত সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করে তা সন্দেহাতীতভাবে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আশা করছি, চলতি মাসে রায় ঘোষণা করা হতে পারে। ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ২৯ মে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পিবিআই।

চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন টুাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও রাফির ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়।

এ মামলার মোট ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের সহযোগীরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাফি মারা যান।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com