প্রচ্ছদ

গত চারশ’ বছরে রোহিঙ্গাদের মানুষ করা যায়নি

প্রকাশিত হয়েছে : ২:১৪:২০,অপরাহ্ন ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ১৯ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

জাতি হিসেবে আমরা ইস্যু প্রিয়, সেই সঙ্গে বিভক্তও বটে। যারা এই জাতিকে নিয়ে ডিভাইড এন্ড রুলস পদ্ধতিতে খেলেছে, তারা সবসময় সফল হয়েছে। তারা জানে মূল বিষয় থেকে এই জাতির দৃষ্টি সরানো কঠিন কোন কাজ নয়। যে কোন সস্তা ইস্যু সামনে তুলে দিতে পারলেই মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল হয়ে উঠবে, এই ফাঁকে শিকারিরা তাদের লক্ষ্য হাসিল করে ফেলবে।

রোহিঙ্গারা জাতিগত ভাবে মুসলিম হলেও এদের অতীত ইতিহাস ভয়ঙ্কর। গত চারশ’ বছরে তাদের মানুষ করা যায়নি। এই রোহিঙ্গারা যখন দলে দলে ঢুকে, তখন আমাদের আবেগ এতোই উথলে উঠেছিলো, প্রয়োজনে মিয়ানমারের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করলেও আপত্তি ছিলোনা। এরা ঢুকেই খুনোখুনি রাহাজানিতে মত্ত হয়ে নিজেদের আসল চরিত্র মেলে ধরেছে। এরমধ্যে বিশাল সমাবেশ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য একটা স্থায়ী হুমকি দিয়ে রাখলো। নিকট অতীতে দেশে এতো বিশাল সমাবেশ দেখিনি।

স্ট্যামফোর্ড ভার্সিটিতে একটা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বলেছিলাম- রোহিঙ্গারা কী জিনিষ এটা টের পেতে সময় লাগবেনা। সেই সময় চলে এসেছে, চীন জাপান ভারত রাশিয়া বাংলাদেশের পক্ষে কোন ভূমিকা রাখছেনা। এনজিওগুলোর ব্যবসা চলছে রমরমা, এই ফাঁকে রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক আর অস্ত্রের জমজমাট খেলা এখন ওপেন সিক্রেট। এদের সন্ত্রাসী অপতৎপরতার খবর মিডিয়ায় আশা শুরু হয়েছে। এই সংবাদ দেশের নিরাপত্তার জন্য অশনি সংকেত, আমাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। আমরা ব্যস্ত সাময়িক নানা ইস্যু আর কিছু হুজুরদের বক্তব্য ব্যঙ্গ করা নিয়ে, আফসোস।

দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার, অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার পথে বেঘোরে প্রাণ দিচ্ছে। অথচ পাঁচ লাখ ভারতীয় এদেশে বৈধ অবৈধ ভাবে কাজ করে তাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখছে। তাদের কাজ তারা করছে, এমন নির্লিপ্ত জাতি পেলে সুবিধা নেবে যে কেউ।

আমরা ব্যস্ত আমাদের নিয়ে, সাবেক আধমরা জাতি এখন ফুলমরা জাতি হওয়ার পথে ধাবিত হচ্ছে।

একটু আক্ষেপ থেকে লিখলাম, কারো বিরুদ্ধে লিখিনি, এই লেখা বাংলাদেশের পক্ষে। কিছু জিনিস মনে রাখতে হবে- আজাব গজব বিপদ বাণের পানিসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দল মত ধর্ম বর্ণ বিচার করে আসেনা। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতি যতদিন বহুধা বিভক্ত থাকবে, ততদিন পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাধীনতা ভোগ করা কোনভাবেই সম্ভব হবেনা।

জাতির বিভক্তির নেপথ্যের কুশীলবদের নজরবন্দি করার সময় এসেছে।

  • আসিফ আকবর : সংগীতশিল্পী।
  • লেখাটি আসিফ আকবরের ফেসবুক থেকে নেওয়া
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com