প্রচ্ছদ

জগন্নাথপুরে টমটম ছিনতাই করতেই খুন করা হয় চালককে

প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৩৬:৪৬,অপরাহ্ন ২৪ আগস্ট ২০১৯ | সংবাদটি ২০ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে টমটম ছিনতাই করতেই চালক সাইফুলকে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামি কাজল দেবনাথ। ভাঙ্গারীর ট্রিপের কথা বলে নিয়ে এসে হ্যামার দিয়ে মাথায় আঘাত করে টমটমটি ট্রাকে করে নিয়ে যায় কাজল ও তার সহযোগীরা।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রাগীব নুর’র  কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবান বন্দিতে মুল আসামি এসব তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) মো. মাহ্মুদুল হাসান চৌধুরী।

গত বৃহস্পতিবার সিলেটের রশিদপুর এলাকার একটি ঝোপ থেকে নিখোঁজের ১১ দিন পর সাইদুল ইসলাম (১৭) নামের টমটম চালকের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার ফান্দাউক ইউনিয়নের গোপাল দেবনাথের ছেলে কাজল দেবনাথকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাজল হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেয় সে।

কাজলের দেয়া তথ্যমতে ভিকটিম টমটম চালক সাইদুল ইসলামের ব্যবহৃত OLVIO  L-২২  মডেলের ওয়ালটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। নাসিরনগর থানার ধরমন্ডল ইউনিয়নের কালীবাড়ি গ্রাম থেকে ছিনতাইকৃত টমটমটিও উদ্ধার করা হয়।

আদালতে স্বীকারোক্তিতে কাজল দেবনাথ জানায়, গত ১১ আগস্ট ভোরে ভিকটিম সাইদুল ইসলামকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে রাসেল মিয়া (ভুয়া ) নামে পরিচয় দিয়ে ফোন করে। কাজল সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার বাগিচা বাজার হতে একটি ভাংগারীর ট্রিপ (মালামাল) জগন্নাথপুর থানার ভবের বাজার নিয়ে আসার জন্য বলে।

টমটম চালক সাইদুল ইসলাম তাদের কথামত জায়গায় আসলে ভাংগারী ব্যবসায়ী শেখ বেলালের গোডাউনে আসার পর একটি হ্যামার দিয়ে সাইদুলের মাথায় আঘাত করে কাজল। সাথে সাথে সাইদুল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর তার মৃত্যু নিশ্চিত করে গোডাউনেই টমটম চালক সাইদুলের মরদেহ লুকিয়ে রেখে কাজল। তার এক সহযোগী মিনি ট্রাকে করে টমটমটি নিয়ে যায়।
ঘটনার দুইদিন পর পর ভাংগাড়ি ব্যবসায়ী কাজলকে ফোন করে বলে তার গডাউন থেকে সাইদুলের মরদেহ সরানোর কথা বলে। কাজল তিন দিন পরে এসে টমটম চালক সাইদুলের মরদেহ গডাউন থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেয় ।

নিহত সাইদুল ইসলাম ঘটনার দিন বাসায় না ফেরায় ও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার কারণে ওই দিনই নিহতের বড় ভাই রিয়াজুল হক জগন্নাথপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। এর সূত্র ধরেই প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রযুক্তির সহায়তায় ২১ আগস্ট সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার হাতিকুড়া গ্রামের গোপাল দেবনাথের ছেলে কাজল দেবনাথকে (২৬) আটক করে পুলিশ।

আটককৃত কাজল দেবনাথকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর রশিদপুর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে নিহত সাইদুল ইসলামের বড়ভাই মো. রিয়াজুল হক বাদী হয়ে চার জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের বাউরকাপন এলাকার মৃত শফিক মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলাম। গত ১১ আগস্ট পূর্বপরিচিত রশিদপুর বাজারের নৈশপ্রহরী শরিফ মিয়ার ফোন পেয়ে টমটম গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।

সাইদুলের বড় ভাই রিয়াজুল হক বলেন, সাইদুলকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com