প্রচ্ছদ

রংপুরে পল্লীনিবাসে প্রস্তুত এরশাদের কবর

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৪০:২৩,অপরাহ্ন ১৬ জুলাই ২০১৯ | সংবাদটি ১৯ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লাশ দাফন হবে আজ। লাশ মঙ্গলবার সকালে জানাজার জন্য রংপুরে আনা হবে। জানাজার পর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে সাবেক এ সেনাপ্রধানের লাশ দাফন করার কথা রয়েছে। তবে রংপুরে এরশাদের দাফনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন সেখানকার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে এরশাদের পল্লী নিবাসের লিচু বাগানে কবরও খনন করা হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এরশাদের মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসের হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তাকে নেয়া হবে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং তাকে শেষবারের মতো দেখবেন। বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন এরশাদের জানাজায় ইমামতি করবেন রংপুর করিমিয়া নুরুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুহম্মদ ইদ্রিস আলী। তাকে সমাহিত করতে পল্লী নিবাসের লিচু বাগানে প্রস্তুত করা হয়েছে কবর। তবে দলের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা শেষে এরশাদের মরদেহ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

রংপুর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বলছেন এরশাদের অন্তিম চাওয়া ছিল তাকে রংপুরেই দাফন করা হোক। সে জন্য পল্লী নিবাসের লিচুতলায় কবর খনন করা হয়েছে। রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, জানাজা শেষে স্যারের (এরশাদ) মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পল্লী নিবাসে। সেখানে লিচুতলায় তাকে দাফন করা হবে। এ জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, এরশাদ স্যারের পল্লী নিবাসের ভেতরে গড়া পিতা মকবুল হোসেন মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতলের লিচু বাগানের উত্তরপূর্ব পাশে সমাধির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। কবর খনন করা হয়ে গেছে। এখানেই তার দাফন হবে।

সোমবার দুপুরে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ জাতীয় পার্টির এক সমন্বয়সভায় ঘোষণা দেয়া হয় এরশাদকে রংপুরেই দাফন করা হবে। যেকোনো মূল্যে তার লাশ ঢাকায় নেয়া ঠেকানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নেতাকর্মীরা।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মহানগর সভাপতি ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বেঁচে থাকতেও এরশাদকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে দেয়া হয়নি। মৃত্যুর পরও তাকে নিয়ে রাজনীতি চলছে। তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে ঢাকায় আবদ্ধ জায়গায় তাকে দাফনের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ জাতীয় পার্টি এই ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াবে।

এর ঘোষণার পরই সোমবার বিকাল ৩টায় মেয়র মোস্তফার নেতৃত্বে রংপুর জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পল্লী নিবাসে কবর খনন শুরু করা হয়। নগরীর দর্শনা মোড় এলাকার জাতীয় পার্টির কর্মী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, আশরাফ আলী ও রোকনুদ্দিন এবং বালাপাড়া এলাকার জাকির হোসেন ও সবুজ আহমেদ কবরটি পুরোপুরি প্রস্তুত করেন। এখন কবরটি প্রস্তুত রয়েছে।

রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফিউল ইসলাম শাফী বলেন, পল্লী নিবাসের লিচু বাগানটি এরশাদ স্যারের আগ্রহে তৈরি হয়েছে। তিনি নিজেই গাছ লাগিয়েছেন। রংপুর আসলেই ভোরে তিনি গাছে পানি দিতেন। পরিচর্যা করতেন। সেখানেই তিনি সমাহিত হবেন। কবর খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, এরশাদের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী তার নিজ হাতে গড়া পল্লী নিবাসে রোপিত লিচু বাগানের নিচেই হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এরশাদের লাশ যদি রংপুরে না আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তবে পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

এরশাদের কবরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে রশি টানাটানিকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ থেকে আলাদা করার এরশাদকে একটি জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় কবর দেয়ার চক্রান্ত চলছে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এরশাদ জেলে থাকা অবস্থাতেও রংপুরের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রংপুর সদর আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা গিনেস রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এদিকে কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুপুরে জানাজা শেষে এরশাদকে সামরিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। কিন্তু রংপুর জাতীয় পার্টির অনড় অবস্থানে থাকায় বিপাকে পড়েছেন কেন্দ্রের নেতারা। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সোমবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বলেন, জানাজা শেষে রংপুর জাতীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে এরশাদের দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত রোববার সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় এবং বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুরে চতুর্থ জানাজা শেষে আজ তাকে দাফন করা হবে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com