চাঁদা না দেয়ায় ওসির নির্যাতনে হোটেল মালিকের চোখ জখম!

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

চাঁদা না দেয়ায় ওসির নির্যাতনে হোটেল মালিকের চোখ জখম!

মাসিক পনের হাজার টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় একটি আবাসিক হোটেল মালিককে থানায় নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে চোখ জখম করেছেন মাদারীপুরের এক ওসি। মাদারীপুর সদর থানার ওসি সওগাতুল আলমের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন নির্যাতনের শিকার ওই হোটেল মালিক। ভুক্তভোগী ওই হোটেল মালিক বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হোটেল মালিকের দাবি, শুধু নির্যাতনই নয়; একটি সাজানো মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতারও করেছেন ওসি। পুলিশের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় উদ্বেগ্ন আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির নেতারা।

নির্যাতনের শিকার হোটেল মালিক ও একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই সোমবার রাতে মাদারীপুর পৌর শহরের আবাসিক সুমন হোটেলে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে শ্যালিকা নিয়ে রাতে থাকতে আসেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তি।

ঘটনাটি জেনে ওই রাতেই হোটেল তল্লাশি করতে আসেন মাদারীপুর পুলিশের ডিএসবি শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি দুই জনের কথায় অমিল খুঁজে পান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সিকে আটক করে পুলিশ।

হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরের দিন সকালে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম আমাকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নেন। তিনি এ সময় মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক পর্যায়ে আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওসি এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পর দিতে থাকেন। ওসির হাতের আঘাতে আমার চোখের ভেতরে রক্ত জমাট হয়ে যায়। এরপর ওসি দম্পতি পরিচয়কারী আমার হোটেলের ওই বোর্ডারকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি সাজানো মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠান। আদালত আমাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জামিন দেন। পরে চোখের আঘাত গুরুতর হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওসি মাদারীপুর সদর থানায় গত ১৭ জুলাই যোগদানের পর দুইবার আমাকে তার রুমে ডেকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। আমি তাকে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করেছি। তিনি তখন থেকেই আমার ওপর ক্ষেপে আছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।’

চোখের আঘাতের ব্যাপারে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবির হোসেন জানান, ‘চোখের আঘাত বেশি হওয়ায় রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অধিকতর চিকিৎসার জন্যে অন্যত্র যেতে পারেন। তার চোখ ও মুখে বেশ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

এদিকে হোটেলের আলোচিত ওই বোর্ডারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। থানার একজন অভিযোগ লিখছে আমি টিপ সই দিয়েছি। আমি মামলা করতে রাজি না। আর হোটেলে একজন পুলিশ পরিচয়ে আমাদের কাছে টাকা দাবি করেছে।’

হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সিকে নির্যাতনের বিষয়ে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার দেখাই হয়নি। তাকে শারীরিক নির্যাতনের প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যে তথ্য দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি অভিযোগ করায় মামলা আমলে নেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, ‘নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি ওসি নির্যাতন করে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com