ইবির নিয়োগ বোর্ড স্থগিত, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক বরখাস্ত

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০১৯

ইবির নিয়োগ বোর্ড স্থগিত, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক বরখাস্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ বোর্ড আবারও স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার ওই বিভাগের নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত যুগান্তরে ‘এবার ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি, অগ্রিম ১০’ শিরোনামে অডিও ক্লিপের কিউআর কোডসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিষয়টি আমলে নিয়ে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত দুই শিক্ষক ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমিন ও ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (থ্রিপলই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এসএম আব্দুর রহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওই দুই শিক্ষকের প্রাথমিক জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে ইবির রেজিস্ট্রার এসএম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে বিষয়টি উপস্থাপন করে তদন্ত কমিটি করা হবে বলেও জানানো হয়।

অপরদিকে বিষয়টি নিয়ে জরুরি সভা আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। শক্তিশালী তদন্ত কমিটি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সমিতি।

সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দীন ও সম্পাদক প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনিয়ে টানা তিনবার ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৭ সালের ২ এপ্রিল যুগান্তরে ‘থ্রি ফার্স্ট ক্লাসে ১৫ ফোরে ১২ লাখ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে তখন বোর্ড স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। তখনও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়ান এই শিক্ষক রুহুল আমিন।

এরপর ২০১৮ সালের ১০ জুলাই আবারও সেই বিতর্কিত নিয়োগ বোর্ড হওয়ার তারিখ নির্ধারণ হয়। ৯ জুলাই যুগান্তরে ‘তদন্ত ছাড়াই বিতর্কিত নিয়োগ বোর্ড’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশে আবারও বোর্ড স্থগিত হয়।

সর্বশেষ আবারও শুক্রবার যুগান্তরে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে আট মিনিট পয়ত্রিশ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপের কিউআর কোডসহ সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হলো।

ইবির ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘আমি রেকর্ড শুনেছি, প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ায় তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নৈতিক অবক্ষয় সম্পন্ন কারোরই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠাঁই হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স অব্যহত আছে, থাকবে। আমার মনে হয়েছে একই অপরাধে বিগত সময়ে যাদের শাস্তি হয়েছে (পদাবনতি) সেটি কম হয়েছে। আমি আরও কঠোর হচ্ছি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারা চাকরিচ্যুত হবে। অভিযুক্তরা কীভাবে নিয়োগ পেয়েছে সেটিও ক্ষতিয়ে দেখার জন্য কমিটিকে সুপারিশ করব। আমি সমূলে দুর্নীতি দমন করতে চাই।”

আর্কাইভ

মে ২০২০
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com