প্রচ্ছদ

জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা: স্বামীসহ ৪ জন রিমান্ডে

প্রকাশিত হয়েছে : ১০:১৭:৫০,অপরাহ্ন ১৯ জুন ২০১৯ | সংবাদটি ২৪ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

নরসিংদীর হাজিপুরে মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় দশম শ্রেণির ছাত্রীকে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনা আক্তারের আদালত নিহত জান্নাতির স্বামী শিপলু মিয়ার ৪ দিন ও বাকি ৩ আসামির ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ।

তিনি জানান, নিহত জান্নাতির স্বামীসহ ৪ জনকে নাটোর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নাটোর জেলার নারায়নপুর পুকুরপাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, নিহত জান্নাতির শাশুড়ি শান্তি বেগম ওরফে ফেন্সী রানী (৪৫), তার ছেলে সাব্বির আহামেদ শিপলু ওরফে শিবু (২৩), মেয়ে ফাল্গুনী বেগম (২০) ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়া (৫০)। সবাই নরসিংদী চরহাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত না করায় জান্নাতুল ফেরদৌসি ওরফে জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় শনিবার নিহতের বাবা শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, ওই দিন রাতেই ৬ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল নারায়গঞ্জের রুপগঞ্জ, গাজীপুরের টঙ্গী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে না পেয়ে নাটোর জেলায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে এজাহারভূক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান, ডিবি পুলিশের ওসি গোলাম মোস্তফা, গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্বে দেয়া এসআই নাইমুল ইসলাম মোস্তাক প্রমুখ।

জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে জান্নাতি আক্তারের (১৬) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাসেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার প্রেম হয়। কিছুদিন পরই পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন।

বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। স্ত্রী জান্নাতিকে পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে মাদক ব্যবসায়ী শাশুড়ি শান্তি বেগম ও স্বামী শিপলু তাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

এতে রাজি হয়নি জান্নাতি। যৌতুকের টাকা না দেয়াসহ মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় তার ওপর নির্যাতন চলে।

চলতি বছরের ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ও শাশুড়ি শান্তি বেগম ও তার মেয়ে ফাল্গুনী বেগম এবং স্বামী শিপলু জান্নাতির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি।

পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। ঘটনার পর ২৫ এপ্রিল নিহতের দাদা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান আদালতে মামলা করেন।

আদালত পুলিশ ব্যুরো-অব-ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু পৌনে দুই মাসেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি পিবিআই। এরই মধ্যে দীর্ঘ ৪০ দিন মৃত্যু যন্ত্রণার পর গত ৩০ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com