নিজের বিমান বিক্রি করে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাবেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত: ৩:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৯

নিজের বিমান বিক্রি করে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাবেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট

তিন বছর আগে কেনা বিমান বিক্রি করে সিদ্ধান্ত নেয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর।

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতেই তিনি নিজের ব্যবহারের জন্য কেনা বিমানটি বিক্রি করে দেবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে বিমানের কী সম্পর্ক এমন প্রশ্ন আসতেই পারে।

বিবিসি জানায়, মেক্সিকোর এখন প্রধান সমস্যা অবৈধ অভিবাসন। যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে শরণার্থী স্রোত ঠেকাতে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তিবদ্ধ হয় মেক্সিকো। আর সেই চুক্তি মানতেই বিপুল অর্থের প্রয়োজন পড়বে বলে জানা গেছে।

আর সেই অর্থ যোগান পেতেই নিজের উড়োজাহাজটি বিক্রি করে দিতে চান মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট মি. লোপেজ।

সিদ্ধান্তটি অনেক আগেই নিয়ে রেখেছিলেন মি. লোপেজ। বিষয়টি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও ছিল।

নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময়ই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্সিয়াল জেট বিক্রি করে দরিদ্র মানুষের কাজে ব্যয় করা হবে। প্রয়োজনে তিনি সাধারণ জনগণের মতো বানিজ্যিক বিমানে চড়বেন।

এবার সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন দেশটির বামপন্থী এই নেতা। সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করে মেক্সিকো।

সে চুক্তিতে লেখা রয়েছে, মেক্সিকো অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত মেক্সিকোর পণ্যসমূহে উচ্চ শুল্ক হার বসাবে না ট্রাম্প প্রশাসন।

মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। সে বিষয়টি মাথায় রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মেক্সিকোর পণ্য আমদানির ওপর ৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসাবেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন পরিকল্পনায় নড়েচড়ে বসে মেক্সিকো। গত সপ্তাহেই দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়া ঐ চুক্তির মাধ্যমে সেই শুল্ক এড়িয়েছেন মি. লোপেজ।

সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেন অভিবাসন আর না বাড়ে সেজন্য মেক্সিকোর দক্ষিণে গুয়াতেমালা সীমান্তে ৬ হাজার ন্যাশনাল গার্ড বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল (বুধবার) এক সংবাদ সম্মেলনে মি. জানান, ট্রাম্পের চুক্তি মানতে বিপুল অর্থ খরচ হবে মেক্সিকোর। তা যোগান দিতে বিমান বিক্রি করা ছাড়া উপায় দেখছেন না তিনি।

বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ২২ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে কেনা হয়েছিল বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার। যা এখন আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি মার্কিন ডলারে বিক্রি করতে চাচ্ছেন মি. লোপেজ।

বিমানটি এখন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ওয়্যারহাউজে রয়েছে। জানা গেছে, এই একটি বিমানই বিক্রি করছে না মেক্সিকো। সরকারি মালিকানাধীন ৬০টি বিমান এবং ৭০টি হেলিকপ্টারও বিক্রি করছে তারা।

তবে এই বিমান বিক্রির সিদ্ধান্তে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন মি. লোপেজ।

অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করে বলছেন, দেশের করদাতাদের অর্থে কেনা বিমান বিক্রি করে এখন অ-মেক্সিকানদের ঠেকানোর কাজে ব্যবহার করা হবে।

সিদ্ধান্তটি দেরি করে নেয়া হয়েছে মন্তব্য করে অনেকে যুক্তি দেখিয়েছেন, চুক্তি বাস্তবায়ন শুরুর হতে দেড় মাসও দেরি নেই। সে সময়ের মধ্যে এই বিমান বিক্রি সম্ভব হবে না। কারণ গত ছয় মাসেও বিমানটি বিক্রি করা যায়নি।

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com