প্রচ্ছদ

মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে : ২:৪৯:০২,অপরাহ্ন ১৩ জুন ২০১৯ | সংবাদটি ১৭ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

মেডিকেল চেকআপের জন্য হাসপাতালে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে যোগ দিয়েছেন তিনি। প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদনের জন্য এ বিশেষ বৈঠক চলছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার একটু পর অর্থমন্ত্রী রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি সংসদ চত্বরে উপস্থিত হন।

জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপনের জন্য পুরোপুরি সুস্থ, তবে তিনি কিছুটা শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করছেন বলে নিশ্চিত করেছে তার পারিবারিক সূত্র।

গাজী তৌহিদুল ইসলাম জানান, অর্থমন্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। আজ বিকালে জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি।

মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে অর্থমন্ত্রী আজ বেলা ৩টায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন জাতীয় সংসদে। ইতোমধ্যে বাজেটের সবকিছু চূড়ান্ত করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট। এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে গত পাঁচ বছরের বাজেটে তৈরির কাজে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সহযোগিতা করছেন তিনি। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি নিজেই পুরো বাজেট তৈরি করেছেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, এটি হচ্ছে ‘স্মার্ট’ বাজেট। অর্থমন্ত্রী তার জীবনের প্রথম বাজেটের শিরোনাম করেছেন ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের টানা ১০টি বাজেট থেকে কী এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে এবারের বাজেটে- এমন প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, এবারের বাজেট হবে ‘স্মার্ট’ বাজেট। এবার গতানুগতিক বাজেট হবে না। প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করা হচ্ছে এই বাজেট। বাজেট বক্তার বইও হবে সংক্ষিপ্ত।

সাবেক অর্থমন্ত্রীর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ‘অগ্রগতির ধারাবাহিকতা : সম্ভাবনাময় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১৬৩ পাতার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, উচ্চ প্রবৃদ্ধি রচনা’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১২৮ পাতার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১১৮ পাতার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বইয়ের পরিধি ছিল ১৫০ পাতার। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বইয়ের আকার ছিল ১৫৬ পাতার।

এবারের বাজেটকে কেন স্মার্ট বাজেট বলছেন, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, এবারের বাজেটের আকার বাড়লেও বাজেট বক্তৃতার বই হবে সংক্ষিপ্ত। বাজেটের লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী হলেও তা অর্জন করতে চেষ্টা থাকবে সাধ্যের মধ্যে, যা সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য হবে সহজপাঠ্য। দেড়শ-দুশ পাতার বাজেট বক্তৃতার বই নয়, এবার বাজেট বক্তৃতার বই সর্বোচ্চ ১০০ পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা চলছে। আর এর মধ্যেই থাকবে দেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকার। আমরা কাজে বিশ্বাসী।

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেট প্রণয়ন কোনো বড় কথা নয়, বাজেট বাস্তবায়নই বড় কাজ। এটিই আমার বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু এক বছরের জন্য নয়, সূদুরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে বিশেষ করে ২০৪১ সালকে টার্গেট করে তৈরি হবে এবারের বাজেট। সাধারণ মানুষের জন্যই তৈরি হচ্ছে এ বছরের বাজেট।

আ হ ম মুস্তফা কামাল ৬ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ মাসের কিছু বেশি দিনের মাথায় দিচ্ছেন এ বাজেট। এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মুস্তফা কামাল ২০১৮ সালে চতুর্থ মেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com