প্রচ্ছদ

গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের লাশ

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৫৮:১৭,অপরাহ্ন ২৩ মে ২০১৯ | সংবাদটি ৪১ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

রাজধানীর শ্যামলী থেকে অপহরণের ১২ দিন পর নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইসমাইল হোসেন জিসানের (২৪) মৃতদেহ গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের গাছা ইউনিয়নের কামারজুরি এলাকার মধ্যপাড়ার একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

জিসান রাজধানীর ইউরোপিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং পাঠাও চালাতেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তিনি পাঠাও চালিয়ে পড়ালেখার খরচ চালাতেন।

শ্যামলীর রোড নং-০২ এর ১৬/ডি বাসায় বন্ধুর সঙ্গে থাকতেন জিসান। তিনি গাজীপুর জেলার গাছা থানার কাথোরা গ্রামের সাব্বির হোসেন শহীদের ছেলে। তার মা ভাতের হোটেলের দোকান দিয়ে সংসার চালান।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হাসিবুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তিনি কামারজুরি বাজার এলাকায় খাবার হোটেলের ব্যবসা করেন এবং ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের বাসায় ভাড়া থাকেন।

গাছা থানার এসআই ফোরকান জানান, গত ১২ মে রাজধানীর শ্যামলী থেকে মোটরসাইকেলে গাজীপুরের কাথোরায় নিজ বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন ইউরোপিয়ান অব বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ইসমাইল হোসেন জিসান।

এ ঘটনায় পর দিন গাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা সাব্বির হোসেন শহীদ। এর চার দিন পর ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

ঢাকার শেরেবাংলা থানার এসআই তোফাজ্জল হোসেন জানান, থানার জিডির সূত্র ধরে তদন্তকালে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোপন সূত্রে জানা যায় এ ঘটনার সন্দেহভাজন আসামি হাসিবুল ইসলাম গাছা থানা এলাকায় অবস্থান করছেন।

পরে গাছা থানার সহযোগিতা নিয়ে কাথোরা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে হাসিবুলকে আটক এবং তার হোটেল থেকে নিখোঁজ জিসানের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে আটক হাসিবুলের স্বীকারোক্তি মতে, ওই বাসার সেপটিক ট্যাংক থেকে জিসানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শেরেবাংলা নগর থানা ওসি (অপারেশন) আহাদ আলী যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ ডায়েরি হওয়ার পর থেকে আমরা কাজ শুরু করি। যেহেতু এটি একটি অপহরণের বিষয়। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।

তার দেয়া তথ্যমতে বৃহস্পতিবার সকালে জিসানের মৃতদেহ আমরা উদ্ধার করি।

আমাদের তদন্ত চলছে; তবে কী কারণে বা কেন জিসানকে হত্যা করা হলো তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

যুগান্তর

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com