প্রচ্ছদ

‘দালাল ফোন ধরছে না, ভাইয়েরও খোঁজ পাচ্ছি না’

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:১৪:৩৭,অপরাহ্ন ১৪ মে ২০১৯ | সংবাদটি ১৪ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে সিলেটের বিয়ানীবাজারের আব্দুল হালিম সুজন, রফিক আহমদ ও রিপন আহমদ নামের তিন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আব্দুল হালিম উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের বড়উধা মাইজকাপন গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর পুত্র। এদিকে নিখোঁজ তিনজনের মধ্যে একজনের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে।

নিখোঁজ সুজনের বড়ভাই আব্দুল আলিম জানান, সুজন দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। মা-বাবাহীন পরিবারের চার ভাই ও এক বোনের সংসারের হাল ধরতে ইউরোপে যাবার স্বপ্নে বিভোর ছিল সুজন। পার্শ্ববর্তী মৌলভী বাজারের বড়লেখা উপজেলার গোয়ালি এলাকার শাহিন আহমদ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার এলাকার পারভেজ আহমদ নামের এক দালালের সাথে ৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রায় ১ বছর পূর্বে ইতালি যাবার জন্য চুক্তি হয়েছিল। দীর্ঘদিন লিবিয়াতে অবস্থান করার পর গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) সমুদ্র পথে ইতালি যাবার জন্য ট্রলারে চড়ে। ট্রলারে চড়ার পূর্বে সুজন বাড়িতে সর্বশেষ যোগাযোগ করেছে বলে জানান সুজনের বড়ভাই আব্দুল আলিম। নৌকাডুবির ঘটনা জানার পর থেকে আমার পরিবার-পরিজনদের মধ্যে দু:সংবাদের শঙ্কা কাজ করছে।

ট্রলারে চড়ার পর থেকে এখনো বাড়িতে সে যোগাযোগ করেনি। ভাইয়ের খোঁজ নেয়ার জন্য পরে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনার খোঁজ নিতে দালালের সাথে সর্বশেষ যোগাযোগ করলে দালাল জানান, আমরা সুজনকে ইতালিগামি ট্রলারে তুলে দিয়েছি। তবে এখন সে পৌছে কি না জানার জন্য দুই দালালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাদের সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

আব্দুল আলিম বলেন, দালাল ফোন ধরছে না। ভাইয়েরও খোঁজ পাচ্ছি না। এ অবস্থায় পরিবারের সবাই খুব দুশ্চিন্তায় আছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১০ মে) সকালে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া সমুদ্র উপকূলে শতাধিক অভিবাসী বহন করা নৌকাটি ডুবে গেলে প্রায় ৬০ জন নিহত হয়েছেন। স্বপ্নের ইউরোপে পাড়ি জমাতে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জের চার ও গোলাপগঞ্জের দুই তরুণের প্রাণহানি ঘটেছে। বেঁচে যাওয়া লোকজন তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টকে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লিবিয়ার উপকূল থেকে ৭৫ জন অভিবাসী একটি বঢ় নৌকায় করে ইতালির উদ্দেশে রওয়ানা হন। তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মঙ্গি স্মিতকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রাবারের তৈরি ‘ইনফ্লেটেবেল’ নৌকাটি ১০ মিনিটের মধ্যে ডুবে যায়। তিউনিসিয়ার জেলেরা ১৬ জনকে উদ্ধার করে শনিবার সকালে জারযিজ শহরের তীরে নিয়ে আসে। উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের ১৪ জনই বাংলাদেশি।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com