প্রচ্ছদ

তৃতীয় তারাবিতে পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ

প্রকাশিত হয়েছে : ৪:২৩:০৩,অপরাহ্ন ০৮ মে ২০১৯ | সংবাদটি ৪২ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

আজ তৃতীয় তারাবিতে সুরা আল ইমরানের দশম রুকুর শুরু থেকে সুরার শেষ রুকু পর্যন্ত, ৯২ থেকে ২০০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। সঙ্গে সুরা নিসার প্রথম রুকু থেকে ১১তম রুকুর পুরো অংশ, ১ থেকে ৮৭ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে চার পারা থেকে শুরু করে পাঁচ পারার প্রথমার্ধ।

৩. আল ইমরান: ৯১-২০০

১০ম ও ১১তম রুকু। ১ থেকে ১০৯ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আহলে কিতাব ও মোমিনদের সম্বোধন করা হয়েছে। উভয়কে মৌলিক উপদেশ ও পথ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এই দুই রুকুতে। পছন্দের জিনিস কোরবান না করা পর্যন্ত কেউ-ই আল্লাহর প্রিয় হতে পারবে না এই বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তার পর আহলে কিতাবের আলেমদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে- তারা যেন জেনেশুনে সত্য গোপন না করে। কোরআন এসেছে পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোর সত্যায়ন করতে। তা ছাড়া পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের নির্দেশ ডিঙিয়ে ইহুদি ও খ্রিষ্টান আলেমরা সাধারণ মানুষের জন্য যা যা নিষেধ করে রেখেছিল, কোরআন এসে ওগুলোকে বৈধ করে দিয়েছে।

পৃথিবীতে বিশ্বাসীদের রাজ কায়েম করতে হলে এবং খুব দ্রুত সফল হতে চাইলে অবশ্যই বিশ্বাসীদের একটি সংঘ থাকা প্রয়োজন। যে সংঘের অধীনে তারা নিজেদের এবং মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবে।

তার পর আল্লাহতায়ালা বলেছেন, এই দুনিয়ায় যেমন কেউ সফল হলে তার চেহারায় আনন্দের চিহ্ন ফুটে ওঠে এবং ব্যর্থ হলে লজ্জায় চেহারা কালো হয়ে যায়। তেমনি কেয়ামতের দিনও মানুষের একই অবস্থা হবে। বিশ্বাসীদের চেহারা থাকবে হাস্যোজ্জ্বল। আর অবিশ্বাসীদের চেহারা অপমান-হতাশা আর লজ্জায় ছেয়ে যাবে।

১২তম রুকু।১১০ থেকে ১২০ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বিশ্বাসীদের গুরুত্বপূর্ণ একটি হেদায়াত করেছেন। বলেছেন- হে বিশ্বাসীরা! তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। তোমরা মানুষের কল্যাণ করবে এবং পৃথিবীবাসীর নেতৃত্ব দেবে। পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, ওদের মধ্যে কিছু খাঁটি বিশ্বাসী আছে ঠিক, তবে তাদের বেশিরভাগই সত্য থেকে দূরে। তারা তোমাদের কষ্ট দিতে চায়। কিন্তু তাদের না আছে মনের জোর, না আছে গায়ের জোর। তাই প্রকৃত বিশ্বাসীদের মোকাবেলায় তারা কখনই সফল হবে না। তারা যদি কোনো ভালো কাজ করে থাকে, তবে তার প্রতিদান আল্লাহ দেবেন। কিন্তু প্রকৃত বিশ্বাসী কখনই কপট এবং অবিশ্বাসীকে বন্ধু বলে গ্রহণ করতে পারে না। এতে করে নিজেকেই বিপদে ফেলা হয়।

১৩তম রুকু। ১২১ থেকে ১২৯ নম্বর আয়াতে বদর যুদ্ধের আলোচনা করা হয়েছে। অল্পসংখ্যক বিশ্বাসীকে আল্লাহতায়ালা কীভাবে আসমান থেকে ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করেছেন এবং কীভাবে বিশ্বাসীদের দুর্বল মনকে চাঙ্গা করেছেন সে কথা বলা হয়েছে এখানে। অবিশ্বাসীরা যেন হতাশায় কালো অন্ধকারে ডুবে যায় এবং লাঞ্ছনার গভীর গর্তে পড়ে যায়- মূলত এ জন্যই বিশ্বাসীদের হাতকে শক্তিশালী করেছেন মহাক্ষমতাধর আল্লাহপাক। আকাশ ও পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক আল্লাহর জন্য এটা খুবই সহজ।

১৪তম রুকু।১৩০ থেকে ১৪৩ নম্বর আয়াতে খাঁটি বিশ্বাসীদের গুণাবলি আলোচনা করা হয়েছে। তারা সুদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না। আল্লাহ এবং তার রাসুলকে মেনে চলে। সচ্ছল-অসচ্ছল সবসময়ই দান করে। রাগ নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। তারা হতাশ হয় না। এসবই বিশ্বাসীদের জন্য সুখের জীবন এবং শান্তির জান্নাত অপেক্ষা করছে। তবে হ্যাঁ! জান্নাত লাভ করতে চাইলে অক্লান্ত পরিশ্রম করেই সাফল্যের চূড়ায় উঠতে হবে।

১৫ থেকে ১৮তম রুকু। ১৪৪ থেকে ১৮০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত ওহুদ যুদ্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মাঝে মাঝে কাফেরদের পক্ষ থেকে ওঠা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা ও মোমিন বাহিনীর প্রশংসা করা হয়েছে।

১৯তম রুকু। ১৮১ থেকে ১৮৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সম্পর্কে কাফেরদের বিভিন্ন ধারণা ও প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে। মোমিন বাহিনীকে বারবার পরীক্ষা করা হবে এ কথাও বলা হয়েছে।

২০তম তথা শেষ রুকু। ১৯০ থেকে ২০০ নম্বর আয়াতে উপসংহারস্বরূপ কিছু হেদায়াতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিশ্বাসীরা আল্লাহর সৃষ্টি রাজ্য নিয়ে ভাবে এবং সবসময় জিকির ও প্রশংসাকীর্তনে লিপ্ত থাকে। পরস্পর ধৈর্য ধারণ করতে হবে, আল্লাহভিরুতার জীবনযাপন করতে হবে। তবেই মোমিনের জীবনে সফলতা ধরা দেবে বলে সুরার ইতি টানা হয়েছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com