প্রচ্ছদ

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির খসড়া চূড়ান্ত

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৩২:৩৮,অপরাহ্ন ০৮ মে ২০১৯ | সংবাদটি ৭৫ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে খাতভিত্তিক বরাদ্দে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে পরিবহন খাত।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও পরিকল্পনা কমিশনের এক বৈঠকে এ খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

চূড়ান্ত খসড়াটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা এডিপির সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আগামী অর্থবছরেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। নতুন এডিপিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা সচিব মো. নুরুল আমিন আগামী অর্থবছরের খসড়ার আকার তুলে ধরেন। এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এডিপি পর্যালোচনায় বলা হয়, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পর্যন্ত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৫৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ সময়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ৯৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের জন্য খাতভিত্তিক বরাদ্দের খসড়ায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে পরিহন খাতে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

এ ছাড়া অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ।

এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতের বরাদ্দ হচ্ছে, শিক্ষার প্রসার ও গুণগতমান বাড়াতে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ তথ্যপ্রযুক্তি প্রসারে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬১৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

নদীভাঙন রোধ ও নদীর ব্যবস্থাপনার জন্য পানিসম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে গতিশীলতা আনয়নের জন্য জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হচ্ছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com