প্রচ্ছদ

জৈন্তাপুরের সেই শিশুকে হত্যা করেন বাবা, আদালতে স্বীকারোক্তি

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:১৫:৫৬,অপরাহ্ন ২১ এপ্রিল ২০১৯ | সংবাদটি ৪৩ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ জৈন্তাপুরের সেই শিশুকে হত্যা করেন বাবা দেলোয়ার। আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ১১মাস বয়সী সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করায় ১৬৪ধারায় দেলোয়ারের বক্তব্য রেকর্ডের জন্য আজ আদালতে হাজির করা হয় তাকে।

এর আগে জৈন্তাপুর উপজেলার ফিসারী থেকে উদ্ধার হওয়া ১১মাসের নিহত শিশু মুরসালিনের হত্যাকারী পিতাকে লক্ষীপুর জেলা শাকচর থেকে আটক করে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (২০ এপ্রিল) জৈন্তাপুর মডেল থানায় শিশুর মা বিলকিছ বেগমের করা মামলার প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রাতেই লক্ষীপুর জেলা শাকচর থেকে শিশুর পিতা দেলোয়ার হোসেন কে আটক পুলিশ। আটককৃত দেলোয়ার কে রাতের মধ্যেই সিলেটের জৈন্তাপুর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের শিশু হত্যার দায় স্বীকার করে দেলোয়ার।

রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য রেকর্ডের জন্য বিশেষ নিরাপত্তায় তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ জানায়, জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোঃ মইনুল জাকিরের সার্বিক নির্দেশনায় এস.আই মো. আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ২০ তারিখ রাতে নোয়াখালীর লক্ষীপুর থেকে দেলোয়ারকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের শিশু হত্যার দায় স্বীকার করে সে।

এবিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. মইনুল জাকির বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক পিতাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ১১মাস বয়সী সন্তানকে হত্যার দায় স্বীকার করায় ১৬৪ধারায় আসামীর বক্তব্য রেকর্ডের জন্য আদালতে হাজির করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ১০ টায় জৈন্তাপুর উপজেলা ফতেপুর ইউনিয়নের সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাখিটিখি নামক স্থানে ফিসারী থেকে এই শিশুর (ছেলে) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট হওয়ার পর বেরিয়ে আসে শিশুর পরিচয়। সংবাদ পেয়ে শিশুটির মা বিলকিছ বেগম ছুটে যায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে। সেখানে উদ্ধার হওয়া শিশুটি নিজের শিশু বলে সনাক্ত করেন তিনি।

শিশু মুরসালিনের মা বিলকিছ বেগম জানান, তারা লক্ষীপুর জেলার লক্ষীপুর থানার শাকচর গ্রামের বাসিন্ধা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ৩ মাস পূর্বে বাকবিতন্ডা হয় এবং বিষয়টি এক পর্যায় মীমাংশা হয়। তবে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) হঠাৎ করে বিলকিছ বেগমের স্বামী ১১মাস বয়সী মুরসালিনকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়। বিষয়টি শিশুর মা বিলকিছ বেগম লক্ষীপুর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে জানান। ১৯ এপ্রিল দুপুরে প্রতিবেশি মারফত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুর ছবি দেখতে পান। পরে তিনি স্বামী দেলোয়ারের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার দায়ে মামলা করেন। মামলা দায়ের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই দেলোয়ারের গ্রামের বাড়ী শাকচর থেকে আটক করা হয়।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com