প্রচ্ছদ

শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদের প্রচার বন্ধ করছে ফেসবুক

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৫৬:৩৪,অপরাহ্ন ২৮ মার্চ ২০১৯ | সংবাদটি ৫২ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

এ মাসের মাঝামাঝি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদ এবং লিনউড মসজিদে এক শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫০ জন মানুষ। আহত হয়েছিলেন ৪২জন।

আর মসজিদে চালানো তাণ্ডব ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছিল হামলাকারী। যদিও সেসময় তাৎক্ষনিকভাবে লক্ষ লক্ষ ভিডিও ডিলিট করেছে বলে দাবী করেছে ফেসবুক।

এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ওঠা নিন্দা আর প্রতিবাদের মুখে এবার ফেসবুক জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদের ‘স্তুতি বা প্রশংসা, সমর্থন এবং প্রতিনিধিত্বমূলক’ কোন ধরণের পোষ্টই আর এ মাধ্যমে শেয়ার করা যাবে না।

বুধবার এক ব্লগ পোষ্ট দিয়ে ফেসবুক জানিয়েছে, ‘সুশীল সমাজ এবং একাডেমিকদের সঙ্গে তিন মাস আলোচনার পর সংস্থাটি বুঝতে পেরেছে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদকে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ ও সংগঠিত ‘হেট ক্রাইমে’র থেকে আলাদা করা যাবে না।

এছাড়া যেকোন জঙ্গি মতাদর্শ প্রচারে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি চিহ্নিত এবং ব্লক করার ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কর্তাব্যক্তিরা।

এ ধরণের জিনিসপত্র ফেসবুকে যারা সার্চ করবেন তাদের তথ্য সরাসরি উগ্র জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এমন সংস্থার কাছে পাঠানো হবে।

আগে কেন অনুমতি দেয়া হতো?

এর আগে ফেসবুক শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের কিছু কর্মকাণ্ড, যেসব জিনিসপত্রকে তারা বর্ণবাদী বলে মনে করেনি, তা চালানোর অনুমতি দিয়েছিল।

এর মধ্যে শ্বেতাঙ্গদের জন্য আলাদা জাতিরাষ্ট্রের দাবি সম্বলিত প্রচারণাও ছিল। এ বিষয়ে ফেসবুক একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে।

“এটা আমেরিকানদের নিজেদের নিয়ে গর্ব এবং বাস্কদের বিচ্ছিন্নতাবাদের মত ব্যপার, যাকে আমরা সেখানকার মানুষের নিজেদের পরিচয়ের জরুরী অংশ বলে মনে করি।”

ফলে প্রতিজন ব্যবহারকারীর নিজের পরিচয়কে সম্মান জানানোর জন্য সেগুলো বন্ধ করা হতো না বলে জানিয়েছে ফেসবুক।

‘শুধু পোষ্টম্যান নয়’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে জঙ্গি মতাদর্শ প্রচারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাতে ব্যবহার না করা হয়, সেজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব নেতাদের অনেকেই।

নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডান বলেছেন, এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছিল ‘প্রকাশক, শুধু পোষ্টম্যান বা বার্তাবাহক না’।

এর আগে ফেসবুক জানিয়েছিল, মসজিদে হামলার ঘটনার ভিডিওটি মুছে ফেলার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ লাখ ভিডিও ব্লক করেছে এবং তিন লক্ষ ভিডিও ডিলিট করেছে।

কিন্তু তার আগেই অন্য যেকোন ভিডিওর চেয়ে চার হাজার গুন বেশি মানুষ সেটি দেখেছে।

এদিকে, ফরাসী মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গ্রুপ ঐ ফুটেজ ব্যবহারের জন্য ফেসবুক এবং ইউটিউবের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করছে।

ফেসবুকের সঙ্গে এখন অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এমন সহিংস জিনিস সম্প্রচার বন্ধের ব্যপারে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com