প্রচ্ছদ

বাহুবল উপজেলা নির্বাচনে ‘গরিবের’ বিজয়

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৩৪:২৮,অপরাহ্ন ১১ মার্চ ২০১৯ | সংবাদটি ৪৪ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

রোববার ৫ম বারের মত অনুষ্ঠিত হয়েছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের নৌকাপ্রার্থীর বিরুদ্ধে ঘোড়া মার্কা নিয়ে সৈয়দ খলিলুর রহমান ২৩ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

এ বিজয়কে বাহুবলবাসী ‘গরিবের জয়’ বলে আখ্যায়িত করছেন। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল হাই নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬০৬ ভোট। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দু’বারের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির চৌধুরী আনারস প্রতীক নিয়ে ১০ হাজার ৪৫৭ ভোট পান।

উল্লেখ্য, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাচিত সৈয়দ খলিলুর রহমান একই গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। মানুষ এক সময় চাচার চেয়ে ভাতিজাকেই মূল্যায়ন করে চেয়ারম্যান পদে আসীন করেন। কিন্তু এবার বাহুবলবাসী মুরুব্বীর মর্যাদা রক্ষা করে নজির স্থাপন করলেন। মানুষ চায় সব সময় পরিবর্তন। শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার পরিবর্তন। সৈয়দ খলিলের বিজয়ের পথে ছিল এমনই অঙ্গীকার।

এখন অঙ্গীকার রক্ষার প্রচেষ্টা। সৈয়দ খলিল প্রমাণ করেছেন যে কোন নির্বাচন করতে টাকা মুখ্য নয়। টাকা বিহীনই নির্বাচন সম্ভব। প্রয়োজন নির্বাচক বা মানুষের ভালবাসা। সৈয়দ খলিল এমনটা করতে পেরেছেন। তিনি জীবনের সিংহভাগই ব্যয় করেছেন মানুষের সেবায়, অর্থ শেষ করেছেন নির্বাচন করে করেই। কিন্তু এবারের নির্বাচন তার টাকাবিহীন নির্বাচন। ‘মানুষ পারে’ কথা এটাই। এবার সৈয়দ খলিলকে প্রমাণ করতেই হবে যা বলেছি তা করবোই। ব্যর্থতাও নির্বাচক বা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

বাহুবল উপজেলার ৬১ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সুষ্টুভাবে সম্পন্ন হলেও বড়ইউড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহুবল সদর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কিছুটা জাল ভোট পড়েছে। মৃত বা বিদেশ আছেন এমন লোকদের ভোটও হয়েছে। বাহুবল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার পক্ষে জাল ভোট দিতে এসে ৩ জনকে এজেন্টরা হাতে নাতে পাকড়াও করলেও দস্তাধস্তি করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। রামপুর চা বাগান অফিসে ঘোড়া প্রতিকে বেশি ভোট পড়ছে খবর পেয়ে ৫শ ব্যালট চিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়।

সর্বশেষ ফলাফল ঘোষনার সময় উপজেলা পরিষদ ভাঙচুর সহ ঘোড়া প্রতিকের কর্মীদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালানো হয়। তবুও সৈয়দ খলিল প্রতিবাদ করেননি।

মিরপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার পশ্চিম জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা রুবেল সরকার জানান, সৈয়দ খলিল সাহেবের কোন এজেন্ট নেই। টাকার অভাবে কোন এজেন্ট দিতে পারেননি খবর পেয়ে আমরা ভোট কেন্দ্র পাহারা দিয়েছি এবং এ সেন্টারে লিড করেছেন গরিবের বন্ধু খলিল সাব।

বড়ইউড়ি কেন্দ্রে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর নজরদারির কারণে পরে শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওরা সবাই সরকার দলীয় লোক। সার্বিকভাবে বাহুবল উপজেলার নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের পূর্বে উপজেলা নির্বহী অফিসার মোঃ জসীম উদ্দিন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের আশ্বাস দিয়েছিলেন সাংবাদিকদের কাছে। তা রক্ষাও করেছেন তিনি।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com