প্রচ্ছদ

ডা. আকাশের আত্মহত্যার বিষয়ে আলেমদের পর্যালোচনা

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:০৪:২২,অপরাহ্ন ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | সংবাদটি ৫৭ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

স্ত্রীর সঙ্গে রাগ করে চট্রগ্রামের ডা. আকাশের আত্মহত্যার বিষয়টি এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। একাধিক পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর দিনের পর দিন অবৈধ সম্পর্কে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। যন্ত্রণা এতটা প্রকট হয়ে উঠেছিল যে, শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে পাপের পথ থেকে ফেরাতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তরুণ সম্ভাবনাময়ী এ চিকিৎসক।

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে দেয়া ‍দুটি স্ট্যাটাসে স্ত্রী তানজিলা হক মিতুর উদ্দেশে ফেসবুকে শেষ স্ট্যাটাস দেন ডা. আকাশ। তাতে সাতটি শব্দ ছিল। যার প্রতিটি বর্ণে ছিল স্ত্রীর বেহায়পনার প্রতি ডা. আকাশের ঘৃণা ও ধিক্কার।

স্ট্যাটাসটি ছিল এ রকম- ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা, তোমার প্রেমিকদের নিয়ে’। এ স্ট্যাটাস দিয়েই শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন ডা. আকাশ।

অতি আধুনিকতার নামে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনই এখন পারিবারিক সম্পর্কগুলো ভেঙে দিচ্ছে। ধর্মীয় অনুশাসন অমাণ্য করা এসব সামাজিক সংকটের অন্যতম কারণ। বিষয়টি ফুটে ওঠেছে ডা. আকাশের স্ট্যাটাসেও।

স্ত্রীর প্রতি অভিমানী ডা. আকাশ লেখেন- ‘আমার শাশুড়ি দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হতো।

কথা হল আত্মহত্যাই কি আকাশের শেষ অবলম্বন ছিল?

এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও তেজঁগাও মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ যুগান্তরকে বলেন, স্ত্রীর অপকর্মগুলো জানার পর ডা. আকাশ স্ত্রীকে শরীয়াহ মোতাবেক তালাক দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি আত্মহত্যা করলেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর অপরাধ। আত্মহত্যার মাধ্যমে তার নিজের ক্ষতি হয়েছে শুধু তা নয়, তার পরিবারও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রাষ্ট্রও একজন চিকিৎসক হারিয়েছে। এ জন্য দাম্পত্য কলহ অসহনীয় হয়ে গেলে তখন তালাকের সুযোগ ইসলামে রয়েছে। আত্মহত্যা বা নির্যাতন কোনো সমাধান নয়।

বিবাহের মোহর ও তালাক প্রসঙ্গে ড. মুশতাক আহমদ বলেন, ‘বিবাহ যেহেতু মানবজীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ, তাই ইসলামে বিবাহের বিষয়টি খুবই সহজ করা হয়েছে। বিবাহের খরচসহ যাবতীয় বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা মেনে চললে সামাজিক বিশৃঙ্খলা এতোটা প্রকট হতো না। ’

বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে ডা. আকাশের বিয়ের দিনমোহর নির্ধারিত হয়েছিল ৩৫ লাখ টাকা। তালাক দিলে যা পরিশোধ করতে হত। মোটা অংকের এ টাকার জন্য তিনি স্ত্রী মিতুকে হয়তো তালাক দেননি। এমন কথাও উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

মোটা অংকের মোহর

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার রিসার্চ ফেলো ও শায়খ আবুল হাসান আলী নদভী ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে যত সামাজিক সমস্যা হচ্ছে, এর মূল কারণ দেখলে স্পষ্ট হয় যে, শরিয়তের নির্দেশনা অমান্য করার কারণেই নানাধরণের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ডা. আকাশ দম্পতির এ মর্মান্তিক ঘটনা এখন আমাদের সামনে রয়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবন যখন অসহনীয় হয়ে গেল, তালাকই ছিল সুন্দর সমাধান। কিন্তু মোটা অংকের মোহর এখানে বড় একটি বাধা সৃষ্টি করেছে।’

দেনমোহরের পরিমাণ কেমন হওয়া উচিত?

প্রখ্যাত এ আলেমে দ্বীন বলেন, মোহরের ক্ষেত্রেও আমরা দেখি যে শরীয়তের নির্দেশনা মানা হয়নি। ইসলামে মোহরের ক্ষেত্রে যে সুন্দর নির্দেশনা রয়েছে, অনেক বড় অঙ্কের মোহর ধার্য করা যেমন শরীয়তে কাম্য নয়, তেমনই তা একেবারে তুচ্ছ ও সামান্য হওয়াও উচিত নয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরামের সাধারণ রীতি এ ক্ষেত্রে উত্তম আদর্শ।’

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com