প্রচ্ছদ

সিলেটে এক বছরে ৩৪ খুন

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৪৪:২৩,অপরাহ্ন ১১ জানুয়ারি ২০১৯ | সংবাদটি ২৫ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

ছাত্রদল নেতা শিমু হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে সিলেটে শুরু হয়েছিলো ২০১৮ সাল। বছরের প্রথম দিনই নগরীর বন্দর বাজারে অভ্যন্তরীন বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে খুন করা হয়িছেলা তাকে। আর বিদায়ী বছর শেষ হয় ২৭ ডিসেম্বর শহরতলির বাদাঘাটে নৌকার লিফলেট বিতরণের সময় প্রবাসী হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে। এর ভিতরে সারা বছরজুড়ে মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা এলাকার ঘটে ৩৪ টি হত্যাকাণ্ড।

গত বছর ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের ২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় দুই পক্ষের আধিপত্য নিয়ে বিরোধে নিজ দলের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক ছাত্রদল নেতা কাজী মেরাজ গ্রুপের নেতা আবু হাসনাত শিমু।

শিমু হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া বছরে ছাত্রলীগ কর্মী হোসাইন আল জাহিদ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজুসহ একাধিক রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। উপশহরে নিজ দলের কর্মীদের হাতে খুন হওয়া হোসাইন আল জাহিদ ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজু হত্যাকাণ্ড ছিলো বছর জুড়ে আলোচনায়।

২০১৮ সালের ১১ আগস্ট রাতে নগরীর কুমারপাড়ায় নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বাসার সামনে বিজয় উল্লাস চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলার খুন হন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজু। এ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রকিব চৌধুরীসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে কতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন রাজুর চাচা দবির আলী।

রাজু হত্যাকাণ্ডের এ রেশ থামতে না থামতেই আরো একটি লাশ দেখে নগরবাসী। ২৫ অক্টোবর নগরীর উপশহরে নিজ দলের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন সীমান্তিক স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ কর্মী হুসাইন আল জাহিদ। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার হলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫জনকে আসামী করে শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদের গ্রুপকে দায়ী করা হয়।

সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের পক্ষে নৌকা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ কালে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন বাদাঘাটের নলখড় গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েত প্রবাসী কায়সার আহমদ। এ হত্যাকান্ডের পর হামলাকারীর সাথে তার পূর্ব বিরোধের বিষয়টিও পরবর্তীতে আলোচনায় আসে।

রাজনৈতিক এসব হত্যাকাণ্ড ছাড়াও ২০১৮ সাল জুড়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানার আওতায় আরো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যার ৩০টি সাধারণ এবং ১ টি দাঙ্গার সময় মৃত্যু বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে সিলেটে হত্যাকান্ডের ঘটনা কমেছে দাবি করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তা ও পূর্ববর্তী হত্যাকাণ্ডের আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনাসহ নানা কারণে সিলেটে হত্যাকাণ্ড অনেকাংশে কমেছে।

২০১৮ সালজুড়ে জমিজমা, পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত বিরোধ, কথাকাটাকাটিসহ নানা কারণে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছিলো আলোচনায়।

তবে মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেছেন, আগামীতে এ সংখ্যা আরো কমে আসবে। কারণ অপরাধী যে হোক, যে কোন ধরণের হত্যাকাণ্ড হোক তাঁকে আইনের আওতায় আনতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সব সময় সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে। তবে কিছু কিছু মামলায় আসামিরা পলাতক থাকলেও তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com