প্রচ্ছদ

ভিকারুননিসার শিক্ষকরা জরুরি বৈঠকে

প্রকাশিত হয়েছে : ১:৪৭:৩৮,অপরাহ্ন ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

স্কুলে ডেকে নিয়ে নিজের সামনে বাবা-মাকে অপমানের ধকল সইতে না পেরে নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর (১৫) আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকরা।

এদিকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের এই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার দুপুরে অরিত্রির আত্মহননের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তাল দেশের অন্যতম সেরা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

আটক শিক্ষকের মুক্তি ও নতুন কাউকে গ্রেফতার না করা-এসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বৈঠকে।

জানা গেছে, দুই শতাধিক শিক্ষক বৈঠকে উপস্থিত আছেন। বেইলি রোডে প্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসে এ বৈঠক চলছে। আজিমপুর, বসুন্ধরা ও ধানমন্ডি শাখার শিক্ষকরাও বৈঠকে যোগ দেবেন।

বিভিন্ন শাখা মিলে এ প্রতিষ্ঠানে আট শতাধিক শিক্ষক রয়েছেন।

খুরশিদ জাহান মালা নামের এক শিক্ষক বলছেন, আমরা নানভাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দ্বারা লাঞ্ছিত হচ্ছি। আমরা শিক্ষার্থীদের মানুষ করি অথচ আমাদের হত্যাকারী বলে ধিক্কার দেয়া হচ্ছে। ঘর-সংসার রেখে আমরা শিক্ষার্থীদের মানুষ করার দায়িত্ব পালন করি।

অরিত্রির বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের অভিযোগ এনেছিল। এজন্য অরিত্রির মা-বাবাকে ডেকে নেন ভিকারুননিসার প্রিন্সিপাল।

তাদের ডেকে মেয়ের সামনেই অপমান করে বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে অরিত্রিকে নকলের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হবে। এ অপমান সইতে না পেরে বাসায় এসে অরিত্রি আত্মহত্যা করে।

আত্মহত্যার কিছুক্ষণ আগে সে তার মাকে জানায়, ‘মা এ লজ্জা নিয়ে বাঁচতে চাই না।’ তার ছোট বোনও একই স্কুলে পড়ে।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শান্তিনগরে সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় নিজ ফ্ল্যাটের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রিকে পাওয়া যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকরা অরিত্রিকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে।

অরিত্রির বাবা দিলীপ কুমার একজন সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com