প্রচ্ছদ

বগুড়া পাসপোর্টের এডিকে কুপিয়ে জখম: যুবলীগ নেতাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশিত হয়েছে : ৮:২৫:১৫,অপরাহ্ন ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সাবেক সহকারী পরিচালক (এডি) শাজাহান কবিরকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় চার্জশিট হয়েছে। এতে শহর যুবলীগের দফতর সম্পাদক ও বগুড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোস্তাকিম রহমান, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আদিলসহ যুবলীগের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কমিটির ২৩ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই জুলহাজ উদ্দিন তদন্ত শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন।

চার্জশিটভুক্তরা হলেন, বগুড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, শহর যুবলীগের দফতর সম্পাদক মোস্তাকিম রহমান, অর্থবিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া আদিল, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান জীবন, ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের প্রচার সম্পাদক রাসেল মিয়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ জনি, যুবলীগ কর্মী শান্ত বেপারি, শহর যুবলীগের সদস্য কাফি, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সীমান্ত ও শহিদুল ইসলাম এবং শহর যুবলীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক আজমিরে খোদা নোমান।

তদন্তে পাওয়া ১২ জন হলেন, মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ার হাবিবুর রহমান রনি ও খড়ি শুভ, চককানপাড়ার নুর আরাফাত শুভ ও নূর মোকাদ্দি অনু, মালগ্রাম চাপড়পাড়ার নবিন ও মোহাম্মদ মনির, সূত্রাপুরের মফিজ উদ্দিন লেনের আদনান হোসেন, খান্দার বিলের পাড়ার বেলাল হোসেন ও মিলু মণ্ডল, কাটনারপাড়ার সোহাগ হোসেন, ঠনঠনিয়া হাড়িপাড়ার হারুন অর রশিদ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রনি।

এজাহার ও অন্যান্য সূত্র জানায়, বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হচ্ছিল না। এডি শাজাহান কবির যোগদান করার পরপরই অফিসটি দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করেন। কার্যালয় চত্বরে একটি অভিযোগ বক্স রাখেন। এতে দালাল চক্রটি ক্ষুব্ধ হয়। গত ২৮ মার্চ যুবলীগ নেতা মোস্তাকিম রহমানের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা অফিসে ঢুকে এডিকে হুমকি-ধামকি দেয়।

পরদিন ২৯ মার্চ দুপুরে তিনি (এডি) শহরের খান্দার এলাকার অফিস থেকে রিকশায় শাকপালা বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন। কৈগাড়ি বিভাগীয় বন কার্যালয়ের সামনে পৌঁছলে মোটরবাইকে আসা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত দুর্বৃত্তরা তার ওপর চড়াও হয়। তিনি প্রাণভয়ে বন কার্যালয়ের একটি কক্ষে প্রবেশ করলে সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।

তার চিৎকারে পাশের মসজিদ থেকে মুসল্লিরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী শাজেনুর রহমান ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

এ হামলার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে বগুড়া পুলিশ হিলি সীমান্ত থেকে মোস্তাকিম রহমানসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মোস্তাকিম রহমানকে কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করলে তিনি পদ ফিরে পান।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই জুলহাজ উদ্দিন জানান, এজাহারে ১১ জনের নাম থাকলেও তদন্তে আরও ১২ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। তাই ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার ৯ জনের মধ্যে হাবিবুর রহমান রনি আদালতে ও মোস্তাকিমসহ অন্যরা পুলিশের কাছে হামলার কথা স্বীকার করে।

তিনি আরও জানান, অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। চার্জশিট প্রসঙ্গে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মোস্তাকিম রহমান সাংবাদিকদের জানান, ওই হামলার সাথে তিনি বা তার কোনো সহযোগী জড়িত ছিলেন না। আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com