প্রচ্ছদ

আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় ৩০ পুলিশ নিহত

প্রকাশিত হয়েছে : ৮:১৯:০৫,অপরাহ্ন ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | সংবাদটি ৫ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

আফগানিস্তানের একটি পুলিশি চৌকিতে রাতভর তালেবানদের একের পর এক হামলায় ৩০ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় ফারাহ প্রদেশে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা।

বিগত কয়েক মাসে প্রায় নিয়মিত হয়ে তালেবান হামলাগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে নৃশংস বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় অর্ধেক আফগানিস্তান দখলে রাখা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি অবশ্য এখনও সাম্প্রতিক হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে গত দুই সপ্তাহে গজনি প্রদেশের দুই জেলাতেও তালেবানের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত জোরালো হয়েছে। বিগত কয়েক দিনে সেখানে একশোরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক আইন প্রণেতা।

সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবান হামলা এতই নিয়মিত হয়ে পড়েছে যে কর্তৃপক্ষ আর আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা জানানোর আগ্রহ দেখায় না। তবে অনানুষ্ঠানিক সূত্রগুলোর ধারণা দেশটিতে প্রতিদিনই বিভিন্ন হামলায় কমপক্ষে ৪৫ জন নিরাপত্তা কর্মী হতাহত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে ফারাহ প্রদেশের প্রাদেশিক কাউন্সিল সদস্য দাদুল্লাহ কানি জানিয়েছেন, বুধবার রাতের দিকে খাকি সফেদ জেলার ওই পুলিশি তল্লাশি চৌকিতে হামলা শুরু হয়ে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে।

কাবুলে আইন প্রণেতা সামিউল্লাহ সামিম বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, নিহত ৩০ পুলিশের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পুলিশ সদস্য ছিলেন। ওই হামলায় জেলা পুলিশ কমান্ডার আবদুল জব্বারসহ তল্লাশি চৌকিতে মোতায়েন পুলিশ সদস্যরা নিহত হন।

তিনি জানান, এই হামলার জবাবে চালানো বিমান হামলায় ১৭ তালেবান সদস্য নিহত হলেও বিদ্রোহীরা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহে গজনি প্রদেশের দুই জেলাতে তালেবানদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর লড়াইও তীব্র হয়েছে। গজনির আইন প্রণেতা মোহাম্মদ আরিফ রহমানি বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, এই লড়াইয়ে কমপক্ষে ১০০ নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এই লড়াইয়ের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। ওই আইন প্রণেতা জানিয়েছেন, বাস্তুচ্যুতদের বেশিরভাগই শিয়া মতালম্বী ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর হাজারো সদস্য।

তিনি জানান, দেশের মোট ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে বর্তমানে ২২টিতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী।

১৭ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধ বিগত কয়েক বছরে বেসামরিক মানুষের জন্য ক্রমবর্ধমান হারে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের শুরুতে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয় ২০০৯ সালে সংস্থার হিসাব রাখা শুরুর পর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্বাধীন আফগানিস্তান বিশ্লেষক নেটওয়ার্ক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসের প্রতিদিনই আফগান সংঘাতে গড়ে দুই শিশুসহ নয় জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আফগান যুদ্ধ অবসানে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের উদ্যোগের পাশাপাশি সম্প্রতি তালেবান প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রাশিয়ার আয়োজিত একটি বৈঠকেও অংশ নিয়েছে তারা। তবে তাতে অবশ্য এখন পর্যন্ত উল্লেখ যোগ্য অগ্রগতি আসেনি।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com