প্রচ্ছদ

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

প্রকাশিত হয়েছে : ১:১২:৪৫,অপরাহ্ন ১৯ আগস্ট ২০১৮ | সংবাদটি ৩৭ বার পঠিত

সিলেটেরকন্ঠডটকম

সৌদি আরবের মিনায় মুসল্লিদের জড়ো হওয়ার মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় মক্কা থেকে মিনায় আস্তে আস্তে যাত্রা শুরু করেন মুসল্লিরা। ইসলামের পঞ্চম রুকন পবিত্র হজব্রত পালন করতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২০ লাখের বেশি হাজি ইতোমধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

‘হজ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ইচ্ছা করা’। এটি ইসলাম ধর্মের পাঁচ স্তম্ভের একটি। পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে রোববার সারাদিন তারা সেখানেই অবস্থান করবেন। সেখান থেকে তারা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। সৌদি আরবে ৯ জিলহজ অর্থাৎ আগামীকাল সোমবার হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

আগামীকাল ২০শে আগস্ট সোমবার মিনা ও আরাফাতের অবস্থানের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের অন্যতম ইবাদত পবিত্র হজ পালিত হবে। হজের খুতবা শোনা, এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। সন্ধ্যায় তারা মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন।

সৌদি হজ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের ১৫০টি দেশের ২০ লক্ষাধিক মুসল্লি হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব এসেছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের এক লাখের বেশি মুসল্লি রয়েছেন। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে ১২ তারিখে। গতকাল রাতে এশার নামাজের পর মুসল্লিরা মক্কার মসজিদ আল হারাম থেকে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে মিনায় যান। সেখানে সারাদিন অবস্থানের পর তালবিয়া পাঠ করে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় তারা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন।

হজে এসে অসুস্থতার জন্য যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে স্বল্প সময়ের জন্য নেওয়া হবে। অন্যরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত-বন্দেগি করবেন। মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা পাঠ করা হবে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দৃশ্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

‘লাব্বায়েক, আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বায়েক, ইন্নাল হামদা ওয়ানিন’ মাতা লাকা ওয়ালমুলক’- এই ধ্বনিতে ওইদিন মুখর হবে আরাফাতের ময়দান। সাদা ইহরাম বাঁধা অবস্থায় লাখ লাখ হাজির পাদচারণায় আরাফাতের ময়দান পরিণত হবে শুভ্রতার সমুদ্রে।

১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর জামারায় পাথর নিক্ষেপের জন্য রওনা দেবেন তারা। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার আগেই জামারাতুল আকাবায় (বড় শয়তান) সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা হবে। পাথর নিক্ষেপের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তারা পশু কোরবানি দেবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে সূর্য হেলে পড়ার পর প্রতিদিন ছোট, মধ্য ও বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ করে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে তারা মিনা ত্যাগ করবেন।

এদিকে, হাজিদের নির্বিঘ্নে হজ পালনের জন্য সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন হাজীরা। কয়েকটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির প্রতারণায় মক্কায় এসে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি হজ্ব যাত্রী। প্রতারক এজেন্সির বিরুদ্ধে মক্কা বাংলাদেশ মিশনে অভিযোগ করেছেন তারা। বিভিন্ন সমস্যার কারণে এজেন্সির একজন প্রতিনিধিকেও গ্রেপ্তার করেছে সৌদি পুলিশ। এদিকে অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার পর্যন্ত ৪৬ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে।

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com