প্রচ্ছদ

ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলো ছাত্রলীগ

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৫৩:১৬,অপরাহ্ন ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | সংবাদটি 0 বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগ। আহত শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র এহসান রফিক।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে মঙ্গলবার রাতভর তাকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের নির্দেশে মারধর করে তারই কক্ষে বুধবার দিনভর আটকে রাখা হয়। পরে বিকালে তিনি হল থেকে পালিয়ে আসেন।

আহত এহসান জানায়, মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ওমর ফারুক প্রায় তিন মাস আগে তার কাছ থেকে ক্যালকুলেটর ধার নেয়। এহসান ওমর ফারুকের কাছে প্রায়ই ক্যালকুলেটর ফেরত চাইতো। কিন্তু ওমর ফারুক ক্যালকুলেটর পরে দিয়ে দিবে বলে জানাতো।

মঙ্গলবার রাতে ওমর ফারুকের কাছে এহসান ক্যালকুলেটর দাবি করলে ওমর ফারুক তাকে মারধর করে। পরে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আরিফের (আইইআর) মাধ্যমে এহসানকে টিভি রুমে ডেকে নেন ওমর ফারুক। এসময় টিভিরুমে উপস্থিত ছিলেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি তানিম (আইইআর) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিম ইরতিজা শোভন (উর্দু) ও আবু তাহের (পপুলেশন সাইন্স)।

তারা এহসানকে শিবির অপবাদ দিয়ে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চেক করেন। কিন্তু তারা ফেসবুকে কিছুই না পেয়ে জোরপূর্বক শিবির স্বীকারোক্তি আদায়ে তাকে বেদম মারধর করেন। তারা মৌখিকভাবে এহসানকে হল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে হল গেটে বের করে দেয়।

সেখানে আরেকধাপ ছাত্রলীগের হল শাখার সহ সম্পাদক ওমর ফারুক ও রুহুল আমিন, সদস্য সামিউল ইসলাম সামী, আহসান উল্লাহ, উপ-সম্পাদক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে রড, লঠি সোটা দিয়ে বেদম মারধর করা হয় এহসানকে। মরধরের এক পর্যায়ে এহসান জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে আরিফ রাত সাড়ে ৩টায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফের হলে নিয়ে এসে শাখা সভাপতি তাহসান আহমেদের (১৬ নম্বর) কক্ষে আটকে রাখা হয় এহসানকে। সেখানে তাকে তথ্য না প্রকাশের জন্য হুমকি দেয়া হয়। সকালে এহসানের অবস্থা খারাপ হলে তাকে আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে হলে এনে একই কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে হল থেকে পালিয়ে আসে এহসান।

আহত এহসানের বাবা রফিকুল ইসলাম এসে তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ দেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এহসানের চোখের কর্ণিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবাকে তার সন্তানকে এভাবে নির্যাতিত হতে দেখতে না হয়।

এ বিষয়ে হল শাখা সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, ক্যালকুলেটর নিয়ে মারধর করা হয়েছে। যারা মারধর করেছে তাদেরকে হল থেকে বের করে দিয়েছি।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারর্দার বলেন, বিষয়টি জানি না। আমি দেখতেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি দেখবো।

বিষয়টি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, অভিযোগ সত্য হলে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।