শনিবার, ০৩ ফেব্রু ২০১৮ ১১:০২ ঘণ্টা

জাবিতে যেখানে সেখানে আগুন

Share Button

জাবিতে যেখানে সেখানে আগুন

জাবিতে যত্রতত্র আগুন দিয়ে ঝোপ-জঙ্গল পুড়িয়ে ফেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, সুইমিং পুলের পার্শ্ববর্তী এলাকা, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকা, মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন কিছু এলাকাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ করে ঝোপঝাড় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

অপ্রয়োজনে আগুন দিয়ে বুনো পাখি ও কীটপতঙ্গের বিচরণস্থল ধ্বংস করা হচ্ছে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে অতিথি পাখির বিচরণস্থল লেকগুলোও দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রার ভবনসংলগ্ন লেকের পার্শ্ববর্তী ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়, ঢিল ছোড়া , উচ্চশব্দে ঢোল-ভেঁপু বাজানো, গাড়ির হর্ন বাজানোসহ বিভিন্ন কারণে দুটি লেকের অতিথি পাখি চলে গেছে।

আগুন দিয়ে ঝোপঝাড় পুড়িয়ে ফেলায় কমেছে সুইমিং পুলসংলগ্ন লেকের অতিথি পাখিও। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ঝাড়ুদার ও বহিরাগত দর্শনার্থীরা বেশির ভাগ সময় আগুন দিয়ে থাকেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন সময় এমনটি করে থাকেন। প্রতি বছর শীতের শেষ দিকে এভাবে ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সুইমিং পুলের পাশের শুকনো ঘাস ও ঝোপে অগ্নিসংযোগ করলে সেখান থেকে অতিথি পাখি চলে যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তোলপাড় শুরু হলেও ক্যাম্পাসে অগ্নিসংযোগ বন্ধ থাকেনি। এরপরও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগ করতে দেখা গেছে। ক্যাম্পাসে ঝোপঝাড় কেটে ফেলা ও বন পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান জানান, ‘লেকের ধারের ঝোপঝাড় কেটে ফেলা ও বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের কারণে অতিথি পাখি কমেছে। এতে ঝোপঝাড়ে থাকা উপকারী কীটপতঙ্গ ও বাস্তুসংস্থান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’বিষয়টি নিয়ে এস্টেট বিভাগ ও নিরাপত্তা বিভাগ পরস্পরকে দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এছাড়া প্রতিবছর এমনটি চলতে থাকলে একসময় ক্যাম্পাসে অতিথি পাখি আসবে না বলেও তিনি মনে করেন।

বিষয়টি এস্টেট বিভাগের আওতাধীন থাকলেও এস্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন যুগান্তরকে বলেন,‘ বিষয়টি নিরাপত্তা বিভাগের আওতায়। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে অগ্নিসংযোগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তী সময়ে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিবে।’