প্রচ্ছদ

জেলাভিত্তিক ইজতেমা নিয়ে কাকরাইলে বিভক্তি

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৪০:২১,অপরাহ্ন ২৭ জানুয়ারি ২০১৮ | সংবাদটি ২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বীদের মধ্যে যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছিলো, এর প্রভাব পড়েছে জেলাভিত্তিক ইজতেমাগুলোতেও। এ সপ্তাহে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও মৌলভীবাজার জেলার ইজতেমা চলছে। দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ইজতেমাগুলোতে অংশ নিয়েছেন কাকরাইলের মুরব্বীরা।

কাকরাইল মসজিদে পরামর্শের ভিত্তিতে জেলাপর্যায়ে অনুষ্ঠিত ইজতেমাগুলোতে মুরব্বীরা অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু এসব ইজতেমার ব্যাপারে কাকরাইল এবার কোনো পরামর্শও হয়নি। এর মধ্য দিয়ে তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশের মুরব্বীদের বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠলো।

কাকরাইল মসজিদ সূত্রে জানা যায়, প্রতি মঙ্গলবার বিকেলে কাকরাইল মসজিদে শুরা সদস্যদের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সবার উপস্থিতিতে সব বিষয়ে মতামত ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার কাকরাইলের নির্ধারিত পরামর্শ সভায় বাধা দেয় মাওলানা সাদ বিরোধী আলমী শুরার লোকজন।

এ সপ্তাহের জিম্মাদার খান সাহাবুদ্দীন নাসিমসহ তাবলিগের দায়িত্বশীলরা আসরের নামাজের পর পরামর্শের জন্য বসতে চাইলে উত্তরার ডা. আসগরসহ কয়েকশো মানুষ হট্টোগোল বাধিয়ে দেয়। কোনধরনের পরামর্শ হবে না। এমন কথা বলে তারা কয়েকজন শুরা সদস্য ও মাওলানা সাদের অনুসারীদের উপর হামলা চালায়।

শুরা সদস্য খান সাহাবুদ্দীন নাসিম, প্রফেসর ইউনুস শিকদার এ সময় হেনস্তার শিকার হন। মোহাম্মদপুর কবরস্থান মসজিদ-মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জোবায়ের ও ভিক্টোরিয়া পার্ক মসজিদের ইমাম আমানুল্লাহ কয়েকশো মাদ্রাসা ছাত্র নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাকরাইল মসজিদ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলো।

মাগরিবের সময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এসব বিষয়ে সমাধান ও জেলাভিত্তিক ইজতেমা নিয়ে পরামর্শ সভা আহবানের জন্য গত বুধবার কাকরাইলের প্রভাবশালী শুরা সদস্য মাওলানা জুবায়েরের নিকট যান আরেক শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম।

মাওলানা জুবায়ের আলমীশুরার অনুগত অন্য শুরাদের পরামর্শের জন্য আহবান করলেও তারা এ সময় আসেননি। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও মৌলভীবাজারের ইজতেমায় কারা কারা যাবে, তা সিদ্ধান্তহীন থেকে যাওয়ায় উভয় পক্ষই আলাদাভাবে ইজতেমাগুলোতে অংশ নেয়।

কাকরাইলের শুরাদের এমন পরিস্থিতির জন্য হেফাজত ও বেফাক নেতৃবৃন্দের চাপই মূল কারণ বলে মনে করছেন তাবলীগের বিভিন্ন দায়িত্বশীলগণ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাকরাইল মসজিদের একজন মুকিম জানান, “আমাদের মুরব্বীগণ মতপার্থক্য সত্বেও একসঙ্গে চলতেন। সব বিষয়ে পরামর্শ হতো। এমন বিভক্তি কখনো ছিলো না।

ইজতেমা কেন্দ্রীক উদ্ভুত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হেফাজত ও বেফাকের কয়েকজন নেতা এখন তাবলিগ জামাত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে তারা হেফাজতের নেতাদের দিয়ে কাকরাইলে চিঠি পাঠাচ্ছেন। মাওলানা সাদ ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে তারা আলমী শুরার অনুগত মুরব্বীদের চাপে রাখছেন। যার কারণে এখন কাকরাইলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে চট্রগ্রাম, বরিশাল ও মৌলভীবাজার জেলার ইজতেমা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে মাওলানা জুবায়েরের নেতৃত্বে কয়েকজন মুরব্বী অংশ নিয়েছেন। মাওলানা সাদের অনুসারী কাউকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

বরিশালের ইজতেমায় বাংলাদেশে তাবলীগের প্রথম আমির মাওলানা আবদুল আজিজের ছেলে মাওলানা আবদুল হামিদ মাসূমের নেতৃত্বে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অংশগ্রহণ করে। এ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন কাকরাইলের মাওলানা মাহমুদুল্লাহ, বিদেশি তাশকীলের আবদুল আউয়াল, ডা. আমিনুল ইসলাম ও হারুন।

মৌলভীবাজার জেলা ইজতেমায় উভয়পক্ষের প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে। মাওলানা সাদ অনুগতরা কাকরাইল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মুনির বিন ইউসুফের নেতৃত্বে রয়েছেন। আর আলমী শুরার অনুগতরা মাওলানা ফারুকের নেতৃত্বে রয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলা ইজতেমায় উভয়পক্ষ। আলাদাভাবে গেলেও সেখানে একত্রে কাজ করছেন।